বাংলা থিয়েটার ও টেলিভিশনের জগতে পরিচিত মুখ সপ্তর্ষি মৌলিক বহুদিন ধরেই দর্শকদের নজরে রয়েছেন তাঁর অভিনয় দক্ষতার জন্য। মঞ্চনাটক থেকে ছোটপর্দা, সব জায়গাতেই তিনি নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে চলেছেন। বিশেষ করে বিখ্যাত নাট্যদল নান্দীকার-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি একাধিক উল্লেখযোগ্য প্রযোজনায় কাজ করেছেন। পাশাপাশি জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক এক্কা দোক্কা-তে ‘পোখরাজ’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
ব্যক্তিগত জীবনে সপ্তর্ষি সমানভাবে আলোচিত। তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্তর সঙ্গে ২০১৩ সালে। তাঁদের সম্পর্ক বাংলা থিয়েটার জগতের অন্যতম চর্চিত দম্পতিদের মধ্যে পড়ে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সোহিনীর বাবা রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত নিজেও একজন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব, যা এই পরিবারকে আরও বেশি সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। পেশা ও ব্যক্তিগত জীবন দুটো ক্ষেত্রেই এই দম্পতির বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সম্মান বহুবার আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সপ্তর্ষি তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “প্রেম” শব্দটি তাঁর কাছে খুবই গভীর এবং ভারী একটি বিষয়। তিনি বলেন, যদি তিনি দাবি করেন যে তাঁর কোনও মেয়েকে ভালো লাগে না, তাহলে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যে হবে। তাঁর মতে, সুন্দর জিনিসের প্রতি আকর্ষণ থাকা খুবই স্বাভাবিক। তবে তিনি ‘সুন্দর’-এর সংজ্ঞাকে একেবারেই অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
অভিনেতার কথায়, সৌন্দর্য মানেই বাহ্যিক রূপ অর্থাৎ ফর্সা বা লম্বা হওয়া, এই ধারণায় তিনি বিশ্বাসী নন। বরং তিনি মনে করেন, আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে মানুষের ভেতরে, তার ব্যক্তিত্বে, তার আত্মায়। তিনি বলেছেন, এমন একজন মানুষের সঙ্গেই তাঁর ভালো লাগা তৈরি হয়, যার সঙ্গে কথা বলে মানসিক সংযোগ অনুভব করা যায়। অর্থাৎ, তাঁর কাছে ‘সুন্দর’ মানে এমন একজন মানুষ, যার আত্মা সুন্দর এবং যার উপস্থিতি স্বস্তিদায়ক।
একইসঙ্গে তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। সপ্তর্ষি জানিয়েছেন, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ থাকা একেবারেই স্বাভাবিক এবং তা অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই। তিনি স্বীকার করেছেন, একজন পুরুষ হিসেবে কোনও মহিলাকে ভালো লাগা খুবই স্বাভাবিক অনুভূতি। তবে এই ভালো লাগার মধ্যেও তিনি সবসময় সম্মানকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর কথায়, জীবনে যত মহিলার সঙ্গে তিনি মিশেছেন তা ফ্যান হোক বা পরিচিত কেউ সব ক্ষেত্রেই তিনি যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও মর্যাদা বজায় রেখেছেন।
আরও পড়ুনঃ পরিচালকের ‘চুমু’ কাণ্ডে শুটিং ফ্লোরে তোলপাড়! ক্যামেরা চলাকালীন বেসামাল হয়ে বারবার ঠোঁটে ঠোঁট, অস্ব’স্তিকর পরিস্থিতিতে লজ্জায় মুখ লুকিয়ে সেট ছাড়তে বাধ্য হলেন নায়িকা! হতবাক পুরো টিম, গোপন রাখার চেষ্টা করেও ফাঁস পরিচালকের কীর্তি?
তিনি আরও বলেন, এমনকি যখন তিনি কাউকে আলিঙ্গন করেছেন, তখনও সেই স্পর্শে কখনও অসম্মান বা অস্বস্তির ছাপ ছিল না। বরং তা ছিল সম্পূর্ণ সম্মানের জায়গা থেকে। অভিনেতা আশা প্রকাশ করেছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁর এই ধরনের মেলামেশা হয়েছে, তাঁরাও নিশ্চয়ই সেই সম্মানটুকু অনুভব করেছেন। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট সম্পর্ক, আকর্ষণ বা ভালো লাগা যাই হোক না কেন, তার ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিকতা।






