পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফা বিধানসভার আগে, তারকা ভোটার গায়িকা ইমন চক্রবর্তীকে সংবাদ মাধ্যমের তরফে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হয়। তাঁর উত্তরগুলোতে রাজনীতি, সমাজ এবং সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সাংবাদিকরা তাঁকে কিছু সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, তার মধ্যে ছিল, তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান, ভোটের ক্ষেত্রে দল না প্রার্থী নির্বাচন করবেন, এবং নানা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইমন জানান, তিনি এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী চান, যিনি সকল ধর্ম, জাত, বা দলের উর্ধ্বে উঠে জনগণের জন্য কাজ করবেন।
তাঁর মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রীকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যেন তিনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেন এবং সকলের জন্য অন্ন, বস্ত্র, এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমন প্রার্থীকে দেখতে গুরুত্ব দেন, কারণ তার মতে, গত কয়েক বছরে তিনি প্রার্থীর যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি দেখে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া আরও কঠোর এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রার্থীকে প্রস্তুত করা উচিত। রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন নিয়ে ইমন আরও বলেন, তাঁর মতে, বিধায়ক নির্বাচিত হলে তিনি রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে বাংলা গানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য কাজ করবেন।
তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেডিও, এফএম চ্যানেল, শপিং মল, এবং মেট্রো স্টেশনগুলিতে বাংলা গানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি বাংলা সংস্কৃতিকে আরও প্রচার করতে চান। তিনি এই বিষয়ে বলেন, “বাংলা গান আমাদের ঐতিহ্য, এবং এটি সকলের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে সংস্কৃতির প্রসার হবে।” প্রশ্ন করা হয়েছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত করতে কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? ইমন মনে করেন, শুধু শিক্ষা ব্যবস্থা নয়, মননের পরিবর্তনও প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ডিগ্রি অর্জন করলেই শিক্ষা শেষ হয় না, সমাজের মধ্যে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য মনোভাবেরও পরিবর্তন হতে হবে।”
এছাড়া, দলবদল প্রসঙ্গে ইমন বলেন, যে ব্যক্তি দলের পরিবর্তন করে জনগণের জন্য কাজ করেন, তাকে বিচার না করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, জনসাধারণ যদি ভালো পরিষেবা পায়, তাহলে দল পরিবর্তন নিয়ে বেশি আলোচনা না করাই উচিত। ভোট প্রচারে তারকার উপস্থিতি নিয়ে ইমন বলেন, “রাজনীতিতে যে তারকা জনপ্রিয়, তারা সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারেন, তবে তাদেরও নিজের ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা জরুরি, কারণ প্রতিযোগিতা ছাড়া কোনো ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব নয়।
শেষে, তিনি সমাজের উন্নতির জন্য ভাতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন, তবে তা শুধু তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য কার্যকর হতে পারে। তাঁর মতে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার ভাতা পেয়ে উপকৃত হচ্ছে, যা সমাজের উন্নতির একটি দিক। ইমন তার পছন্দের রাজনীতিবিদ সম্পর্কে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক সরকার ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর প্রিয়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। ইমন বলেন, “মমতা দিদি এখনো যেভাবে খাটছেন, তাঁর পরিশ্রম এবং সংকল্প অবিশ্বাস্য।” ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে তিনি বিশেষভাবে সম্মান করেন।
আরও পড়ুনঃ “এটা কোনও দুর্ঘ’টনা নয়…বছরের পর বছর ভান করা সম্ভব নয়” সাফল্যের শিখরে থেকেও এমন সাধারণ জীবনযাপন বজায় রাখতে সাহস লাগে! অরিজিৎ সিংয়ের জন্মদিনে, মাটির সঙ্গে আঁকড়ে জীবনযাপনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কৌশিকী চক্রবর্তী!
কারণ তাঁর আতিথেয়তা ও জনকল্যাণের মনোভাব ইমনের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে। বুদ্ধবাবুর সঙ্গে কখনও দেখা না হলেও, তিনি তাঁর নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, তারকা রাজনীতি নিয়ে ইমন বলেন, “ভোট টানার জন্য তারকাদের প্রয়োজন থাকলেও, তাদেরও নিজেদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীর মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বড় তারকা। সাধারণ মানুষ তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হন এবং তাদের উপর ভরসা রাখেন।”






“ঠাঠাপোড়া গরমে শাল আর সানগ্লাস পরে নৌকায় ছবি তুলছে গজেন্দ্র” নরেন্দ্র মোদীর গঙ্গাবিহারকে ‘প্র্যাকটিকালি ড্রামা’ বলে কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাল’ আখ্যা দিয়ে বিতর্কে ঋত্বিক চক্রবর্তী! সমাজ মাধ্যমে অভিনেতাকে ঘিরে নিন্দার ঝড়!