“ঠাঠাপোড়া গরমে শাল আর সানগ্লাস পরে নৌকায় ছবি তুলছে গজেন্দ্র” নরেন্দ্র মোদীর গঙ্গাবিহারকে ‘প্র্যাকটিকালি ড্রামা’ বলে কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাল’ আখ্যা দিয়ে বিতর্কে ঋত্বিক চক্রবর্তী! সমাজ মাধ্যমে অভিনেতাকে ঘিরে নিন্দার ঝড়!

গরমে শাল পরা, সানগ্লাস আর হাতে ক্যামেরা— গতকাল নরেন্দ্র মোদির গঙ্গাবিহার নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় চলছে আলোচনা আর বিদ্রূপ। গত শুক্রবার সকালে গঙ্গায় নৌকাভ্রমণে বের হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই নৌকাবিহারের ছবি যখন সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। মোদির পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা, চোখে সানগ্লাস এবং গায়ে শাল। এই ছবি দেখেই প্রশ্ন উঠতে থাকে, এই তীব্র গরমে শাল কেন পরলেন প্রধানমন্ত্রী? সোশাল মিডিয়ায় কিছুক্ষণে ভাইরাল হয়ে যায় তার এই ছবি, এবং নানা রকম ট্রোল আর মিম তৈরি হতে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী তার এক্স হ্যান্ডেলে গঙ্গাবিহারের ছবি শেয়ার করার সময় লিখেছেন, “প্রত্যেক বাঙালির কাছে গঙ্গা নদী এক বিশেষ জায়গা অধিকার করে আছে। বাংলার আত্মার সঙ্গেও যেন জড়িয়ে রয়েছে এই নদী। আজ সকালে কলকাতায় থাকাকালীন, আমি কিছুটা সময় কাটালাম হুগলি নদীতে। মা গঙ্গাকে প্রণাম জানানো ছাড়াও, মাঝি এবং প্রাতভ্রমণকারীদের সঙ্গে দেখা হল, শুভেচ্ছা বিনিময় হল। তাদের কঠোর পরিশ্রম দেখে আমি মুগ্ধ।” এমনকি, তিনি বলেন, “এই নদী আমাকে বাংলা এবং বাংলার মানুষের জন্য কাজ করার আরও অনুপ্রেরণা দিয়েছে।” মোদির এই গঙ্গাবিহারের মুহূর্তে ভক্তরা যেমন তার প্রশংসা করছেন, তেমনই অনেকেই কটাক্ষ করছেন।

গরমে এমন একটি ভারী শাল কেন পরা হলো, সে বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। আর এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। মোদির শাল পরা এবং নৌকায় বসে ছবি তোলার দৃশ্যকে সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। ঋত্বিক তাঁর সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “ঠাঠাপোড়া গরমে নদীতে নৌকায় বসে ছবি তুলছেন গজেন্দ্র! কিন্তু কস্টিউম যিনি করেছেন, তিনি এই তীব্র গরমে ওঁর গায়ে একটা শাল আর ফটোগ্রাফি করার সময় চোখে সানগ্লাস দিয়ে বুঝিয়েছেন প্র‍্যাক্টিকালি ড্রামা চলছে।” ঋত্বিক আরও যোগ করেন, “শুধু অভিনেতা একা একটা সিনকে উতরে দিতে পারে না, সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এমনকী দর্শকেরও।” ঋত্বিকের এই মন্তব্যে নেটপাড়ায় আলোচনা শুরু হয়ে যায়। একদিকে কিছু মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানাচ্ছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ ঋত্বিকের এই মন্তব্যকে মজা হিসেবে গ্রহণ করছেন। ঋত্বিকের সোশাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে বাঙালি রাজনীতি এবং সেলিব্রিটিদের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তার মন্তব্যে হাস্যরস খুঁজে পেলে, আবার অনেকে এটিকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আক্রমণ হিসেবে দেখছেন। যেমন, একজন বলেছেন যে ‘জুম করে দেখুন ওটা শাল নয়, পাতলা চাদর’। উত্তরে অভিনেতা বলেন, ‘আপনি ওই মাল কে জুম করে দেখেন!? আমি অত বেরসিক নই’

আরও পড়ুনঃ “সাধারণ মানুষ দেখে, পরিষেবা মিলছে কি না বা কোন দল দিচ্ছে” “আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় তারকা মোদী এবং মমতা, এই বয়সেও মমতা দিদির পরিশ্রম অবিশ্বাস্য” রাজ্যে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের প্রাক্কালে, খোলামেলা আলোচনায় ইমন চক্রবর্তী! ভাতায় সমাজের উন্নতি নিয়ে কী বললেন গায়িকা?

ঋত্বিকের এই ধরনের বিদ্রুপী পোস্ট নতুন নয়, তার আগেও তিনি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। মোদির গঙ্গাবিহার এবং ঋত্বিকের কটাক্ষের পর, বাংলার রাজনীতি আবারও সোশাল মিডিয়ায় উত্তাল হয়ে ওঠে। মোদি তার কর্মসূচি থেকে সময় বের করে, গঙ্গাবক্ষে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা জানালেও, তাঁর গায়ে শাল এবং সেই শাল পরার কারণ নিয়ে বিস্তর আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ঋত্বিকের পোস্টের পর, তাঁর শাসক শ্রেণীর প্রতি বিদ্রুপ একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। এখন দেখার, এই বিতর্ক কি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে।

You cannot copy content of this page