“নারীদের জন্য অসম্মানজনক, ওই গান আর গাইব না” নিজের মুখে বলেও ফের অনুষ্ঠানে ‘চিকনি চামেলি’ গাইতেই ট্রোলিংয়ের শিকার শ্রেয়া ঘোষাল! গায়িকাকে সমর্থন জানিয়ে কটাক্ষকারীদের কী কঠোর বার্তা পৌষালী ও লগ্নজিতার?

কখনো কখনো নিজের মুখে বলা কথায় ভবিষ্যতে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। ঠিক একইভাবে সম্প্রতি শ্রেয়া ঘোষালকে (Shreya Ghoshal) ‘চিকনি চামেলি’ গাইতে দেখে শুরু হয় নিন্দা ও ট্রোলিং। কিছুদিন আগে এক পডকাস্টে শ্রেয়া বলেছিলেন, তিনি আর এমন গান করবেন না যা মহিলাদের জন্য অসম্মানজনক। তবে, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি ফের সেই গানটি গাইলে একদল প্রশ্ন তোলেন, “শ্রেয়া ঘোষাল কেন এমন গান গাইলেন, যখন নিজেই বলেছিলেন আর করবেন না?” এর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় কটাক্ষ। কেউ আবার পোশাক নিয়ে বলেন, “সুনিধি চৌহানের মতো হওয়ার চেষ্টা।”

কিন্তু শ্রেয়া এসব মন্তব্যের পরোয়া করেননি। প্রসঙ্গত, শ্রেয়া ঘোষাল নিজে একসময় মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘চিকনি চামেলি’-এর মতো গান আর রেকর্ড করবেন না, কারণ তার কথা মহিলাদের জন্য অবমাননাকর। তবে, এই গানটি তো তার কেরিয়ারের এক বিশাল হিট এবং অনেকেই আজও তা শুনতে চান। তাই, যখন শ্রেয়াকে এই গান গাইতে অনুরোধ করা হয়, তখন কি তিনি তা অস্বীকার করতে পারেন? এমনটাই মত, গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীর। তিনি আরও মনে করেন, “এটা শ্রেয়ার পছন্দ, এবং শো-তে গানটি গাওয়া তাঁর শ্রোতাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানানো।”

এদিকে, পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই পরিস্থিতিতে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে শিল্পীকে নিয়ে কথা বলাটা ঠিক নয়। শ্রেয়া ঘোষাল তার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবং দর্শকদের অনুরোধ রাখাটাই তো এক শিল্পীর কাজ।” তিনি আরও জানান, “মানুষের জীবন বয়সের সাথে পরিবর্তিত হয় এবং আমরা কখন কী করতে চাই, তা আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়।” এতে তার বক্তব্য স্পষ্ট, শিল্পীদের ব্যক্তিগত পছন্দে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

ওদিকে আবার, শ্রেয়ার পোশাক এবং তার নাচ নিয়েও কিছু মানুষের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন। লগ্নজিতা এই বিষয়টি নিয়ে বলেন, “কিছু মানুষ কেবল ট্রোল করার জন্যই প্রস্তুত থাকে। তাদের মন্তব্যকে এড়িয়ে চলাই উত্তম।” তার মতে, যারা শ্রেয়ার পোশাক নিয়ে কথা বলছেন, তারা নিজেদের রুচির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পায়। “শিল্পী যখন মঞ্চে উঠে গান করেন, তখন পোশাক নিয়ে ভাবতে সময় থাকে না। তাদের মাথায় থাকে কিভাবে শ্রোতাদের আনন্দ দেওয়া যায়,” বলেন লগ্নজিতা।

আরও পড়ুনঃ “শুনলাম দেব করবে, আশা করছি…” নতুন সঞ্চালককে নিয়ে দাদার প্রতিক্রিয়া! পারিশ্রমিক নিয়ে অসন্তুষ্টির কারণেই নাকি ‘দাদাগিরি’ ছেড়েছেন তিনি? সঞ্চালনা করতে, প্রতি সপ্তাহে কত টাকা নিতেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়?

পৌষালী আরও বলেন, “সুনিধি চৌহানের মতো শিল্পীদেরও পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। এটা একটা ভয়ানক ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। তবে, এইসব ট্রোলিং-এর প্রতি শ্রেয়া বা সুনিধির কোনও মাথাব্যথা নেই। তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র সঙ্গীত এবং তাদের শ্রোতাদের আনন্দ দেওয়া।” সেইসাথে, তিনি যোগ করেন, “যাদের এইসব কথা বলার সময় থাকে, তারা আসলে নিজেদের জীবন নিয়ে বেশি চিন্তা করা উচিত।” সব মিলিয়ে, শ্রেয়া, সুনিধি, অরিজিতদের মতো শিল্পীদের কঠিন সময়ে ট্রোলিং-এর শিকার হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

You cannot copy content of this page