“আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান করে ফেলব, ৯৫ শতাংশ দাবিই মিলে গেছে” রাহুল অরুণোদয়ের ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যুর এক মাস! আজ টলিপাড়ায় ইম্পার বৈঠ শেষে কী নিয়ে আশাবাদী যিশু, প্রসেনজিৎ ও শান্তিলাল?

গত ২৯ মার্চ টলিপাড়ায় এক অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটে, যখন শুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুরো টলিপাড়া শোকাহত এবং আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এবং তাদের দাবি ছিল যে, সিনেমা ও টেলিভিশন শুটিং-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। রাহুলের মৃত্যুর পর একাধিক প্রতিবাদ এবং আলোচনার পর, ৭ এপ্রিল একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই বৈঠকে প্রথমবারের মতো বিমা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

৭ এপ্রিলের বৈঠক থেকে যে সিদ্ধান্তগুলো উঠে এসেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য বিমা বাধ্যতামূলক করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইম্পার সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস সেই সময় বলেছিলেন, “আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমরা সমস্যার সমাধান করে ফেলব। ৩০ দিনের মধ্যে বিমা চালু হবে।” এছাড়া, তিনি আরও জানান, চ্যানেল এবং প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। তার দাবি ছিল যে, অধিকাংশ সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে, মাত্র কিছু টেকনিক্যাল দিক বাকি ছিল, যা শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।

২৭ এপ্রিল বৈঠক

এই বৈঠকের পর আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২৭ এপ্রিল। সেখানে শিল্পীদের নিরাপত্তা বিষয়ক SOP (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) নিয়ে আলোচনা করা হয়। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত তখন বলেন, “বিমা নিশ্চিত করা হচ্ছে, এবং এক ক্ষতিপূরণের বিষয়ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, যতদিন SOP তৈরি না হয়, ততদিন কেউ ঝুঁকি নিয়ে শুটিং করবেন না। সুষ্ঠু ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তারা সবাই একত্রে লড়াই করবেন। সেই বৈঠকে আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যা এখনও কিছুটা অসম্পূর্ণ ছিল।

২৭ এপ্রিলের বৈঠকের পরে, ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, “শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছিল, তার অধিকাংশই মেনে নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বাকি কিছু বিষয় নিয়ে শীঘ্রই আবার বৈঠক হবে। দিনটি নির্ধারণ করা হবে এবং আমরা সেগুলি নিয়ে আলোচনা করব।” এই বৈঠক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সকলেই একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যদের এবং প্রযোজক বন্ধুগণকেও, যারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

২৭ এপ্রিল বৈঠক

বৈঠকে উপস্থিত শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “৭ এপ্রিল যে প্রস্তাবগুলো আমরা রেখেছিলাম, সেগুলি তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। কিছু বিষয় সামনে এসেছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছি। কিছু পয়েন্ট আছে, সেগুলোর ব্যাপারে সবাইকে ভাবতে হবে। একটি বোর্ড অব কনডাক্ট ফাইনাল করার জন্য পরবর্তীতে আবার বৈঠক হবে।” তিনি আরও জানান, বিমা প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ “এখন সবাই ব্যোমকেশ, সবাই ফেলুদা…কারও আর কোনও সিগনেচার নেই” হারিয়ে যাচ্ছে গৌতম ঘোষ, অপর্ণা সেন ও বুদ্ধদেব দাশগুপ্তদের স্বতন্ত্র গল্প বলার সাহস! ট্রেন্ডের চাপে মুছে যাচ্ছে পরিচালকদের নিজস্বতা, বাংলা সিনেমার বর্তমান ধারা নিয়ে বি’স্ফোরক অঞ্জন দত্ত!

শেষে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “এখানে আমরা-তোমরা বলে কিছু নেই, এটা সম্পূর্ণ ‘আমরা’-এর ব্যাপার। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আজ আলোচনা হয়েছে।” তিনি রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, “রাহুল আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।” সংবাদমাধ্যমের কাছে যিশু সেনগুপ্ত জানান, “আমরা যদি সঠিক কাজ করতে চাই, তবে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে।” তিনি গর্বিত যে, ৯৫ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে, এবং শীঘ্রই বাকিটা সমাধান হয়ে যাবে।

You cannot copy content of this page