প্রথম দেখায় অনেকের কাছেই বিষয়টা কৌতূহলের ছিল, ছেলে সহজ (sohoj) যেখানে বাবার তৈরি পডকাস্টে অংশ নিয়েছে, সেখানে মা প্রিয়াঙ্কা সরকার (Priyanka Sarkar) কেন কখনও সামনে আসেননি? স্বামী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee)-র হঠাৎ মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নই আবার সামনে উঠে এসেছে। একদিকে ব্যক্তিগত শোক, অন্যদিকে জনসমক্ষে নানা সমালোচনা, সবকিছুর মাঝেই প্রিয়াঙ্কা নিজের মতো করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন। তবে এবার তিনি স্পষ্ট জানালেন, ‘সহজ কথা’ থেকে দূরে থাকার পিছনে কোনও দূরত্ব নয়, বরং ছিল এক গভীর বাস্তবতা!
স্বামীর মৃত্যুর পরের সময়টা যে তাঁর জীবনে সহজ ছিল না, সেটা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। কখনও নিজেকে ভেঙে পড়তে দেখেছেন, আবার কখনও নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। এই ওঠানামার মধ্যেই তিনি বুঝেছেন, প্রতিটা মুহূর্ত আলাদা। তাই ‘কেমন আছেন’, এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তরও তাঁর কাছে সহজ নয়। কাছের মানুষ আর কাজের জায়গা থেকেই তিনি মানসিক শক্তি খুঁজে নিচ্ছেন বলে জানান। এই কঠিন সময়েই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, আর সেটাকেই নিজের থেরাপি হিসেবে দেখছেন। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই যেন কিছুক্ষণের জন্য সব ভুলে থাকতে পারেন।
শুটিং সেটের পরিবেশ, সহকর্মীদের উপস্থিতি, সব মিলিয়ে নিজেকে সামলে নেওয়ার একটা জায়গা তৈরি হয়। তাঁর কথায়, অভিনয়ই এখন তাঁকে ভেতর থেকে একটু একটু করে সুস্থ হতে সাহায্য করছে। এদিকে, ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতের সময়েও ছেলেকে নিয়ে তাঁর ভাবনা আলাদা। সহজ কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাচ্ছে, সেটা নিয়ে তিনি কোনও অনুমান করতে চান না। বরং ছেলেকে নিজের মতো করে সময় দিয়েছেন, যাতে সে নিজের অনুভূতিগুলো গুছিয়ে নিতে পারে। পরিবারে প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে এই সময়টা পার করার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
তবে ‘সহজ কথা’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিষয়টা অন্য দিকে মোড় নেয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো এই পডকাস্টে না আসার পিছনে কোনও অভিমান বা দূরত্ব ছিল। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা জানালেন, বিষয়টা একেবারেই তা নয়। বরং তাঁর মতে, সেই পডকাস্টে তাঁর না যাওয়ার কারণটাই ছিল সবচেয়ে স্বাভাবিক— রাহুল তাঁকে এতটাই চিনতেন যে, সেখানে নতুন করে বলার কিছুই থাকত না। শেষ পর্যন্ত এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি প্রথম থেকেই ‘সহজ কথা’-র সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ওর হাত ধরেই জীবনের পাঠ থেকে বন্ধুত্ব সবটা শেখা। রাহুল আমার জীবনের সবটাই জানত। আমার ছোটবেলা, কাজ, প্রেম, সম্পর্ক—সব কিছু ওর জানা।
আরও পড়ুনঃ “আজীবনের বন্ধুকে হারিয়েছি…আমাদের বেড়ে ওঠা একসঙ্গে, ২২ বছরের সম্পর্ক” “আমার বইপড়া থেকে জীবনদর্শন সবই ওর হাত ধরে শুরু” স্বামী রাহুলের স্মৃতি আঁকড়ে ‘সহজ কথা’ নিয়ে কী পরিকল্পনা প্রিয়াঙ্কা সরকারের? নতুনভাবে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিলেন?
যদি যেতাম, ও আমাকে নতুন কী প্রশ্ন করত? আমার বলার মতো নতুন কিছুই ছিল না।” পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, “রাহুলের তৈরি করা বন্ধুত্ব, ওর গবেষণা, ওর ভাবনা—এসবই থাকুক। ‘সহজ কথা’ সহজ কথার মতোই থাকুক। তাই আমি আর সেখানে হাত দিতে চাই না।” তাঁর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, আক্ষেপ নয়, বরং শ্রদ্ধা আর স্মৃতির জায়গা থেকেই দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অনেকেই অভিনেত্রীর এই সাহস এবং দীর্ঘ ২২ বছরের সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। অনেকেই এটাও বলছেন, ছেলে সহজ একদিন বাবার থেকেও বড় মানুষ হবে! সেদিন প্রিয়াঙ্কার আর কোনও আফসোস থাকবে না!






