“আজীবনের বন্ধুকে হারিয়েছি…আমাদের বেড়ে ওঠা একসঙ্গে, ২২ বছরের সম্পর্ক” “আমার বইপড়া থেকে জীবনদর্শন সবই ওর হাত ধরে শুরু” স্বামী রাহুলের স্মৃতি আঁকড়ে ‘সহজ কথা’ নিয়ে কী পরিকল্পনা প্রিয়াঙ্কা সরকারের? নতুনভাবে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিলেন?

প্রথম ঝটকাটা আসে আচমকাই, আর সেই আঘাত সামলাতে গিয়ে এখনও দিশেহারা প্রিয়াঙ্কা সরকার। ২৯ মার্চ সমুদ্রের জলে শুটিং করতে গিয়ে স্বামী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু তাঁর জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। এই কঠিন সময়ের মধ্যেই তাঁকে নিয়ে সমাজ মাধ্যমে নানা সমালোচনা শুরু হয়। শেষকৃত্যে তাঁর পোশাক থেকে শুরু করে চোখে জল না দেখা যাওয়া, সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তবে এত কিছুর মাঝেও অভিনেত্রী নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছেন নিজের মতো করে। তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নিজের অনুভূতিগুলোকেও ঠিকভাবে বোঝা তাঁর পক্ষে সহজ নয়।

কখনও খুব ভেঙে পড়ছেন, আবার কখনও নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন। প্রিয়াঙ্কা স্বীকার করেছেন, তিনি এখন এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক মনে হলেও ভিতরে চলছে টানাপোড়েন। কখনও মনে হচ্ছে সব সামলে নিয়েছেন, আবার হঠাৎ করেই দুর্বলতা গ্রাস করছে। এই পরিস্থিতিতে কাছের মানুষ এবং কাজের জায়গা থেকেই তিনি শক্তি খুঁজে নিচ্ছেন। অনেকেই তাঁর খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু তিনি নিজেই জানেন না কীভাবে নিজের অবস্থাটা ব্যাখ্যা করবেন। কারণ এই অনুভূতি একরকম নয়, প্রতিদিন বদলাচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট কোনো উত্তর তাঁর কাছে নেই।

এই কঠিন সময়েই তিনি আবার কাজে ফিরেছেন, আর সেটাকেই তিনি নিজের সবচেয়ে বড় ভরসা বলে মনে করছেন। তাঁর কথায়, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই যেন নিজের বাস্তব সত্তা থেকে কিছুটা দূরে যেতে পারেন। চরিত্রের মধ্যে ঢুকে কিছু সময়ের জন্য হলেও ব্যক্তিগত দুঃখ ভুলে থাকা যায়। কাজের পরিবেশ, সহকর্মীদের উপস্থিতি, সব মিলিয়ে একটা আলাদা জগৎ তৈরি হয়, যেখানে তিনি কিছুটা শান্তি পান। তাই কাজ তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, মানসিকভাবে টিকে থাকার একটি উপায়। সমালোচনার প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতি শুধু অভিনেতাদের জীবনে নয়।

প্রায় সব পেশাতেই দেখা যায়। ব্যক্তিগত জীবনে যত বড় সমস্যাই আসুক, কাজের জায়গায় অনেক সময় সেই সুযোগ থাকে না। শুটিংয়ের ক্ষেত্রে তো বিশেষ করে তা আরও কঠিন। তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন যে বর্তমানে যাঁদের সঙ্গে কাজ করছেন, তাঁরা অত্যন্ত সহযোগিতামূলক। তাঁকে স্বস্তি দিতে গিয়ে নিজেরাও অনেক কিছু মানিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু তাঁকে সেটা বুঝতে দেন না। এই সহানুভূতিই তাঁকে আবার কাজে ফিরতে সাহায্য করেছে। ছেলে সহজকে নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রিয়াঙ্কা খুব সংযতভাবে উত্তর দেন। তিনি জানান, প্রত্যেকে নিজের মতো করে এই পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে।

তিনি ছেলেকে সময় দিয়েছেন, যাতে সে নিজের মতো করে সবটা বুঝে নিতে পারে। জোর করে কিছু বলাতে চান না। সহজ কেমন আছে, সেটা নিয়ে কোনো অনুমান করতে চান না তিনি। বরং সময় এলে সহজ নিজেই নিজের অনুভূতির কথা বলবে, সেটাই তিনি বিশ্বাস করেন। পরিবারের সকলেই একে অপরকে বন্ধুর মতো পাশে থাকার চেষ্টা করছেন, যাতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যায়। সবশেষে ‘সহজ কথা’ নিয়ে প্রশ্নে প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট জানান, আপাতত তিনি এই বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা করছেন না। অভিনেত্রীকে জানতে চাওয়া হয়, এত সফল একটা উদ্যোগ ‘সহজ কথা’ এত সহজেই হারিয়ে যাবে? প্রিয়াঙ্কা বলেন, এই প্রোজেক্টের সঙ্গে রাহুলের গভীর সংযোগ ছিল তার ভাবনা, পরিশ্রম, গবেষণা সবটাই এতে জড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুনঃ ‘অকালে স্বামীকে হারিয়েও শেষকৃত্যে মুখে হাসি, চোখে নেই জল!’ ‘এত তাড়াতাড়ি শোক কেটে গেল, কীভাবে দু’দিন পরেই কাজে ফিরতে পারলেন?’ রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুর পর লাগাতার কটাক্ষের শিকার, অবশেষে জবাবে মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা সরকার! কী উত্তর তাঁর?

তাই তিনি সেটাকে সেভাবেই থাকতে দিতে চান। তাঁর কথায়, “প্রত্যেককে ধন্যবাদ ‘সহজ কথা’-কে এতটা ভালোবাসা দেওয়ার জন্য। এটার পেছনে রাহুলের যে পরিশ্রম ছিল সেটার আলাদা সম্মান প্রাপ্য, তাই আমি আর সেখানে হাত দেব না।” এরপর জানতে চাওয়া হয়, ছেলে সহজ অংশ নিলেও তিনি কেন নেননি রাহুলের ‘সহজ কথা’য় অংশ? বলেন, জীবনের প্রায় সবটাই রাহুল জানতেন, তাই নতুন কিছু বলার থাকত না। তাঁর কথায়, “রাহুলের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব বহু বছরের। আমাদের বেড়ে ওঠা একসঙ্গে। আমার বইপড়া, সিনেমা দেখা, জীবনদর্শন অরুণোদয়ের হাত ধরে শুরু। আমরা তো ২২ বছর একসঙ্গে। যদি পডকাস্টে যেতাম, রাহুল আমাকে কী প্রশ্নই বা করত?” সেই কারণেই এই মুহূর্তে তিনি অতীতে হাত না দিয়ে, স্মৃতিগুলোকে সম্মান জানাতেই বেশি বিশ্বাসী।

You cannot copy content of this page