অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর এক মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্য এখনো পুরোপুরি কাটেনি। টলিউড মহল থেকে সাধারণ মানুষ, সকলের মধ্যেই একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, তদন্ত কতদূর এগোল? এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই তালসারি থানার পুলিশ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বক্তব্য রেকর্ড করেছে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন সেইসব মানুষ, যারা ঘটনার সময় কাছাকাছি ছিলেন বা সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে মামলাটি নতুন দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও তদন্ত শেষ হয়নি।
বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহের কাজ বাকি রয়েছে। খবর অনুযায়ী, ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’র নায়িকা শ্বেতা মিশ্রকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার শ্রবণ মহাপাত্র জানিয়েছেন, “তালসারি থানায় শ্বেতা মিশ্রের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। কারণ, রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর সময় একমাত্র শ্বেতাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।” এই কারণেই তাঁর বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও শুধু শ্বেতা নন, আরও কয়েকজনকে ডেকে কথা বলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এছাড়াও ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের কিছু কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সংস্থার দুই কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারী অফিসার জানান, “তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্তে তাঁরা সহযোগিতা করছেন।” ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন এমন প্রত্যেকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় কিছু প্রত্যক্ষদর্শীকেও ইতিমধ্যে জেরা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুলের ফুসফুস, পাকস্থলী এবং শরীরের আরও কিছু অংশে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক জল ও বালির উপস্থিতি মিলেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বেশ কিছু সময় জলের মধ্যে ডুবে থাকার ফলেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তকারী অফিসার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এখনই এ বিষয়ে কোনও কথা বলা যাবে না। তদন্ত চলছে।” অর্থাৎ, এটিকে এখনই নিছক দুর্ঘটনা বলে মানতে রাজি নয় পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ “একজন পুরুষ তার গর্ভবতী স্ত্রীর সঙ্গে রাত কাটায় না, সদ্য নাড়ি কাটা মা ও সদ্যজাত মেয়েকেও দেখতে আসে না, কিন্তু পাঁচ বছর পর…” ধিক্কার জানিয়ে সমাজ মাধ্যমে প্রাক্তন স্বামী সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করলেন স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়! বিচ্ছেদের পরও কী নিয়ে ফের বিতর্ক?
এখনও রাহুলের ভিসেরা রিপোর্ট হাতে আসেনি। সেই রিপোর্ট এলেই আরও স্পষ্ট হবে দেহে সামুদ্রিক জল ও বালি ছাড়া অন্য কিছু ছিল কি না। এখনও পর্যন্ত কারও সরাসরি যোগের প্রমাণ না মেলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। একই সঙ্গে কলকাতাতেও আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্তের স্বার্থে তালসারি থানার অফিসারেরা কলকাতাতেও আসতে পারেন বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষ হতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে, তারপরই আদালতে চার্জশিট জমা পড়বে।






