বাংলা থিয়েটার ও টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পরিচিত মুখ কৌশিক সেন। দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চ, চলচ্চিত্র এবং ওটিটি সব মাধ্যমেই সমানভাবে কাজ করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্যের জন্যও তিনি বহুবার আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁকে দেখা গেল একেবারে খোলামেলা ও স্পষ্টভাষী ভূমিকায়। এক সাক্ষাৎকারে কৌশিক সেন সমাজ, রাজনীতি, ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
তিনি জানান, আজকের পৃথিবী আর কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো নয় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা প্রত্যেকের জীবনকেই প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে সৃজনশীলতার পাশাপাশি ব্যবসায়িক চাপও বাড়ছে, যার কারণে অনেক সময় ভালো কাজ তৈরি হলেও তার সঠিক সমন্বয় হয় না। তাঁর মতে, শুধু মিটিং বা ব্যবসার আলোচনা নয়, দরকার “এস্থেটিক্স এক্সচেঞ্জ” অর্থাৎ গল্প, স্ক্রিপ্ট ও শিল্পের মান নিয়ে গভীর আলোচনা। সাক্ষাৎকারে কৌশিক সেনকে প্রায়ই রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নানা মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। অনেকেই তাঁকে “চটিচাটা” বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিন লিভ-ইনের পর দোলনকে বিয়ে, কেন প্রথম স্ত্রী ও দুই মেয়েকে ছেড়ে আলাদা পথে হাঁটলেন দীপঙ্কর দে? একা হাতে দুই মেয়েকে মানুষ করেন, তারপর বড় মেয়ের মৃ’ত্যু! শেষ জীবনে কেমন আছেন অভিনেতার প্রথম স্ত্রী? সামনে এল এক সময়ের সুখী সংসারের বেদনাময় অজানা অধ্যায়!
এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মানুষ আজকাল খুব সহজেই কাউকে একটি “বক্স”-এর মধ্যে ফেলে দিতে চায়। তাঁর মতে, এটি এক ধরনের মানসিক অভ্যাস, যেখানে মানুষ জটিল বাস্তবতা না বুঝে সহজ লেবেল লাগিয়ে দেয়। তিনি জানান, তিনি কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কথা বলেন। মানুষ যেভাবে তাঁকে বিচার করুক না কেন, তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরে আসতে চান না। এই সাক্ষাৎকারেই উঠে আসে তাঁর ছেলে অভিনেতা ঋদ্ধি সেনকে ঘিরে চলা বিতর্ক ও “ব্যান” প্রসঙ্গ।
কৌশিক সেন জানান, মানুষের ধারণা এবং গুজবের কারণে অনেক সময় শিল্পীদের সম্পর্কে ভুল ইমেজ তৈরি হয়। তিনি বলেন, কেউ যদি রাজনৈতিক মঞ্চে বা কোনো মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তার জন্য পুরো পরিবার বা ব্যক্তিকে একই দৃষ্টিতে দেখা ঠিক নয়। তাঁর মতে, এই ধরনের লেবেলিং সংস্কৃতি খুবই ক্ষতিকর, কারণ এতে ব্যক্তিগত পরিচয় ও কাজের মূল্যায়ন অনেক সময় হারিয়ে যায়। বাংলা চলচ্চিত্র ও টলিউড ইন্ডাস্ট্রি নিয়েও কৌশিক সেন বেশ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিভার কোনো অভাব নেই, অভিনেতা, পরিচালক ও টেকনিশিয়ান সবাই দক্ষ। কিন্তু সমস্যা হলো সমন্বয়ের অভাব এবং সৃজনশীল আলোচনার ঘাটতি। তাঁর মতে, আজকাল অনেক সময় শুধু ব্যবসা কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কে কোন উৎসবে ছবি রিলিজ করবে, কোন সময় বাজার ভালো, এইসব নিয়ে আলোচনা বেশি হয়। কিন্তু গল্প, স্ক্রিপ্ট এবং শিল্পের মান নিয়ে গভীর আলোচনা কমে যাচ্ছে। তাই তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সৃজনশীল সহযোগিতা এবং খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা খুব জরুরি। সব মিলিয়ে এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে কৌশিক সেনকে দেখা গেল একেবারে স্পষ্ট, বাস্তববাদী এবং আত্মবিশ্লেষণী একজন শিল্পী হিসেবে, যিনি সমাজ, রাজনীতি, পরিবার ও ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, কোনো রাখঢাক ছাড়াই।






