দীর্ঘদিন লিভ-ইনের পর দোলনকে বিয়ে, কেন প্রথম স্ত্রী ও দুই মেয়েকে ছেড়ে আলাদা পথে হাঁটলেন দীপঙ্কর দে? একা হাতে দুই মেয়েকে মানুষ করেন, তারপর বড় মেয়ের মৃ’ত্যু! শেষ জীবনে কেমন আছেন অভিনেতার প্রথম স্ত্রী? সামনে এল এক সময়ের সুখী সংসারের বেদনাময় অজানা অধ্যায়!

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকে বহু অজানা গল্প, সম্পর্কের উত্থান-পতন, ভালোবাসা আর বিচ্ছেদের নানা অধ্যায়। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। বিশেষ করে যখন সেই জীবনে থাকে প্রেম, সংগ্রাম, সাফল্য এবং সম্পর্কের জটিলতা, তখন সেই গল্প যেন আরও বেশি করে ছুঁয়ে যায় সাধারণ মানুষকে। টলিউডও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানকার বহু তারকার জীবনে রয়েছে এমন কিছু অধ্যায়, যা একদিকে যেমন আবেগঘন, অন্যদিকে তেমনই শিক্ষণীয়।

এই প্রসঙ্গে উঠে আসে বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে-র নাম। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে টলিউডের অসমবয়সী দম্পতিদের মধ্যে দোলন রায় ও দীপঙ্কর দে-র সম্পর্ক বিশেষভাবে আলোচিত। বহু বছর লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার পর ২০২০ সালে তারা আইনি স্বীকৃতি দেন নিজেদের সম্পর্ককে। বর্তমানে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন, যা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।

আরও পড়ুন: আচমকা পুলিশের রেড পড়ল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অফিসে! হতভম্ব হয়ে তড়িঘড়ি এদিক-ওদিক সামলাতে ব্যস্ত মহারাজ! ১২৫ কোটি টাকার চুক্তিতে নতুন ইনিংস করতেই কি বিপাকে ‘দাদা’? মুহূর্তে ভাইরাল, সেই বিতর্কিত ভিডিও!

তবে এই সম্পর্কের আগেও দীপঙ্কর দে-র জীবনে ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মহিলা বান্টি রোজ দে। একটি বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁদের প্রথম আলাপ হয়। সেই সময় দীপঙ্করের ব্যক্তিত্ব, সঙ্গীত দক্ষতা এবং আকর্ষণীয় উপস্থিতি সহজেই মুগ্ধ করেছিল বান্টিকে। কয়েক বছরের প্রেমের পর ১৯৬৮ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭১ সালে জন্ম নেয় তাঁদের বড় মেয়ে বৈশালী, পরে ছোট মেয়ে বিশাখার জন্ম হয়। শুরুতে সংসার সুখেই কাটছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে।

চলচ্চিত্র জগতে দীপঙ্করের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে দাম্পত্য জীবনে দূরত্বও বাড়তে শুরু করে। ক্রমশ কলহ বাড়তে থাকায় একসময় আলাদা হয়ে যান দুজনে। দীপঙ্কর মন দেন অভিনয়ে, আর বান্টি দুই মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এক সাক্ষাৎকারে বান্টি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত আত্মনির্ভরশীল ছিলেন। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতেন এবং দীপঙ্করকে বিয়ের ক্ষেত্রেও বহু বাধা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি আরও জানান, তাঁদের প্রথম কাজ ছিল একটি ফুড প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন, যেখানে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি।

জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও সম্পর্কের এক বিশেষ দিক সামনে আসে পরবর্তী সময়ে। ২০২৩ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁদের বড় মেয়ে বৈশালীর মৃত্যু হয়। সেই কঠিন সময়ে হাসপাতাল থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত দীপঙ্কর ও বান্টি দুজনেই একসঙ্গে ছিলেন। এমনকি সেখানে উপস্থিত ছিলেন দোলন রায়ও। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সম্পর্ক ভেঙে গেলেও মানবিকতার বন্ধন কখনও সম্পূর্ণ ছিন্ন হয় না। বর্তমানে বান্টি তাঁর ছোট মেয়ে বিশাখার সঙ্গে থাকেন। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা পেরিয়ে আজও তিনি নিজের মতো করে এগিয়ে চলেছেন যা নিঃসন্দেহে এক শক্তিশালী নারীর পরিচয় বহন করে।

You cannot copy content of this page