বিনোদনের ঝলমলে পর্দার আড়ালে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন অনেক সময়েই লুকিয়ে থাকে নানা উত্থান-পতন, সম্পর্কের টানাপোড়েন আর আবেগের গল্পে ভরা বাস্তবতা। দর্শকরা যাদের শুধু চরিত্রের মাধ্যমে চেনেন, তাঁদের জীবনের গল্প অনেক সময় সিনেমার চেয়েও বেশি নাটকীয় হয়ে ওঠে। প্রেম, বিচ্ছেদ, নতুন করে শুরু এই সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয় একেকটা জীবন্ত গল্প, যা অনুপ্রেরণাও দেয়, আবার ভাবিয়েও তোলে। ঠিক তেমনই এক জীবনকাহিনী বহন করছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী।
অভিনয় দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্বের জোরে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মনে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন বিদীপ্তা। টেলিভিশন থেকে বড় পর্দা সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি নজরকাড়া। তবে অভিনয়ের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল কম নয়। বিশেষ করে তাঁর প্রেম এবং বিয়ের গল্প যেন একেবারে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। ছোটবেলা থেকেই শিল্পী পরিবারে বড় হওয়া বিদীপ্তার জীবনে সম্পর্কের জটিলতা যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে ভালোবাসার নতুন অধ্যায়।
বিদীপ্তার বর্তমান দাম্পত্য জীবন পরিচালক বীরসা দাশগুপ্তের সঙ্গে। ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মজার বিষয়, বীরসা বিদীপ্তার থেকে প্রায় সাড়ে ছয় বছরের ছোট যা তাঁদের সম্পর্ককে আরও আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই কন্যা সন্তান মেঘলা এবং ইদা। মেঘলা বিদীপ্তার প্রথম পক্ষের মেয়ে হলেও বীরসা তাকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন এবং দায়িত্ব নিয়েছেন। এই সম্পর্কের গভীরতা এবং আন্তরিকতা অনেকের কাছেই উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই সুখের সংসারের পেছনে রয়েছে এক জটিল অতীত। বিদীপ্তার প্রথম স্বামী ছিলেন সিনেমাটোগ্রাফার শুভাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ‘লালু’ নামেই পরিচিত। ব্যক্তিগত কারণে সেই সম্পর্ক টেকেনি এবং তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। সেই সময় জীবনের এক কঠিন পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন বিদীপ্তা। মেয়েকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্তও সহজ ছিল না। এরই মধ্যে বীরসার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু, যখন দুজনেই নিজেদের জীবনের ভাঙা অধ্যায় সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলায় একসঙ্গে কাটানো সময় যেন তাঁদের সম্পর্ককে নতুন দিশা দেয়।
আরও পড়ুন: চলে গেলেন অগ্নিদেব? স্বামীকে নিয়ে চারিদিকে ভুয়ো মৃ’ত্যুসংবাদ, পরিবারিক শোকের আবহেই নতুন ধাক্কা? বি’স্ফোরক সুদীপা চট্টোপাধ্যায়
বিদীপ্তার জীবনের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হল তাঁর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক। শাশুড়ি চৈতালী দাশগুপ্তকে তিনি আজও ‘কেয়া পিসি’ বলেই ডাকেন, আর শ্বশুর রাজা দাশগুপ্ত তাঁর কাছে ‘রাজাদা’। ছোটবেলা থেকেই তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত থাকায় এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এমনকি তাঁর প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রেও কেয়া পিসির পরামর্শ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই বিয়ে টেকেনি। পরে আবার সেই একই পরিবারের ছেলের সঙ্গেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তিনি, যা সত্যিই বিরল এবং সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
বর্তমানে বিদীপ্তা তাঁর পরিবার নিয়ে সুখেই আছেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি এবং বীরসা একে অপরের পাশে থেকেছেন প্রতিটি কঠিন সময়ে। মেয়েকে কোলে নিয়েই বিয়ে সেরেছিলেন তিনি, আর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ তাঁর জীবনের শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও স্বামীর হাত ধরে পথ চলছেন তিনি, যেমনটা শুরু করেছিলেন জীবনের এক টালমাটাল সময়ে। তাই বলা যায়, বিদীপ্তার জীবন শুধুই একজন অভিনেত্রীর গল্প নয়—এ এক বাস্তবের সিনেমা, যেখানে ভালোবাসা, সাহস আর নতুন করে বাঁচার ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে।






