সঞ্চালিকা ও অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে বিতর্ক যেন নতুন কিছু নয়। তিনি যা করেন, যা বলেন বা সমাজমাধ্যমে যা ভাগ করে নেন, তা নিয়েই প্রায়ই শুরু হয় আলোচনা। সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। পরিবারের এক সদস্যকে হারানোর শোক এখনও কাটেনি। এর মাঝেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর স্বামী পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভুয়ো মৃত্যুসংবাদ। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়। অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, আবার পরিবারের উপরও মানসিক চাপ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সুদীপা।
সুদীপার কথায়, এখন তিনি অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন এই ধরনের ঘটনায়। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকায় নানা ধরনের মন্তব্য, সমালোচনা এবং গুজবের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তিনি বলেন, “আগে এই ধরনের খবর দেখলে খুব কষ্ট পেতাম, কখনও কেঁদেও ফেলতাম। এখন আর সেভাবে প্রভাব ফেলে না।” তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বিষয়টি তাঁকে যতটা না নাড়া দেয়, তার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের বয়স্ক আত্মীয়রা। তাঁদের কাছ থেকে বারবার ফোন আসে এবং অগ্নিদেবের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তিনি জানান, অনেক আত্মীয়ই জানতে চান পরিবারের তরফে কিছু লুকোনো হচ্ছে কি না। এই ধরনের মিথ্যে খবরের কারণে অযথা দুশ্চিন্তা তৈরি হয় বলেই মনে করেন সুদীপা। তাঁর মতে, সমাজমাধ্যমে এখন যাচাই না করেই বহু মানুষ নানা খবর ছড়িয়ে দেন। সেই কারণেই তিনি এখন এসব জায়গাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। সুদীপার ভাষায়, “আজকাল সমাজমাধ্যমকে আমি খুব একটা গুরুত্ব দিই না। অনেক সময় এখানে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দেখা যায়।”
আরও পড়ুন: আচমকা হোয়াটসঅ্যাপে এল নিজেরই ন’গ্ন ছবি! ভাইরাল করে দেওয়ার হু’মকিতে, চমকে উঠলেন বাঙালি অভিনেত্রী! পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে, কার বিরুদ্ধে করলেন বড় অভিযোগ?
অভিনেত্রী আরও বলেন, তাঁকে নিয়ে এই প্রথম এমন কুৎসা রটেনি। এর আগেও নানা বিষয় নিয়ে তাঁকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। বাংলাদেশে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে খাবার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তাঁর ছোট ছেলে আদিদেবও সঙ্গে ছিল। পরে স্কুলে গিয়ে শিশুটিকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সুদীপা জানান, নতুন প্রজন্ম এসব বিষয়কে অনেক সহজভাবে নেয়, কিন্তু বড়দের কাছে তা অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
একসময় এই ধরনের সমালোচনার জবাব না দিলেও এখন প্রয়োজন হলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সুদীপা। তিনি মনে করেন, বর্তমানে সমাজমাধ্যমে অনেকেই সীমা না মেনে মন্তব্য করেন। এমনকি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়। সেই কারণেই তিনি এখন আর ব্যক্তিগতভাবে এসব মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চান না। বরং নিজের কাজ, পরিবার এবং বাস্তব জীবন নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান বলে জানিয়েছেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়।






