“ফায়ার টু ফ্রাইং প্যান!” তৃণমূলকে হারিয়ে বাংলায় বিজেপির উত্থান! বামেদের খাতা কার্যত শূন্য, তবু নিজের শিবিরের সমর্থনে এত বড় মন্তব্যে জনরো’ষের মুখে সুদীপ্তা চক্রবর্তী?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই রাজ্য জুড়ে চরম উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কোথাও উৎসবের প্রস্তুতি, কোথাও আবার উদ্বেগে প্রহর গুনছেন সমর্থকেরা। সকাল থেকে টেলিভিশন, মোবাইল ও গণনাকেন্দ্রের বাইরে মানুষের নজর একটাই প্রশ্নে আটকে রয়েছে, এবার কি পরিবর্তন আসবে, না কি ফের ক্ষমতায় ফিরবে পুরনো শাসক দল? বর্তমান গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী রাজ্যের বহু আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সর্বত্র। এই আবহে রাজ্যের মানুষ যেমন ফলাফলের দিকে তাকিয়ে, তেমনই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পরিচিত মুখদের প্রতিক্রিয়াও নজরে আসছে। দিনভর সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই উত্তেজনার ছাপ স্পষ্ট।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পাতায় তিনি লেখেন, “ফায়ার টু ফ্রাইং প্যান”। সংক্ষিপ্ত এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। অনেকে মনে করছেন, বর্তমান ভোট গণনার প্রবণতা দেখে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই পোস্ট। সুদীপ্তা বরাবরই নিজের রাজনৈতিক মতামত নিয়ে খোলামেলা। তাই তাঁর এই মন্তব্যকে নিছক সাধারণ পোস্ট হিসেবে দেখছেন না অনেকেই। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ, সকলের মধ্যেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সুদীপ্তা চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই বাম মনস্ক বলেই পরিচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে তাঁকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে বহুবার। আরজি করের নৃশংস ঘটনার পর যে প্রতিবাদ মিছিল রাজ্য জুড়ে হয়েছিল, সেই রাত দখলের আন্দোলনেও অভিনেত্রীকে অংশ নিতে দেখা যায়। সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তিনি নিয়মিত মত প্রকাশ করেন। ফলে ভোট গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে তাঁর এমন মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে যখন রাজ্যের রাজনৈতিক ফলাফল অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তখন তাঁর পোস্ট আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রতীকী বার্তা হিসেবেও দেখছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়েছিল গত ২৩ এপ্রিল। মোট ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছিল সেই পর্বে। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা, পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা এবং দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান ও দুই মেদিনীপুরেও সেদিন ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রথম দফা থেকেই রাজনৈতিক লড়াই ছিল বেশ তীব্র। প্রতিটি দলই এই আসনগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিল। কারণ উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলের ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক ছবিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত ছিল। সেই কারণে প্রথম দফার ফল নিয়েও আগ্রহ ছিল প্রবল।

আরও পড়ুন: “ফের তোকে হারতে দেখে হেব্বি লাগল, কত চাটুকারিতা দেখলাম…পারলে ওটাও চেটে দেয়!” “পারলে এবার বাইরে বেরো, চোর কোথাকার” তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সীর হার ঘোষণা হতেই, পুরনো রেষা’রেষি টেনে খোঁচা সৌম্যর! বিদায়ী বিধায়কে নিয়ে আর কী বললেন গায়ক?

দ্বিতীয় দফার ভোট হয়েছিল ২৯ এপ্রিল, যেখানে ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এই অঞ্চলগুলির বড় অংশকেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩টিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল, আর বিজেপি জিতেছিল ১৮টি আসনে। তাই এবার এই এলাকাগুলির ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে। তৃণমূল কি তাদের পুরনো ঘাঁটি ধরে রাখতে পারবে, নাকি সেখানে বিজেপি বড় সাফল্য পাবে, সেই উত্তরই দেবে চূড়ান্ত ফলাফল। এখন রাজ্যবাসীর নজর শুধু গণনার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

You cannot copy content of this page