“শ্রী রাম তো আমাদের ভগবান, আমরা পুজো করি” বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার পথে, হাওয়া বদলাতেই স্লোগান বদলালেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে দেদার সেলফি ঘিরে জোর চর্চা! রাজ্যে গেরুয়া ঝড় উঠতেই কি বার্তা তৃণমূল সাংসদের?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে সোমবার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভোটের ফল প্রকাশের ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, নানা জায়গায় গেরুয়া শিবিরের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এই আবহের মধ্যেই হুগলিতে ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা, যা দ্রুত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ রচনা ব্যানার্জিকে দেখা যায় বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে। শুধু কথাবার্তাই নয়, তাঁদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সেলফিও তুলতে দেখা যায় তাঁকে।

ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমেও এই ছবি ঘিরে চর্চা বাড়তে থাকে। হুগলির চুঁচুড়ার পিপুল পাতির মোড় এলাকায় এদিন উপস্থিত ছিলেন রচনা ব্যানার্জি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেই সময় বিজেপি সমর্থকদের একটি বড় অংশ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। ভোটের ফলাফলে নিজেদের দলের সাফল্যের সম্ভাবনায় তাঁরা আনন্দ প্রকাশ করছিলেন। ঠিক সেই সময় সেখানে পৌঁছন সাংসদ রচনা। তাঁকে সামনে পেয়ে বিজেপি কর্মীদের অনেকেই এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান। রচনাও তাঁদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন।

এরপর কয়েকজন কর্মীর অনুরোধে তিনি তাঁদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। সেই মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার হয়। ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রচনা ব্যানার্জি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমি সাংসদ হিসেবে সবার সঙ্গে কথা বলতেই পারি।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক মত আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, “সবাই মানুষ, তাই ছবি তুলতে আমার কোনও আপত্তি নেই।”

তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সব দলের মানুষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। রচনার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কেউ তাঁর আচরণকে ইতিবাচক বলেছেন, আবার কেউ প্রশ্নও তুলেছেন। তবে তিনি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। এদিন বিজেপি কর্মীদের মুখে “জয় শ্রীরাম” স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন করা হয় রচনাকে। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাম তো আমাদের ভগবান। পুজো করি।” পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা জয় বাংলা বলি। আমাদের ১৪ কোটি দেবতা।”

তাঁর এই বক্তব্যে ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক অবস্থান, দু’দিকই স্পষ্টভাবে উঠে আসে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রচনা খুব সচেতনভাবেই ভারসাম্য রেখে উত্তর দিয়েছেন। কারণ, একদিকে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়েছেন, অন্যদিকে নিজের দলের পরিচয়ও তুলে ধরেছেন। ফলে তাঁর মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। বিভিন্ন মহলে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যাও শুরু হয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশের দিনে এমন ছবি এবং বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন: “৪ তারিখের পর আমাকে বুঝে নেবেন বলেছিল…এক লাখ-দু লাখ আন্ডার টেবিল চাইত” বাংলার সিংহাসনের লড়া’ইয়ে এগিয়ে বিজেপি! সুযোগ বুঝে কাদের মুখোশ টেনে খুলে দিলেন জিতু কমল? ভাইরাল পোস্টে উত্তাল নেটদুনিয়া!

বিরোধী দলের কর্মীদের সঙ্গে এক তৃণমূল সাংসদের সহজ ব্যবহার অনেকের নজর কেড়েছে। আবার অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও এই ঘটনা ভিন্ন বার্তা দিয়েছে বলে মত অনেকের। বর্তমানে বাংলার রাজনীতিতে যেখানে সংঘাতের ছবি বেশি দেখা যায়, সেখানে সৌজন্যের এই মুহূর্ত আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা সময়ই বলবে। তবে রচনা ব্যানার্জির এই সেলফি মুহূর্ত ইতিমধ্যেই দিনের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। হুগলির সেই দৃশ্য এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

You cannot copy content of this page