দুপুরেও বলেছিলেন “মমতাই জিতবে”, তারপরই হল উলটপুরাণ! ব্যারাকপুরে রাজ চক্রবর্তীর ব্যাপক পরাজয়! তৃণমূল সাংসদের গায়ে ছোড়া হল কাদা, উঠল চোর চোর রব!

আজ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। টানা ১৫ বছরের শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে, এমন ইঙ্গিত শুরু থেকেই দেখা যায় গণনার ট্রেন্ডে। রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে বিরোধীদের এগিয়ে থাকার খবর সামনে আসতেই বদলের হাওয়া স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও নজর ছিল সবার। কারণ এই কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ভোটের ফল ঘোষণার দিন তাই রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রের পাশাপাশি ব্যারাকপুরের ফলও বিশেষ গুরুত্ব পায়। শুরু থেকেই সেখানে রাজের পিছিয়ে পড়ার ছবি সামনে আসে। ধীরে ধীরে সেই ব্যবধান আরও বাড়তে থাকে।

ফল ঘোষণার আগে আজ বেলা বারোটা পর্যন্তও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানিয়েছিলেন, “মমতাই জিতবে।” দল নিয়ে তাঁর ভরসার কথা স্পষ্ট শোনা যায় সেই বক্তব্যে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় দফার ভোটের পরও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা দুর্গার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ মমতার উপরেই আস্থা রাখবেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক ছবিটা একেবারে বদলে যায়। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের পিছিয়ে পড়া যেমন স্পষ্ট হতে থাকে, তেমনই ব্যারাকপুরেও রাজের জয়ের আশা ক্রমশ কমতে থাকে। দুপুরের আত্মবিশ্বাস সন্ধ্যার আগেই চাপে পড়ে যায়।

গণনার অগ্রগতি যত সামনে আসে, ততই ব্যারাকপুর কেন্দ্রে রাজ চক্রবর্তীর হার কার্যত নিশ্চিত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বুঝে তিনি গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যান। তবে সেই বেরিয়ে আসার মুহূর্ত একেবারেই স্বস্তির ছিল না। কেন্দ্রের বাইরে তখন জড়ো হয়েছিলেন একাংশ মানুষ। তাঁদের মধ্যে থেকে কটূক্তি, স্লোগান এবং বিক্ষোভের আওয়াজ শোনা যায়। উত্তেজনা বাড়তেই রাজ চক্রবর্তীর দিকে কাদা ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। আচমকা পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠলে দলের কর্মীরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় কিছুক্ষণ চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

এই গোটা পরিস্থিতির মধ্যে রাজ চক্রবর্তীকে একবারও কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। তিনি না হার নিয়ে কিছু বলেছেন, না বিক্ষোভ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। নীরব থাকাই যেন তিনি বেছে নিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিনও বুথ পরিদর্শনে দেখা যায়নি তাঁকে। আগে থেকেই তিনি জানিয়েছিলেন, এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করতে চান না যাতে সাধারণ মানুষের ভোটে সমস্যা হয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, “মানুষ নিজের মতো করে, নির্ভয়ে ভোট দিক।” সেই অবস্থান ভোটের দিন যেমন ছিল, ফলের দিনও তেমনই চুপচাপ থাকলেন তিনি। রাজনৈতিক চাপে পড়েও প্রকাশ্যে কোনও ক্ষোভ দেখাননি।

আরও পড়ুন: “শ্রী রাম তো আমাদের ভগবান, আমরা পুজো করি” বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার পথে, হাওয়া বদলাতেই স্লোগান বদলালেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে দেদার সেলফি ঘিরে জোর চর্চা! রাজ্যে গেরুয়া ঝড় উঠতেই কি বার্তা তৃণমূল সাংসদের?

৪ মে-র ফলাফল স্পষ্ট করে দিল, বাংলার ভোটাররা এবার অন্য সমীকরণে ভরসা রাখতে চেয়েছেন। একদিকে দীর্ঘদিনের শাসকদল বড় ধাক্কা খেল, অন্যদিকে ব্যারাকপুরে রাজ চক্রবর্তীর সম্ভাব্য পরাজয় সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠল। রাজনীতির ময়দানে এটি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা, বিশেষ করে একজন তারকা প্রার্থীর ক্ষেত্রে। দুপুরে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করা রাজকেই সন্ধ্যার দিকে নীরবে গণনাকেন্দ্র ছাড়তে হল। বাইরে বিক্ষোভ, কাদা ছোড়া এবং রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে ফলের দিনটা তাঁর জন্য কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে রইল। ব্যারাকপুরের এই ছবি এখন রাজ্যের বড় রাজনৈতিক বার্তার অংশ হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page