তৃণমূল জিতবেই বলেছিলেন! বিরাট রোড শো করে বিজেপিকে ‘ট্রেলার’ দেখিয়েছিলেন সোনারপুরের প্রার্থী লাভলি মৈত্র! ভোটগণনার শেষে সিনেমা দেখাতে পারলেন না তিনি! কী প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রীর?

সোনারপুর দক্ষিণে এবারের ভোটের লড়াই শুরু থেকেই ছিল চর্চার কেন্দ্রে। কারণ এই কেন্দ্রে মুখোমুখি হয়েছিলেন পরিচিত দুই তারকা মুখ লাভলি মৈত্র ও রূপা গাঙ্গুলি। প্রচারের সময় তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্র আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, চতুর্থবার রাজ্যে তৃণমূলই ক্ষমতায় ফিরবে। তিনি আরও বলেছিলেন, তাঁর বিশাল রোড শো শুধু ট্রেলার, পরে মানুষ পুরো ছবিটাও দেখবে। কিন্তু ভোটগণনার দিন ছবিটা যেন অন্য দিকেই ঘুরে গেল। গণনার শুরু থেকেই তিনি পিছিয়ে পড়েন বিজেপি প্রার্থীর কাছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এক সময় যে কেন্দ্রে তিনি জিতেছিলেন, সেই আসনেই এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন লাভলি।

রবিবার গণনার ১০ রাউন্ড শেষে বিকেল ৪টা ২৮ মিনিট নাগাদ পাওয়া হিসেবে লাভলি মৈত্র প্রায় ২৩ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলি শুরু থেকেই এগিয়ে থাকায় সোনারপুর দক্ষিণে পদ্ম শিবিরে উচ্ছ্বাস বাড়তে থাকে। যদিও চূড়ান্ত ফল তখনও ঘোষণা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে লড়াই তখন অনেকটাই একতরফা হয়ে গিয়েছিল। তৃণমূল শিবিরে দেখা যায় চাপা উদ্বেগ। কারণ ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন লাভলি। সেই জয় ধরে রাখার আশা থাকলেও বাস্তবে চিত্র একেবারে আলাদা হয়ে যায়।

এই কেন্দ্রে সব বড় দলের পক্ষ থেকেই মহিলা প্রার্থী নামানো হয়েছিল। তৃণমূলের লাভলি মৈত্র, বিজেপির রূপা গাঙ্গুলি, সিপিআইএমের পারমিতা দাশগুপ্ত এবং কংগ্রেসের সুব্রতা দত্তকে ঘিরে শুরু থেকেই জমে উঠেছিল প্রচার। সাধারণ মানুষও এই লড়াইয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। বিশেষ করে দুই পরিচিত তারকা মুখের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল তুঙ্গে। বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলিও প্রচারে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন এবং প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী সুরে কথা বলেছিলেন। ভোটের ফলাফলের প্রবণতায় সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখা যায় বলে মত অনেকের।

আরও পড়ুন: “ফায়ার টু ফ্রাইং প্যান!” তৃণমূলকে হারিয়ে বাংলায় বিজেপির উত্থান! বামেদের খাতা কার্যত শূন্য, তবু নিজের শিবিরের সমর্থনে এত বড় মন্তব্যে জনরো’ষের মুখে সুদীপ্তা চক্রবর্তী?

লাভলি মৈত্র মূলত অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ। পরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার লড়ে সোনারপুর দক্ষিণ থেকেই জয় পেয়েছিলেন। তখন তিনি বিজেপি প্রার্থী অঞ্জনা বসুকে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন। জয়ের পর কেন্দ্রের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ঠিকানাও বদল করেন। সেই কারণেই এবারের নির্বাচনেও দল তাঁর উপর ভরসা রেখেছিল। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভোটের অঙ্ক বদলে গেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রচারের সময় লাভলি মৈত্র বলেছিলেন, বাংলার মানুষ এখনও দিদির উপর ভরসা রাখেন এবং তৃণমূলকেই আবার ক্ষমতায় আনবেন। সেই বক্তব্য এখন নতুন করে সামনে আসছে। কারণ ভোটগণনার ফলাফলের প্রবণতা তাঁর সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সোনারপুর দক্ষিণে শেষ পর্যন্ত ফল কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই কেন্দ্রের লড়াই রাজ্যের অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে। আর লাভলি মৈত্রর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

You cannot copy content of this page