হাইভোল্টেজ প্রচার, তবুও নিজের গড়ে ভাঙল দুর্গ! ঘাটালেও রক্ষা পেল না তৃণমূল, গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেল মেগাস্টারের খুঁটি! জনসভায় দেবকে দেখতে কাঁদলেন ভক্তরা, ভোটে শেষে হাসি হাসল বিরোধী শিবির! কী প্রতিক্রিয়া অভিনেতার?

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু হতেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন অভিনেতা তথা সাংসদ দেব। সিনেমার ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে তিনি টানা বিভিন্ন জেলায় দলের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন। কখনও হেলিকপ্টারে, কখনও গাড়িতে, আবার কখনও হেঁটেও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, বহু জায়গাতেই তাঁকে ঘিরে বিশাল ভিড় দেখা যায়। প্রচার মঞ্চে উঠে দেব আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছিলেন, “যেখানেই গিয়েছি জনতার প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছে ভোটের ফল।” সেই মন্তব্য ঘিরে তখন তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। অনেকে মনে করেছিলেন, তারকার জনপ্রিয়তা ভোটের ফলেও প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ফল ঘোষণার দিন ছবিটা একেবারে অন্যরকম হয়ে ওঠে।

নিজের সাংসদ এলাকা ঘাটালে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দারের হয়ে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন দেব। স্থানীয় সভা, রোড শো, জনসংযোগ সহ নানা কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। দলের হয়ে ঘাটাল ছাড়াও কোচবিহার, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান-সহ একাধিক জেলায় প্রচার করেন তিনি। যেখানে গিয়েছেন, সেখানেই তাঁকে দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে। বহু জায়গায় ভিড় সামলাতে প্রশাসনকে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। ভক্তদের কেউ ফুল দিয়েছেন, কেউ ছবি তুলতে ছুটে গিয়েছেন। দেবকে এক ঝলক দেখতে মানুষের এমন উন্মাদনা দীর্ঘদিন পর রাজ্যের রাজনীতিতে দেখা গেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন: তৃণমূল জিতবেই বলেছিলেন! বিরাট রোড শো করে বিজেপিকে ‘ট্রেলার’ দেখিয়েছিলেন সোনারপুরের প্রার্থী লাভলি মৈত্র! ভোটগণনার শেষে সিনেমা দেখাতে পারলেন না তিনি! কী প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রীর?

কিন্তু ভোট গণনা শুরু হতেই ঘাটালের ফল তৃণমূল শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। শুরু থেকেই বিজেপি প্রার্থী শীতল কপট এগিয়ে যেতে থাকেন। প্রথমে ব্যবধান কম থাকলেও পরে তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ত্রিশ হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দার। শুধু ঘাটাল নয়, যেসব জেলায় দেব প্রচারে গিয়ে বিরোধী শিবিরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, সেখানেও বিজেপির ভালো ফল সামনে আসে। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তারকা প্রচারের ভিড় কি আদৌ ভোটে বদলাতে পেরেছে?

এই ফল সামনে আসতেই নানা মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, জনসভায় যে বিপুল মানুষ এসেছিলেন, তাঁদের বড় অংশই আসলে দেবকে দেখতে গিয়েছিলেন। রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য নয়, প্রিয় অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহই ছিল মূল কারণ। কেউ কেউ বলছেন, দেবের জনপ্রিয়তা অটুট থাকলেও সেই ভালোবাসা সরাসরি ভোটে পরিণত হয়নি। কারণ সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখনও “মানুষ দেব” হিসেবেই বেশি গ্রহণযোগ্য, রাজনৈতিক মুখ হিসেবে নয়। সেই কারণেই প্রচারে সাড়া মিললেও ভোটবাক্সে তার প্রতিফলন কম দেখা গেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

গত এক দশকে রাজনীতিতে থেকেও দেব নিজের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন। বিরোধীদের নিয়ে কটু মন্তব্য থেকে দূরে থাকা, নম্র ভাষায় প্রচার করা এবং দলের কাজ তুলে ধরা, এই পথেই তিনি চলেছেন। লোকসভা হোক বা বিধানসভা, প্রতিবারই তিনি উন্নয়ন ও কাজের ভিত্তিতে ভোট চেয়েছেন। কিন্তু এবারের ফল দেখিয়ে দিল, জনপ্রিয়তা আর নির্বাচনী সমীকরণ সবসময় এক জিনিস নয়। প্রচারে মানুষের ঢল থাকলেও নিজের ঘাটালেই শেষ পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের উত্থান বড় বার্তা দিয়ে গেল। এখন দেখার, এই ফলের পর দেবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়।

You cannot copy content of this page