বাংলার সিংহাসনে এবার ‘দ্রৌপদী’? ২০২৬-এ বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়? আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা, তুমুল চর্চা শুরু রাজনৈতিক মহলে!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। নির্বাচনে বিজেপির বড়সড় সাফল্যের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন? রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই আলোচনা এখন তুঙ্গে। সেই তালিকায় উঠে আসছে অভিনেত্রী ও বিজেপি নেত্রী রূপা গাঙ্গুলির নাম। মহিলা মুখ হিসেবে তাঁকে সামনে আনার সম্ভাবনা নিয়েও নানা মহলে জোর আলোচনা চলছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অঙ্কে রূপার নামকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রিয়তা এই জল্পনাকে আরও জোরদার করেছে। তাই নির্বাচন ফলের পর থেকেই তিনি এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে এবার ভোটে লড়েছিলেন রূপা গাঙ্গুলি। সেখানে তিনি তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্রকে পরাজিত করেছেন বড় ব্যবধানে। এই কেন্দ্রের লড়াই শুরু থেকেই নজর কাড়ে, কারণ দুই পক্ষই এটিকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখেছিল। ফল প্রকাশের পর রূপার জয় শুধু ওই কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা রাজ্য রাজনীতির আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর এই জয় ভবিষ্যতের বড় দায়িত্বের পথ খুলে দিতে পারে। বিজেপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁকে বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। তবে দল এখনও এ বিষয়ে চুপ রয়েছে।

রূপা গাঙ্গুলি শুধু রাজনীতির মুখ নন, অভিনয় জগতেও তিনি অত্যন্ত পরিচিত নাম। ১৯৮৮ সালে বি আর চোপড়ার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ দ্রৌপদীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পৌঁছে যান। এরপর হিন্দি ও বাংলা দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই তিনি দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। ‘গণদেবতা’, ‘চন্দ্রকান্তা’, ‘কানুন’, ‘কস্তুরী’, ‘অগলে জনম মোহে বিটিয়া হি কীজো’-সহ একাধিক জনপ্রিয় প্রজেক্টে দেখা গেছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, বাংলা ছবিতে শ্যাম বেনেগাল ও ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো খ্যাতনামা পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। অভিনয়ে তাঁর সাফল্য তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে।

রাজনীতিতে রূপা গাঙ্গুলির সক্রিয় পথচলা শুরু হয় প্রায় এক দশক আগে। ২০১৪-১৫ সালের সময় থেকে তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে শুরু করেন। ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি মহিলা মোর্চার সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে নবজ্যোত সিং সিধুর ফাঁকা হওয়া আসনে তিনি রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন। ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে জাতীয় রাজনীতিতেও দলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে উঠে আসেন তিনি। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘এই জয়টা ব্যক্তিগত মনে হচ্ছে…’ পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের জয়ে খুশি মিমি চক্রবর্তী! একদা মমতার বাজি মিমিই প্রকাশ্যে বিজেপির প্রশংসায়

২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, রূপা গাঙ্গুলির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯.৪ কোটি টাকা। তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৬.৯৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে কলকাতার টালিগঞ্জে একটি ফ্ল্যাট-সহ একাধিক আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক আমানত, ১.১ কোটির বেশি মিউচুয়াল ফান্ড এবং মাহিন্দ্রা স্করপিও ও হুন্ডাই গ্র্যান্ড আই-১০ গাড়ি। কোনও ঘোষিত দায় বা ঋণের তথ্য নেই। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয় মুখের পরিচিতি এবং নির্বাচনী জয়ের পর এখন রূপা গাঙ্গুলিকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় নেতৃত্বই।

You cannot copy content of this page