জনগণ বা ইভিএম নয়, বাংলায় পদ্ম ফুটিয়েছে মেসি! বিধানসভায় ‘গো-হারা’ তৃণমূল! অরূপ বিশ্বাসের হারের পর লিওনেল মেসির প্রতিক্রিয়া চেয়ে, ভাইরাল অরিত্র দত্ত বণিকের পোস্ট!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বাংলার রাজনীতিতে বড় বদল দেখা গেছে। সেই গুরুতর রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই সমাজ মাধ্যমে উঠে এসেছে এক মজার ব্যাখ্যা, যা দ্রুত নজর কাড়ে নেটিজেনদের। পরিচালক প্রতীম ডি গুপ্তা দাবি করেন, বাংলার সরকার পরিবর্তনের পিছনে ইভিএম, বুথ ম্যানেজমেন্ট বা এক্সিট পোল নয়, বরং দায়ী লিওনেল মেসির কলকাতা সফর। তাঁর পোস্টে রাজনীতির সঙ্গে ফুটবলকে জুড়ে দেওয়া এই রসিকতা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। ভোটের উত্তেজনার মধ্যেও এমন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে অনেকে মজা পান। রাজনীতির কঠিন হিসাবের মাঝে এই পোস্ট যেন অন্য স্বাদের আলোচনার জন্ম দেয়। ফলে বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে।

প্রতীম তাঁর পোস্টে দুটি আলাদা সময়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি লেখেন, ২০১১ সালে মেসি কলকাতায় এসেছিলেন, আর সেই বছরই দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটে। এরপর তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মেসির দ্বিতীয় কলকাতা সফরের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে আবার বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তন হলো। তাঁর ভাষায়, “ইভিএম বা এক্সিট পোল ভুলে যান, মেসিই আসল কারণ। তিনি এমনি এমনি GOAT নন!” যদিও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই দাবি নিছক হাস্যরস হিসেবেই দেখা হয়েছে। তবুও পোস্টটি আলোচনায় উঠে আসে। কারণ রাজনীতির ঘটনাকে এমন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা সচরাচর দেখা যায় না।

তবে অনেকেই মনে করিয়ে দেন, ২০১১ সালে মেসি কলকাতায় আসার আগেই বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিবর্তনের হাওয়া রাজ্যে স্পষ্ট ছিল। ফলে প্রতীমের যুক্তি পুরোপুরি তথ্যনির্ভর নয়, এটা অনেকেই মন্তব্য করেন। কিন্তু তাঁর পোস্টের উদ্দেশ্য ছিল নিছক ব্যঙ্গ ও মজা, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে টালিগঞ্জ কেন্দ্রের ফল নিয়ে আলোচনা বাড়তেই বিষয়টি আরও ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক মেসি-কাণ্ড ও যুবভারতীর বিতর্কও কিছু নেতার ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। সেই জায়গা থেকেই রসিকতার রং আরও গাঢ় হয়।

এই পোস্টের পর আলোচনায় যোগ দেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক। তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, “বাংলার প্রেস খুবই খারাপ, টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের রেজাল্ট ঘোষণা হয়ে গেলো কিন্তু লিও মেসির কোনো প্রতিক্রিয়া নেওয়া হলো না। চক্রান্ত!” তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি টালিগঞ্জ কেন্দ্রের ফল এবং সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে। অরিত্রর পোস্টে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি গোটা ঘটনাকে রসিকতার মোড়কে তুলে ধরেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নেওয়ার প্রবণতাকেও তিনি খোঁচা দিয়েছেন। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই মন্তব্য করেন, এমন রসবোধই এখনকার রাজনীতিতে দরকার।

আরও পড়ুনঃ বাংলার সিংহাসনে এবার ‘দ্রৌপদী’? ২০২৬-এ বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়? আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা, তুমুল চর্চা শুরু রাজনৈতিক মহলে!

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়াও ছিল বেশ মজার। কেউ লিখেছেন, “মেসির বাইট ছাড়া এই খবর অসম্পূর্ণ!” আবার কেউ বলেছেন, “পরের বার ভোটের আগে নেইমারকে ডাকতে হবে।” রাজনীতির মতো গুরুতর বিষয়ে এমন হালকা মেজাজের পোস্ট মানুষকে কিছুটা স্বস্তিও দিয়েছে। টালিগঞ্জ কেন্দ্র, অরূপ বিশ্বাসের হার, আর তার সঙ্গে মেসির নাম জুড়ে গিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। প্রতীম ডি গুপ্তা ও অরিত্র দত্ত বণিকের এই যুগল রসিকতা এখন সমাজমাধ্যমে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সিরিয়াস রাজনৈতিক ফলাফলের মধ্যেও এই ঘটনা এখন চর্চার অন্যতম বিষয়।

You cannot copy content of this page