বাংলা বিনোদন জগৎ এবং রাজনীতির সম্পর্ক নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা গিয়েছে, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন। শুধু সমর্থনই নয়, একাধিক সময় অভিযোগ উঠেছে, যাঁরা সরকারপন্থী নন বা মিছিলে অংশ নেন না, তাঁদের কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও এই অভিযোগ কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবুও বিভিন্ন সময়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বক্তব্যে বা সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে এই ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে বিনোদন জগৎ আর রাজনীতির যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক বরাবরই চর্চায় থেকেছে।
এই আবহেই গতকাল, অর্থাৎ ৪ মে, প্রকাশ্যে আসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। সেখানে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যে এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া। এই পরিবর্তনের হাওয়ায় নিজেদের মতামত জানাতে শুরু করেন বহু মানুষ, যার মধ্যে ছিলেন অভিনেতা তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীও। ফলাফল ঘোষণার পরই তিনি একটি পোস্ট করেন, যেখানে তাঁকে হলুদ শার্টে হাসিমুখে দেখা যায় এবং ক্যাপশনে লেখেন, “ধৈর্য! ধৈর্য বড় জিনিস।”
সায়কের এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। শুধু ছবি পোস্টেই থেমে থাকেননি তিনি, বরং একটি ভিডিওতেও নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে একটি নতুন সূচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ ভালো হোক এই আশাই তিনি ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগের সরকারের সময় যদি কেউ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে না থাকতেন, তাহলে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যেত বলে তাঁর মনে হয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরেই আবার নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে।
তবে সায়কের এই প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে সমালোচনাও কম হয়নি। অনেকেই তাঁর পুরনো ‘গো-মাংস’ বিতর্ক টেনে এনে কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন। কিছুদিন আগে পার্ক স্ট্রিটের একটি নামী রেস্তোরাঁয় মাটন স্টেক অর্ডার করেও ভুলবশত বিফ পরিবেশন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। না জেনেই সেই খাবার খেয়ে ফেলেন সায়ক। পরে বিষয়টি জানাজানি হতেই তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ধর্মভ্রষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয় এবং বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।
আরও পড়ুনঃ “অপয়া” তকমা ‘টলি কুইন’ কোয়েল মল্লিককে! অভিনেত্রী তৃণমূলে যোগ দিতেই ঘাসফুলের পতন, রঞ্জিত কন্যার আগমনকে দায়ী করে হাসাহাসি নেটপাড়ার
এখন সেই ঘটনাকেই নতুন করে সামনে এনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন তখনকার ওই বিতর্ক কি শুধুই একটি দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল? বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সায়কের পোস্ট এবং বক্তব্যকে ঘিরে অনেকেই দাবি করছেন, তিনি হয়তো আগেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকে ছিলেন। আবার তাঁর সমর্থকরাও পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা মতামতকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া ঠিক নয়। সব মিলিয়ে, সায়ক চক্রবর্তীর পোস্ট ঘিরে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চা চলছে, আর সেই আলোচনায় উঠে আসছে বিনোদন জগৎ, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জটিল সমীকরণ।






