২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কাঞ্চন মল্লিক জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আর রাজনীতির ময়দানে নামবেন না। উত্তরপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক হিসেবে ফল ঘোষণার পর নতুন পরিস্থিতি নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন তিনি। কাঞ্চনের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলাম।” তিনি জানান, আগের ভোটে অনেক বেশি ব্যবধানে জয়ী হলেও কাজ করার মতো কোনও অফিস পাননি। উত্তরপাড়ার মাখলার একটি ক্লাবে বসেই পাঁচ বছর এলাকার মানুষের কাজ সামলাতে হয়েছে। তিনি বলেন, “অফিসও পাইনি। সেখান থেকেই সব কাজ করতাম।” নিজের কাজের তালিকাও তিনি মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে জানান।
কাঞ্চনের দাবি, পাঁচ বছরের মেয়াদে তিনি দলের ভিতরে নানা ধরনের আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর কথায়, “মিষ্টি ব্যবহার, খারাপ ব্যবহার, অসহযোগিতা সবই পেয়েছি।” তবু তিনি কোনওদিন প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। কারণ হিসেবে বলেন, “দলীয় কোন্দল সামনে না আসে, তাই চুপ ছিলাম। শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ চেয়ে।” তবে এত অভিজ্ঞতার পরে তাঁর মনে হয়েছে, রাজনীতি তাঁর জায়গা নয়। তিনি বলেন, “আমার পেশা অভিনয় করা। হয়তো আমি বিধায়কপদের যোগ্য নই।” ৩০ বছরের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মনে করেন, শিল্পী হিসেবেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ।
রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন তিনি অনুতপ্ত নন। কাঞ্চনের স্পষ্ট বক্তব্য, “অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত সঠিক বলেই আমার মনে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে এসে এত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়বেন, তা আগে ভাবেননি। তাঁর মতে, “গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না থাকলে এই পরাজয়টা হয়তো হত না।” তবু সময়মতো সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, “এখানে নেই মানে যে ওখানে যাব, সেটাও নয়। আমি কোথাও নেই।” পাঁচ বছরের দায়িত্ব পালন শেষে “মাথা উঁচু করে শিরদাঁড়া সোজা করে বেরিয়ে এসেছি” বলেও দাবি করেন কাঞ্চন।
ভোটের ফলের পর বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষের জয়েও খুশি তিনি। অভিনয় জীবনের দীর্ঘ পথচলায় দু’জনের সম্পর্ক বহু দিনের। কাঞ্চন বলেন, “রুদ্রও রাজনীতির শিকার। প্রায় বয়কট করা হয়েছে ওকে। কাজের ক্ষেত্রে বাধা পেয়েছে। এত কিছুর পরেও ও নিজের জায়গা ছাড়েনি।” অন্য দিকে, আর এক বন্ধু রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে সাম্প্রতিক কাদা ছোড়ার ঘটনারও বিরোধিতা করেছেন তিনি। কাঞ্চনের কথায়, “একটা মানুষ সবসময় কি প্রথম হবে? সম্ভব?” তিনি আরও বলেন, “আপনার আনন্দ যেন কারও নিরানন্দের কারণ না হয়, এটা ঠিক নয়।” এখন রাজনীতি থেকে দূরে থেকে অভিনয়েই মন দিতে চান তিনি।
আরও পড়ুনঃ মারলেন পাল্টি! “আমি তৃণমূলপন্থী নই, আমার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই” মমতার পরাজয়ের পর, সুর বদল কবীর সুমনের? ১৫ বছরের সম্পর্ক উড়িয়ে বি’স্ফোরক দাবি!
৬ মে কাঞ্চনের জন্মদিন। তাই রাজনৈতিক হারজিত নয়, এখন তাঁর বাড়িতে শুধুই উদ্যাপনের আবহ। স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ জানিয়েছেন, “মেয়ে অসুস্থ ছিল। তাই খুব বেশি কিছু পরিকল্পনা করিনি। বাড়িতে ওর প্রিয় পদ রান্না করব।” কাঞ্চনের প্রিয় খাবার রান্না করে জন্মদিনের থালা সাজানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। কথোপকথনের সময় শ্রীময়ীও পাশে ছিলেন। প্রসঙ্গ ওঠে অভিনেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের, যিনি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। শ্রীময়ী বলেন, “শর্বরীদির সঙ্গে যোগাযোগ আছে। ২০২১ সালে কাঞ্চন জেতার পর বলেছিলাম তুমি কেন এখনও ওই দলে আছ।” তিনি আরও যোগ করেন, “শর্বরীদি ঘোষিত বিজেপি ছিল বরাবরই। দাঁতে দাঁত চেপে পড়েছিল। দলের হয়ে পরিশ্রম করেছিল। অবশ্যই শুভেচ্ছা জানাব।”






