বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ শিবপুর কেন্দ্রে বড় জয় নিয়ে নতুন করে আলোচনায় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক রুদ্রনীল ঘোষ। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই কেন্দ্রে তিনি ১৬ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। ফল ঘোষণার পর নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রুদ্রনীল বলেন, “জিতে নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছিলাম। আমার হাওড়া আমায় জিতিয়ে ফেরাল। পদ্মফুল, ফুলের মালায় প্রায় ঢাকা পড়ে যাওয়ার দশা। মানুষ উৎসব করছেন!” তিনি জানান, গভীর রাত পেরিয়ে বাড়ি ফিরলেও বিশ্রামের সুযোগ পাননি। তাঁর কথায়, “অনেক বছর পরে এই ব্যস্ততা। কাউন্টিংয়ের আগে থেকে সেই ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। বিশ্রাম নিতে পারিনি, সময়ও পাইনি।
পরিস্থিতি বলছে, বিশ্রাম নেওয়ার সময় এটা নয়।” জয়ের আনন্দের মাঝেও তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। রুদ্রনীল বলেন, এই ফল পুরোপুরি হঠাৎ নয়, আগেই তিনি মানুষের মনোভাব বুঝতে পেরেছিলেন। তাঁর দাবি, “বরাবর যে কোনও কিছুর তৃণমূলস্তরে পৌঁছে যাই। মানুষের সঙ্গে গভীরে মিশি। তাই কিছুটা বুঝতে তো পেরেছিলাম।” তিনি জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে ছিল। নাগরিক পরিষেবা না পাওয়া, অভিযোগ জানালে হুমকি বা খারাপ ব্যবহার পাওয়ার মতো নানা সমস্যায় মানুষ বিরক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, “প্রতি মুহূর্তে নাগরিকজীবন কতটা তেতো, কতটা বিরক্ত উপলব্ধি করেছিলাম।”
শুধু শিবপুর নয়, গোটা বাংলায় একই ছবি দেখা গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে তাঁর মত। এই প্রসঙ্গে তিনি টলিউড পরিচালক ও বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর কথাও তোলেন। রুদ্রনীল জানান, ফলের পর শুনেছেন রাজ অপমানিত হয়েছেন এবং তাঁর গায়ে কাদা ও গোবরজল ছোড়া হয়েছে। তিনি বলেন, “পেশাদুনিয়ায় আমাদের যাত্রা শুরু একসঙ্গে।” তবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “রাজ এতটাই গুণী যে, ওর কোনও প্রয়োজন ছিল না, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দুরবস্থার জন্য যে দলকে দুষছেন, তার সঙ্গে নিজেকে জড়ানো।”
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, মানুষের রাগ রাজের ব্যক্তিগত উপর নয়, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের উপর। রুদ্রনীলের কথায়, “রাজ চক্রবর্তীর উপরে কিন্তু নয়। রাজ চক্রবর্তীর পছন্দের উপরে।” তিনি আরও বলেন, বন্ধু হলেও প্রত্যেকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেন। টলিউডে কাজের পরিবেশ নিয়ে রুদ্রনীল বড় দাবি করেছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক মত আলাদা হওয়ায় অতীতে রাজ চক্রবর্তীর কাজেও তাঁকে নেওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, “অন্য রাজনৈতিক দল করি বলে, কোনও একটি নির্দেশ মেনে ও আমাকে সেই ছবি বা সিরিজ়ে নিতে পারেনি। এটাও তো ঘটনা।”
তবে ভবিষ্যতে কাজের দরজা খোলা থাকবে বলেই আশ্বাস দেন তিনি। বলেন, “আমি কোনও মানুষকে তার রাজনৈতিক পরিচয় দেখে বিচার করি না।” আরও যোগ করেন, “যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাবেন সবাই। অভিনেতা থেকে সাংবাদিক কারও উপরে কোনও ভাবেই আর খবরদারি ফলানো হবে না।” কে অভিনয় করবেন, কে করবেন না, সাংবাদিক কতটা লিখবেন, এমন নিয়ন্ত্রণ আর চলবে না বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, টলিউডে বহুদিন ধরে চলা ‘ব্যান সংস্কৃতি’ এবার শেষ হবে। রুদ্রনীল আরও বলেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেনদের মতো যাঁদের এতদিন ‘নিষিদ্ধ’ বলা হত, তাঁদের ক্ষেত্রেও বাধা থাকবে না।
আরও পড়ুনঃ “সব জেনেও চুপ ছিলাম, দল ভাঙুক চাইনি…মাথা উঁচু করে শিরদাঁড়া সোজা রেখে বেরিয়ে এসেছি” খারাপ ব্যবহার, অসহযোগিতা পেয়েও মুখ খোলেননি! জন্মদিনেই তৃণমূলের বিবাদ ফাঁস করলেন কাঞ্চন?
তাঁর মন্তব্য, “কোন দলের প্রতিনিধির আঙুলের ইশারায় এই কাজগুলো হত, সকলেই জানেন। সেই দলই যদি না থাকে, তা হলে এই সব বাধাও থাকবে না।” একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তাকেও একসময় কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়াননি। তবু প্রতিশোধের পথে না গিয়ে তিনি চান সবাই কাজ পাক। পাশাপাশি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু তদন্ত নিয়েও তিনি সরব হন। রুদ্রনীল বলেন, “এক মাস হয়ে গেল রাহুলের মৃত্যু হয়েছে। কাউকে গ্রেফতার হতে দেখেছেন?” তাঁর দাবি, এবার সেই তদন্ত এগোবে এবং “সব অন্যায়ের বিচার হবে ধীরেসুস্থে।”






