পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ফলাফলের পর নতুন বিতর্কে জড়ালেন কবীর সুমন ও তসলিমা নাসরিন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন দাবি করেন, তিনি আসলে তৃণমূলের সদস্য নন, এমনকি তৃণমূলপন্থীও নন। তাঁর কথায়, “আমি তো তৃণমূলের মেম্বার নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় জোর আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এতদিনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি কেন এখন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। সেই আবহেই লেখিকা তসলিমা নাসরিন সরাসরি আক্রমণ শানান। তাঁর পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
তসলিমা নাসরিন নিজের ফেসবুক পোস্টে কবীর সুমনের পুরনো বক্তব্য তুলে ধরে কড়া প্রশ্ন করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, কবীর সুমন একসময় বলেছিলেন, “আজ থেকে ৩০০ বছর পর মমতার নামে পুজোআচ্চা হবে, মন্দিরও হবে।” এই মন্তব্য উল্লেখ করে তসলিমার প্রশ্ন, এমন কথা বলার জন্যও কি কেউ তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন? তিনি ব্যঙ্গের সুরে লেখেন, “মমতার নামে মন্দির হবে বলেছিলেন, ওটাও কি হাতে-পায়ে ধরায়?” তাঁর দাবি, যদি কেউ জোর করে রাজনীতিতে আনেন, তা হলেও এত বাড়াবাড়ি প্রশংসার ব্যাখ্যা থাকা দরকার। এই মন্তব্য সামনে আসতেই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়।
শুধু ওই মন্তব্য নয়, তসলিমা আরও কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে কবীর সুমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচারমূলক গান করেছিলেন। করোনা পরিস্থিতির সময়ও তিনি মমতার কাজের প্রশংসা করে গান গেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একটি বিশেষ ‘রাগ’ তৈরি করে খেয়াল গাওয়ার কথাও তোলেন তসলিমা। পাশাপাশি ‘মমতার জন্য’ নামে আলাদা গান লেখার বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর প্রশ্ন, “এত গান লেখা এবং গাওয়ার জন্য কি কেউ তাঁকে হাতে-পায়ে ধরেছিল?” এই মন্তব্যে বিতর্ক আরও বেড়ে যায়।
তসলিমা আরও কটাক্ষ করে লেখেন, “মাথায় একটা সাদা গোল টুপি পরে যে ঘোষণা করেছিলেন মমতার মন্দির হবে, ওই টুপিটা পরার জন্য কে বা কারা তাঁর হাতে-পায়ে ধরেছিল, জানতে পারি?” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। শেষের দিকে ব্যঙ্গ করে লেখেন, “মজার তো! হাতে-পায়ে ধরলেই কাজ হয়ে যায়!” এরপর আরও যোগ করেন, “কেউ যদি হাতে-পায়ে ধরে বলে তুই তো কমিউনিস্ট ছিলি, হাতে-পায়ে ধরেছিল বলে তৃণমূল হয়েছিলে, এবার হাতে-পায়ে ধরলে তুই তো ঠিক বিজেপি হয়ে যাবি, তাই না?” এই মন্তব্যে তিনি কবীর সুমনের রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কবীর সুমন একই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতেই তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, “তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির মেম্বার ছিলাম না। আমার ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্র আমি পদত্যাগ করি।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, “আমি এবার তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই অনেকের ধারণা, তিনি আবার বামপন্থার দিকে ঝুঁকছেন। সেই কারণেই তসলিমার পোস্টকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিতর্ক এখন আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।






