রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন দেব? তৃণমূল হেরে যেতেই বড় সিদ্ধান্ত টলিউড মেগাস্টারের! “আর জড়াতে চাই না, অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই”, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বললেন সাংসদ-অভিনেতা?

বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে মুখ খুললেন সাংসদ-অভিনেতা দেব। দলের পরাজয়ে তিনি কষ্ট পেলেও রাজ্যের পরিবর্তনকে অন্য দৃষ্টিতে দেখছেন। বিশেষ করে টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। দেব বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের উপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠু ভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে।” তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “যদি তৃণমূল কংগ্রেসের করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”

তাই নতুন শাসকদলের উদ্দেশে তাঁর অনুরোধ, “ইন্ডাস্ট্রিকে বুঝে তার পাশে এসে দাঁড়ালে বেঁচে যাবে বাংলা ছবির দুনিয়া।” নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে লড়াই করেছেন বলেও দাবি করেন দেব। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যাগুলি চলছিল, এবার সেগুলির সমাধানের সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, “বরাবর ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল চেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের অনেক আগে থেকে আমার লড়াই শুরু। ভাল লাগছে, সেই লড়াই অবশেষে সফল হল।” তিনি আরও জানান, সামনে থেকেও না হোক, পিছন থেকে সবসময় শিল্প জগতের পাশে থাকবেন।

দেবের কথায়, “যিনি বা যাঁরা ইন্ডাস্ট্রির ভাল চাইবেন, নেপথ্যে থেকে আমি সব সময়ে তাঁদের পাশে।” ফেডারেশন সভাপতির পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি স্পষ্ট জানান, “আর রাজনীতিতে বেশি জড়াতে চাই না। আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই। এটাই বরাবর করে এসেছি।” ফল ঘোষণার দিন ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধাক্কা আসে দেবের জীবনে। সেদিনই মারা যায় তাঁর প্রিয় পোষ্য লাকি। সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। দেব বলেন, “লাকির মৃত্যু আচমকা।

সকালে কাজে বেরোনোর সময়েও সুস্থ দেখেছিলাম। রাতে এসে শুনলাম, সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। হঠাৎ চলে গেল। খুব ধাক্কা খেয়েছিলাম।” তিনি আরও বলেন, “এই যন্ত্রণা বলে বোঝানোর নয়। যাঁরা পোষ্যপ্রেমী, কেবল তাঁরাই বুঝবেন আমার কষ্ট।” যদিও তিনি স্পষ্ট করে দেন, কুসংস্কারে তিনি বিশ্বাসী নন। পোষ্যের মৃত্যু কোনও অশনি সংকেত ছিল বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে দলের হারও তিনি আগে বুঝতে পারেননি। এখন ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিচ্ছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, “দেখুন, অনেক কিছু মেনে নিতে হয়, মানিয়ে নিতে হয়। আমিও সেটাই করছি।”

রাজ্যে গুঞ্জন উঠেছিল, দেব নাকি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। এই প্রশ্ন উঠতেই তিনি হেসে উড়িয়ে দেন সেই জল্পনা। পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “এ সব কথা কারা ছড়ায়? মনে হয়, এই ধরনের রাজনীতিতে দেব বিশ্বাসী?” এরপর তিনি পরিষ্কার করে বলেন, “রাজনীতি না করলে জীবনধারণ করতে পারব না, এ রকম অবস্থা তো আমার নয়!” আরও যোগ করেন, “আমি তো রাজনীতি করতেই চাইনি। দিদি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে রাজনীতিতে এসেছি। ফলে, রাজনীতি না করলে আমার দিন চলবে না, এ রকম যাঁরা ভাবছেন, তাঁরা ভুল।”

অর্থাৎ রাজনীতি তাঁর পেশা নয়, জীবনের প্রধান পরিচয়ও নয়, এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন অভিনেতা-সাংসদ। টলিউডে রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও তিনি সব পক্ষের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানান দেব। তাঁর কথায়, “মিঠুনদা আর আমার ছবি ‘প্রজাপতি’ নন্দনে আটকে দেওয়া হয়েছিল। ওই দিনই ঘোষণা করেছিলাম, মিঠুনদাকে নিয়ে ‘প্রজাপতি ২’ করব।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “রূপাদি, রুদ্র, সোহিনী, অনির্বাণ ‘ব্যান’ ছিলেন। একমাত্র আমি প্রত্যেককে নিয়ে কাজ করেছি। কারণ, আগে আমি অভিনেতা, টলিউডের অংশ।

আরও পড়ুনঃ মোটা ফ্রেমের চশমা, বড় বড় দাঁত…ভয়াবহ চেহারা নিয়েই জিতবে মন! ডান্স বাংলা ডান্সের প্রতিযোগী এবার ‘বাবলি সুন্দরী’, ভাঙতে আসছেন চিরাচরিত সৌন্দর্যের ধারণা! প্রকাশ্যে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিকের নজরকাড়া প্রোমো! চেনেন এই নায়িকাকে? বিপরীতে নায়ক কে?

পরে রাজনীতিবিদ।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমি কোনও দিন টলিউডে রাজনীতি করিনি। সে কথা ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেকে জানে।” ইম্পা নিয়ে চলা বিতর্কে তিনি বলেন, “আমি এই প্রথম নিরপেক্ষ থাকব। পিয়াদির সঙ্গে যা হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। একই ভাবে এই সকল প্রযোজক এত দিন বঞ্চিত ছিলেন। তাঁরা তো এ বার ন্যায্য অধিকার পেতে চাইবেনই।” শেষে অতীতের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, “কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়দের মতো আমাকেও ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাস। আমি শুনিনি। তার জন্য কম হেনস্থা সহ্য করতে হয়েছে?”

You cannot copy content of this page