“ধান্দাবাজ, বারাকপুরে সিনেমায় ঢোকানোর ব্যবসা খুলে বসেছিল…” ভোটে হারতেই রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে বি’স্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল নেতার! কাদা ছোড়া ও ‘চোর’ স্লোগানের পর, আরও বড় ধাক্কা! দলীয় কোন্দলের জেরে সামনে এল পরিচালককে নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য?

বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর বারাকপুরে তৃণমূলের বড় ধাক্কার জেরে দলীয় অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। একসময় ঘাসফুল শিবিরের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত বারাকপুর মহকুমায় এবার পদ্ম ফোটার ছবি স্পষ্ট হয়েছে। বারোটি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র কামারহাটি ধরে রাখতে পেরেছে তৃণমূল, বাকি জায়গায় বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে। এই আবহেই বিদায়ী বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন দলের প্রবীণ নেতা তথা বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস। তিনি সরাসরি রাজকে আক্রমণ করে বলেন, “রাজ বারাকপুরে সিনেমায় ঢোকানোর ব্যবসা খুলে বসেছিল।”

নির্বাচনী ফলের পর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন চর্চা শুরু হয়েছে। দলের পরাজয়ের দায় নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একুশের নির্বাচনে বারাকপুর কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন রাজ চক্রবর্তী। কিন্তু এবার তিনি নিজের আসন ধরে রাখতে পারেননি। বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে প্রায় ১৬ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এই ফলের পরই দলের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। উত্তম দাস রাজকে কার্যত বহিরাগত নেতা বলেই কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, “পাঁচ বছর ধরে রাজনীতি নয়, এলাকায় সিনেমাতে লোক ঢোকানোর ব্যবসা চালিয়েছেন রাজ।”

তিনি মনে করেন, স্থানীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার বদলে অন্য কাজে বেশি সময় গিয়েছে। সেই কারণেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও তাঁর ইঙ্গিত। উত্তম দাস আরও কড়া ভাষায় বলেন, “রাজ আসলে রাজনীতির সঙ্গে সিনেমা গুলিয়ে ফেলেছিলেন। উনি এখানে সিনেমা করতে এসেছিলেন।” এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, “খালি টাকা নিয়ে একে ঢোকাব, ওকে ঢোকাব, এই বিধায়ককে ঢোকাব, ওই সাংসদকে ঢোকাব, সিনেমাতে ঢোকানোর একটা ব্যবসা খুলে বসেছিল কার্যত।” তাঁর মতে, একজন জনপ্রিয় পরিচালক হিসেবে রাজের পরিচিতি থাকলেও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে সেই ভাবমূর্তি কাজে লাগেনি।

বরং সংগঠনের কাজে তার প্রভাব পড়েছে। বারাকপুরে দলের খারাপ ফলের পিছনে এটাকেই বড় কারণ বলে দাবি করেন উত্তম দাস। দলের পুরনো কর্মীদের অবহেলার অভিযোগও সামনে এনেছেন তিনি। উত্তম দাস বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে যাঁরা দল করছেন, তাঁদের বেশিরভাগই বঞ্চিত।” তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যারা মাঠে নেমে কাজ করেছেন, তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং নতুনদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০১৯ থেকে ‘২০ সালে যারা এসেছে, তারাই নেতৃত্ব দেবে, এই সংস্কৃতি মানুষ মেনে নেয়নি।” স্থানীয় স্তরে এই অসন্তোষ ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “এই তো সেদিনের কথা…পিছন ফিরে তাকালে বুঝতে পারি…” রাজ্যে ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার মাঝেই স্মৃতিসাগরে ডুব রাজা গোস্বামীর! ১৬ বছর আগের কোন কথা মনে করালেন মধুবনী? কী নিয়ে ফের চর্চায় ‘ভালোবাসা ডট কম’-এর ‘ওম-তোড়া’ জুটি?

পুরনো কর্মীদের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। রাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন উত্তম দাস। তিনি বলেন, “ও রাজনৈতিক লোক নয়। ধান্দাবাজ লোক। ধান্দা করতে এসেছিল। মানুষ সেটা মেনে নেয়নি।” ফল ঘোষণার দিনও রাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। গণনাকেন্দ্রের বাইরে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে বলে জানা যায়। পাশাপাশি তাঁর দিকে কাদা ও জুতোও ছোড়া হয়। তবে সেই সময় তিনি সংযত থাকেন এবং হাসিমুখে কেন্দ্র ছাড়েন। এখন দলেরই এক প্রবীণ নেতার এই বিস্ফোরক মন্তব্যে বারাকপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page