বুধবার রাতেই রাজ্যের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়ায় মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর খবরে। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পরিবার, দলীয় সহকর্মী এবং শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী মাফিনও। তিনি জানান, খুব বেশি দিনের পরিচয় না হলেও চন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আন্তরিক। ঘটনার ঠিক আগে তাঁর সঙ্গে শেষবার যোগাযোগের চেষ্টার কথাও সামনে এনেছেন অভিনেত্রী। সেই কথাই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মাফিন জানান, নির্বাচনের প্রায় দেড় মাস আগে তাঁর সঙ্গে চন্দ্রনাথের পরিচয় হয়। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই তাঁদের যোগাযোগ বাড়ে। অভিনেত্রীর কথায়, “আসলে শুভেন্দু স্যর ও চন্দ্রনাথ খুবই ঘনিষ্ঠ। একে অপরের ছায়াসঙ্গী বলা যায়। স্যরের সঙ্গে সব সময়ে থাকতেন।” তিনি আরও বলেন, “ভীষণ নিয়ম মেনে চলা মানুষ। তবে অল্প কথা বলতেন।” অল্প সময়ের পরিচয় হলেও চন্দ্রনাথের ব্যবহার তাঁকে মুগ্ধ করেছিল বলে জানান মাফিন। তাঁর মতে, দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন তিনি। তাই আচমকা এই মৃত্যুসংবাদ এখনও মেনে নিতে পারছেন না অভিনেত্রী।
ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির হয়ে প্রচারে গিয়ে চন্দ্রনাথের কাছ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছিলেন বলেও জানান মাফিন। তিনি বলেন, “ভোটের আগে যখন পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির হয়ে প্রচারে গিয়েছিলাম, আমার ক’টা গাড়ি লাগবে, কোন হোটেলে থাকব, সব কিছু চন্দ্রদা দায়িত্ব নিয়ে ব্যবস্থা করেছেন।” দলীয় কর্মসূচির নানা বিষয়ে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে সব সামলাতেন বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী। মাফিনের কথায়, কাজের প্রতি চন্দ্রনাথের নিষ্ঠা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি খুব বেশি কথা না বললেও দায়িত্ব পালনে কখনও ফাঁকি দিতেন না। তাই দলের অন্দরে তাঁর আলাদা গুরুত্ব ছিল বলেও মনে করছেন অনেকে।
মাফিন জানান, যে সময় চন্দ্রনাথের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে, তার প্রায় আধ ঘণ্টা আগে তিনি তাঁকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখন তাঁকে আরও কষ্ট দিচ্ছে। অভিনেত্রী বলেন, “বুধবার রাতে আমি ওঁকে মেসেজ পাঠাই, আমি বিজেপি অফিসে গিয়েছিলাম, সেটা জানাতেই।” তিনি আরও বলেন, “আসলে দাদা তো নিজাম প্যালেসেই বেশির ভাগ থাকতেন। খুবই ভদ্রলোক ছিলেন।” তারপর আক্ষেপের সুরে মাফিন বলেন, “আফসোস হচ্ছে, দাদার কাছ থেকে আর উত্তরটা পেলাম না!” এখন তাঁর মনে হচ্ছে, তিনি যখন মেসেজ পাঠাচ্ছিলেন, তখনই হয়তো ঘটনাটি ঘটে গিয়েছিল। সেই কারণেই আর কোনও জবাব আসেনি।
আরও পড়ুনঃ “ঘৃণা উস্কে দেওয়াটাও বুলে’টের মতোই ভয়ঙ্কর…” রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিং’সাত্মক পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া ঋদ্ধি সেনের! বাংলার অশান্ত সময় দেখে, বঙ্গবাসীকে সংযমের বার্তা দিয়ে কী বললেন অভিনেতা?
চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়েও উদ্বিগ্ন মাফিন। তিনি জানান, ৪ মে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে চন্দ্রনাথ খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “পুরো কলকাতার দায়িত্ব ছিল ওঁর উপর। উনিই সবটা দেখতেন।” তিনি আরও বলেন, “শুভেন্দু স্যর কত লড়াই করে জায়গাটা পেয়েছেন। তাঁর জীবনের আনন্দের দিনে এমন একটা শোক!” শেষে মাফিন বলেন, “আমরা ভাবতেই পারছি না, তাঁর উপর দিয়ে কী যাচ্ছে?” ইতিমধ্যেই চন্দ্রনাথের মরদেহ পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বাড়ির দিকেই রওনা দিয়েছেন মাফিনও।






