“হেরেছেন বলে রাজনীতি ছাড়লেন, পেনশনও ছাড়বেন তো?” নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মুখে ‘কাদা’ মেখে বিদায় ঘোষণা আত্মবিশ্বাসী বিধায়কের! এবার নাম না করেই, রাজ চক্রবর্তীকে খোঁচা দিয়ে কী বললেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেস এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৪ মে ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস থামে ৮০ আসনে। এই ফলের পর একাধিক তারকা নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সেই আবহেই অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তবু অনেকেই মনে করছেন পোস্টটি সাম্প্রতিক ঘটনাকেই লক্ষ্য করে লেখা।

ফলে বিনোদন জগত এবং রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজের পোস্টে জয়জিৎ লেখেন, “আচ্ছা যে এমএলএ-রা হেরেছে আর দল ছেড়ে দিচ্ছে, রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছে, তারা কি পেনশন আর সুযোগ সুবিধাও ছেড়ে দেবেন? জানতে মন চায়।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বহু নেটিজেন পোস্টের নিচে নিজেদের মতামত জানান। অনেকে তাঁর কথার সঙ্গে সহমতও প্রকাশ করেন। যদিও জয়জিৎ কাউকে সরাসরি আক্রমণ করেননি, তবু রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটে হেরে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করা কিছু নেতাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

বিশেষ করে যাঁরা আগে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের প্রসঙ্গই সামনে এসেছে। ফলে পোস্টটি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। জয়জিতের পোস্টে এক নেটিজেন লেখেন, “কি মনে হচ্ছে আপনার?? অভিনেতা – জননেতা, এরা তো আপনার সহকর্মী। আমাদের থেকে আপনি ওনাদের আরো ভালো করে চেনেন।” আরেকজনের মন্তব্য, “ওইগুলো পাবে ভেবেই তো লোভে পরে এসেছিল… হারুক আর জিতুক ভবিষ্যত ঠিক মতো গুছিয়ে নিয়েছে।” অন্য একজন লেখেন, “কাটমানির চার আনা ছাড়েনি কোনো দিন, এরা পেনশন সমেত যা যা পাবার সব ষোল আনা নেবে। পরে পাল্টিটাতেও নজর থাকবে সুবিধামতো।” আরও একটি মন্তব্যে বলা হয়, “সুযোগ নিতেই দলে গিয়েছিল।

দল ক্ষমতায় নেই দেখে দল ছাড়ছে। সুযোগ সন্ধানীরা কী মনে হয় বিপুল পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা ছাড়বে? তারা তো জনসেবা করতে গিয়েছিল। কী যে জনসেবা করল জানা নেই।” এই সব মন্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এদিকে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে হেরে যান পরিচালক ও বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। গণনা কেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় তাঁর দিকে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর তিনি নিজের ফেসবুক পেজ ডি-অ্যাক্টিভেট করে দেন। পরে বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি।

রাজ লেখেন, “জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি৷ এক জন পরিচালক হিসাবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সব সময়ে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও হেরেছি। কখনও জিতেছি।” তিনি আরও লেখেন, “২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ৷ মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পাঁচ বছর ধরে সেই ভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি।” রাজ তাঁর বার্তার শেষে জানান, “সেই অধ্যায় শেষ হল ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হল আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।”

আরও পড়ুনঃ “যাদবপুর এলাকা তো বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হয়েছে” ভোট জিততেই প্রবীণদের অবস্থা দেখে ব্যথিত শর্বরী মুখোপাধ্যায়! মা-বাবা আর পরিবারহারাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার, সব কষ্ট চিরতরে মুছে ফেলতে চান অভিনেত্রী-বিধায়ক! দিতে চান কোন বড় উপহার?

অন্যদিকে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকও ভোটের টিকিট না পাওয়ার পর নীরব থাকলেও, ফল প্রকাশের পরে দলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ না থাকলে এমন ফল নাও হতে পারত। কাঞ্চন আরও জানান, রাজনীতির চেয়ে অভিনেতা হিসেবেই তিনি নিজেকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন। ফলে নির্বাচনের পরাজয়ের পর তারকা মহলে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরির ছবি আরও স্পষ্ট হয়েছে। জয়জিতের পোস্ট সেই আলোচনাকেই নতুন মাত্রা দিয়েছে।

You cannot copy content of this page