বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বহুমুখী অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya)। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা সর্বত্র নিজের অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। হাসির চরিত্র হোক কিংবা আবেগঘন দৃশ্য, সব ক্ষেত্রেই সমান সাবলীল অপরাজিতা। তবে শুধু অভিনয় নয়, ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও তিনি বরাবরই আলাদা। স্পষ্ট কথা স্পষ্টভাবে বলতেই পছন্দ করেন এই অভিনেত্রী। তাই টলিপাড়ায় অনেকেই তাঁকে “ঠোঁটকাটা” অভিনেত্রী বলেই চেনেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আবারও নিজের অকপট স্বভাবের পরিচয় দিলেন তিনি।
অভিনয় জীবনে বহু বছর কাটিয়ে ফেলেছেন অপরাজিতা আঢ্য। বাংলা সিরিয়াল, সিনেমা, ওটিটি সব মাধ্যমেই সমান সফল তিনি। দর্শকদের কাছে তিনি যেমন একজন দক্ষ অভিনেত্রী, তেমনই একজন প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবেও পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও অত্যন্ত পারদর্শী অপরাজিতা। তাঁর নিজের একটি নাচের স্কুলও রয়েছে, যেখানে বহু ছাত্রছাত্রী প্রশিক্ষণ নেয়। তবে এত সাফল্যের পরেও মাটির কাছাকাছি থাকতেই ভালোবাসেন অভিনেত্রী। আর সেই কারণেই নিজের অনুভূতি বা মতামত লুকিয়ে রাখতে তিনি কখনওই পছন্দ করেন না। কোনও বিষয় ভুল মনে হলে সরাসরি সেটাই বলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিনোদন জগতে কাউকেই তিনি ভয় পান না। কিন্তু তারপরই এমন দু’জন মানুষের নাম করেন, যা শুনে অবাক হয়েছেন অনেকেই।
অপরাজিতা জানান, তিনি নাকি সবচেয়ে বেশি ভয় পান অভিনেতা শান্তিলাল মুখার্জি এবং খরাজ মুখার্জিকে। যদিও এই ভয় কোনও নেতিবাচক কারণে নয়, বরং তাঁদের প্রতি আলাদা শ্রদ্ধা ও সংকোচ থেকেই। অভিনেত্রীর কথায়, কোনও সিনেমা বা শুটিংয়ের প্রস্তাব যদি তিনি করতে না চান, তাহলে এই দুই অভিনেতার মুখের ওপর সরাসরি “না” বলতে পারেন না। বরং তাঁদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। বারবার ফোন ধরতে না চাওয়া, লুকিয়ে থাকা এমন মজার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি শেয়ার করেছেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তি শুনে অনুরাগীদের অনেকেই মজা পেলেও, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে এই তিন তারকার সম্পর্ক কতটা আন্তরিক, সেটাও স্পষ্ট হয়েছে।
অপরাজিতা আঢ্য, শান্তিলাল মুখার্জি এবং খরাজ মুখার্জি একসঙ্গে একাধিক জনপ্রিয় বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের জনপ্রিয় ছবি হামি-তে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাঁদের। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে তাঁদের অভিনয় দর্শকদের খুবই পছন্দ হয়েছিল। এছাড়াও প্রজাপতি বিস্কুট ছবিতে অপরাজিতা ও শান্তিলাল মুখার্জিকে একসঙ্গে দেখা যায়। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ছবি ‘বগলা মামা যুগ যুগ জিও’-তে আবার খরাজ মুখার্জির সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন অপরাজিতা। এই ছবিগুলোর মাধ্যমে তাঁদের বন্ধুত্ব এবং বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে বলেই মনে করেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ “আমি নাম করিনি, কিন্তু সুযোগ তৈরি করেছি!” অজয় চক্রবর্তী ও কৌশিকী চক্রবর্তীর পরিচয়ের ছায়ার সঙ্গে লড়াই, বাবা-দিদির জনপ্রিয়তাই কাল হয়েছে তাঁর জীবনে? গ্রিনরুমে ঢুকতে বাধা থেকে প্রেম বিতর্ক, নিজের পরিচয় নিয়ে বি’স্ফোরক অনঞ্জন চক্রবর্তী!
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কাজ করলেও, কিছু সম্পর্ক যে বিশেষ জায়গা দখল করে নেয়, অপরাজিতার এই কথাতেই যেন তার প্রমাণ মিলেছে। তিনি যেভাবে মজা করেই নিজের “ভয়”-এর কথা বলেছেন, তা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, এটি আসলে সহকর্মীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং সম্মানেরই অন্য প্রকাশ। টলিউডে যেখানে সম্পর্ক নিয়ে নানা বিতর্ক শোনা যায়, সেখানে অপরাজিতা আঢ্যর এই সহজ-সরল স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করল, তিনি বাস্তব জীবনেও ঠিক ততটাই প্রাণখোলা মানুষ, যতটা তাঁকে পর্দায় দেখা যায়।






