রাজনীতি এড়িয়ে চলা জিৎ, সাত সকাল সাদা পাঞ্জাবিতে হাজির ব্রিগেডে! তৃণমূল নয় বিজেপিকেই নীরব সমর্থন করতেন জিৎ? তবে কি নতুন সরকার আসতেই বদলালেন অবস্থান? গেরুয়া শিবিরে সুপারস্টারের নীরব সমর্থন ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে!

ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এদিন তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। মঞ্চে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী, যাকে ঘিরে শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আলোচনা। সেই অনুষ্ঠানে টলিউডের একাধিক মুখকে ঘিরে কৌতূহল ছিল আগেই। কারণ রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের আবহে বহু শিল্পী নানা সময়ে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। তবে সবাইকে ছাপিয়ে নজর কাড়েন টলিউড সুপারস্টার জিৎ। তিনি এদিন সাদা পাঞ্জাবি এবং সানগ্লাস পরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এটি কি শুধুই উপস্থিতি নাকি রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত।

জিৎ বরাবরই নিজেকে রাজনীতির বাইরে রেখেছেন বলে পরিচিত। টলিউডে প্রায় ২৩ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি সাধারণত রাজনৈতিক মঞ্চ বা দলীয় অনুষ্ঠানে দেখা দেননি। ইন্ডাস্ট্রির নানা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা ফোরামের আলোচনাতেও তাঁকে খুব একটা অংশ নিতে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজের কাজ এবং সিনেমা নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন। টলিউডের অন্দরে প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলেও তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। বরং নীরব অবস্থান বজায় রেখেছেন বহু বিতর্কে। সেই কারণেই ব্রিগেডের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি অনেককেই অবাক করেছে। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিন ব্রিগেডে জিৎকে দেখা যায় সম্পূর্ণ সাদা পোশাকে, চোখে রোদচশমা এবং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করতে। অনুষ্ঠানের ভিড়ের মধ্যেও তাঁর উপস্থিতি আলাদা করে নজর কেড়ে নেয়। ক্যামেরা এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি বারবার তাঁর দিকেই ঘুরে যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তাঁর ছবি ও ভিডিও। অনেকেই এই উপস্থিতিকে রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কেউ আবার মনে করছেন এটি শুধুই আমন্ত্রণ রক্ষার্থে উপস্থিতি। তবে কোনও পক্ষ থেকেই এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে দিন দিন।

টলিউডে অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা নতুন ঘটনা নয়। এর আগে দেব, সোহম চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়দের মতো একাধিক মুখ রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। কেউ শাসকদলে, কেউ বিরোধী শিবিরে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। ফলে ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের রাজনৈতিক যোগ নিয়ে আগ্রহ বরাবরই বেশি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে সেই আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের পরাজয়ের পর বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিল্পীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই জিতের উপস্থিতিকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুনঃ “আইপ্যাক-এর পেজ ম্যানেজার কি ভয়ে পালিয়েছে নাকি মন্দারমণিতে?” শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্যাভিষেকের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রোফাইলে লেখা ‘মুখ্যমন্ত্রী’! প্রক্তনীর বায়ো ঘিরে এবার খোঁচা অরিত্র দত্ত বণিকের!

তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। জিৎ নিজে কোনও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেননি। অতীতে তিনি বারবার রাজনীতি থেকে দূরেই থেকেছেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠ মহল। অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির একাংশ মনে করছে, এটি শুধুই সামাজিক বা আমন্ত্রণমূলক উপস্থিতি হতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বলেও ব্যাখ্যা করছেন। তবে আপাতত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। ফলে ব্রিগেডে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে কৌতূহল এবং আলোচনা চলতেই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

You cannot copy content of this page