অভিনেতা শুভ্রজিৎ দত্তের জীবনে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। শুক্রবার প্রয়াত হন তাঁর বাবা পশুপতি দত্ত। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, বহু বছর ধরে পারকিনসন্স রোগে ভুগছিলেন পশুপতিবাবু। ২০১৯ সাল থেকে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন। শেষ সময়ে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। বাবার মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে শুভ্রজিৎ বলেন, পরিবারের কাছে এই ক্ষতি অপূরণীয়। দীর্ঘ অসুস্থতার পরেও তাঁরা আশা ছাড়েননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরিবারের সকলে শোকে ভেঙে পড়েছেন।
শুভ্রজিৎ জানান, বাবাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বারবার চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ত। তিনি বলেন, “বাবা বারবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছিলেন। এর আগেও একাধিক বার অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে বাবাকে। কিন্তু, প্রতি বারই বাবা ফিরে এসেছেন। এ বার আর ফিরলেন না।” পরিবারের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টার পরেও তাঁকে আর ফেরানো যায়নি। এই কথাই জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবনের শেষ দিকে পশুপতিবাবুর শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সেই কারণেই তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। শনিবার কলকাতার রতনবাবুর ঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শুভ্রজিৎ এবং তাঁর দাদারা উপস্থিত থেকে বাবার শেষকাজ সম্পন্ন করেন। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং পরিচিত অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠরা জানান, সবার প্রিয় মানুষ ছিলেন পশুপতিবাবু। তাই তাঁর শেষযাত্রায়ও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শোকের আবহে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকে।
কথা প্রসঙ্গে শুভ্রজিৎ জানান, তাঁদের পৈতৃক ব্যবসা ছিল এবং সেই ব্যবসার দায়িত্ব দীর্ঘদিন সামলেছেন তাঁর বাবা। সংসার ও ব্যবসা দু’দিকই সমানভাবে দেখতেন তিনি। অভিনেতার কথায়, “বাবা প্রচণ্ড মিশুকে ছিলেন। পাড়ার ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ার হতেন। সবাই বাবাকে খুব ভালবাসতেন।” এলাকার নানা সামাজিক কাজেও তিনি যুক্ত থাকতেন বলে জানা যায়। ছোট থেকে বড় সকলের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক ছিল তাঁর। সেই কারণেই পাড়ায় তাঁর আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। বহু মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন এবং স্নেহ করতেন।
আরও পড়ুনঃ চরম দুঃসংবাদ! ‘কম্পাস’-এর শুটিং চলাকালীন গর্ভপা’ত অভিনেত্রীর! আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অন্বেষা রায় মুখোপাধ্যায়কে! মা হওয়ার স্বপ্নে আচমকা ধাক্কা, চোখ ভেজানো বার্তা ভাগ করলেন তিনি!
শুভ্রজিৎ আরও বলেন, বাবার প্রতি মানুষের ভালোবাসাই শেষ দিনে সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “সেই জন্যই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের দিনেও দলমত নির্বিশেষে সব রঙের মানুষ বাবাকে শেষ বারের মতো দেখতে এসেছিলেন। শেষকৃত্যেও যোগ দিয়েছেন তাঁরা।” রাজনৈতিক ব্যস্ততার দিনেও বহু মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেতা। শুভ্রজিতের মতে, মানুষের এই ভালোবাসাই তাঁদের পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বাবার স্মৃতি আজও সবার মনে অমলিন হয়ে থাকবে।






