“আমি তো আর আমার সন্তানকে ফিরে পাবো না… আর যেন কোনও মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়” রাহুলের মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়ে মা শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগঘন আর্তি! অভিনয় জগৎ থেকে সাধারণ কর্মক্ষেত্র, সর্বত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে সমাজকে কি বললেন তিনি?

প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যু এখনও মানতে পারছেন না তাঁর পরিবার। সময় এগিয়ে চললেও ছেলেকে হারানোর শূন্যতা প্রতিদিন আরও গভীর হয়ে উঠছে অভিনেতার মা শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়-র জীবনে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছেলের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বারবার ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। তবে শুধু নিজের যন্ত্রণার কথা নয়, ভবিষ্যতে যেন আর কোনও মা এভাবে সন্তান হারানোর কষ্ট না পান, সেই আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। শ্যামলী দেবীর কথায়, তাঁর ছেলে আর ফিরবে না, কিন্তু এই ঘটনার পর অন্তত কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

সাক্ষাৎকারে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি তো আর আমার সন্তানকে ফিরে পাবো না। কিন্তু আমি চাই না আর কোনও রাহুল এভাবে চলে যাক।” তাঁর দাবি, আজকের প্রজন্ম পড়াশোনা করে, নিজেদের স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন পেশায় আসছে। অভিনয় জগতও এখন বহু তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের জায়গা। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথে যদি নিরাপত্তার অভাব থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। শ্যামলী দেবী বলেন, “যখন একটা বাচ্চা পড়াশোনা শিখে প্রতিষ্ঠিত হতে যায়, তখন প্রত্যেকটা জায়গার ব্যবস্থা ঠিক থাকা দরকার। যাতে কোনও মা নিজের সন্তানকে এভাবে হারিয়ে না ফেলে।”

ছেলের মৃত্যু নিয়ে এখনও উত্তর খুঁজছেন তিনি। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, কোথায় কী ভুল ছিল, সেই প্রশ্ন আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে। তবে সেই প্রশ্নের মাঝেও বারবার উঠে এসেছে অন্য তরুণ শিল্পীদের ভবিষ্যতের কথা। শ্যামলী দেবীর কথায়, “আজকাল ছেলেমেয়েরা এটাকে প্রফেশন হিসেবে নিচ্ছে। ওরা অনেক কষ্ট করে এখানে পৌঁছয়। তাই ওদের নিরাপত্তা সবার আগে ভাবতে হবে।” তিনি মনে করেন, শুধু অভিনয় জগত নয়, যে কোনও কর্মক্ষেত্রেই কাজের পরিবেশ নিরাপদ হওয়া জরুরি। কারণ একটি দুর্ঘটনা বা অবহেলা মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারকে শেষ করে দিতে পারে।

রাহুলের কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁর মা। তিনি বলেন, “ও সবসময় অন্যদের কথা ভাবত। নতুন ছেলেমেয়েরা কাজ করতে এলে ওদের নিয়ে চিন্তা করত।” শ্যামলী দেবীর দাবি, রাহুল নিজেও চাইত সবাই ভালোভাবে কাজ করুক এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরুক। সেই কারণেই আজ ছেলের মৃত্যুর পর তিনি শুধু একজন মায়ের মতো কাঁদছেন না, সমাজের কাছেও আবেদন জানাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “একটা তরতাজা ছেলে সকালে হাসতে হাসতে শুটিংয়ে গেল, আর সন্ধ্যায় নিথর হয়ে ফিরল। এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

আরও পড়ুনঃ “জিৎ হয়ে গেল সুপারস্টার আর আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেই পড়ে রইলাম” বহু বছর পর কেরিয়ার নিয়ে চাপ ক্ষো’ভ উগরে দিলেন সম্রাট মুখোপাধ্যায়! কেন হঠাৎ জিতকে করলেন দায়ী? সুপারস্টার হওয়ার দৌড়ে কীভাবে হেরে গিয়েছিলেন অভিনেতা?

সাক্ষাৎকারের শেষে শ্যামলী দেবীর কণ্ঠে ছিল একটাই আর্জি ভবিষ্যতে যেন আর কোনও পরিবারকে এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। তিনি বলেন, “আমার ক্ষত কোনওদিন সারবে না। কিন্তু যদি এই ঘটনার পর সবাই একটু সচেতন হয়, নিরাপত্তার দিকে নজর দেয়, তাহলেই হয়তো আমার সন্তানের চলে যাওয়ার একটা মানে থাকবে।” ছেলেকে হারিয়েও অন্য তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন তিনি। আর সেই কারণেই তাঁর কথায় বারবার ফিরে এসেছে একটাই আবেদন “আর যেন কোনও মা তার সন্তানকে এভাবে না হারায়।”

You cannot copy content of this page