মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের! রাহুলের মৃ’ত্যুর ধাক্কার পর তৃণমূল সরকারের পতন, অবশেষে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত লেখিকার?

রাজ্যের মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন লেখিকা ও চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay)। এই খবরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেই পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেন। লীনা বলেন, “দিন দুই আগে ইস্তফা দিয়েছি।” তবে তাঁর দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাননি তিনি। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও বিনোদন দুই মহলেই আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকার পর তাঁর সরে দাঁড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে।

পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে লীনা জানান, এখনও কমিশনের তরফে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “আমায় এখনও কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।” যদিও সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফার ঘোষণা করতে পারেন। সেই কারণেই মহিলা কমিশনের অফিসে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, এই সাম্মানিক পদে একটানা ৯ বছর পর্যন্ত থাকা যায়। তারপর দায়িত্ব ছাড়তে হয়। লীনা গত ৯ বছর ধরে এই পদে ছিলেন। সেই হিসেবে আগামী জুলাই মাসে তাঁর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল।

এই সময়ের মধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যায়। এদিন কথাবার্তায় সেই আভাসও দেন তিনি। লীনা জানান, নিজেকে সামলাতেই তিনি কারও ফোন ধরেননি। সাম্প্রতিক এই ঘটনাই তাঁর মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত এক শিল্পীর অকাল প্রয়াণে তিনি ভেঙে পড়েছেন বলেই খবর। ফলে এই সময় তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন।

এরপরই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয় এবং বাংলার ক্ষমতায় আসে বিজেপি। রাজ্য জুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই লীনার পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। কারণ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই তাঁকে দেখা হত। সেই কারণে প্রশাসনিক পদে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। রাহুলের মৃত্যুর পর টলিউডের একাংশও কমিশন থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে সরব হয়েছিল। ফলে নানা চাপ ও পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

আরও পড়ুনঃ “বেঞ্চ বদল, সরকার বদল, এবার…” রাজ্যে পালাবদলের পর আরজি কর মামলায় নয়া মোড়! রত্না দেবনাথের জয়ের পরই, খোলা হচ্ছে ‘অভয়া’র ফাইল? ডিভিশন বেঞ্চ বদল হতেই বিচার নিয়ে বি’স্ফোরক, আন্দোলনের মুখ প্রধান মুখ কিঞ্জল নন্দ?

এখন বড় প্রশ্ন, এরপর কী করবেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়? তিনি কি আবার পুরোপুরি টেলিভিশনের জগতে ফিরবেন? বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় নাম হিসেবে বহুদিন ধরেই দর্শকদের কাছে পরিচিত তিনি। সেই কারণে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে আগ্রহও কম নয়। এই প্রশ্ন করা হলে কিছুক্ষণ নীরব থাকেন লীনা। তারপর সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “ফিরলে আপনারা জানতে পারবেন।” তাঁর এই মন্তব্যে জল্পনা আরও বেড়েছে। এখন নজর, আগামী দিনে তিনি আবার ছোটপর্দায় সক্রিয় হন কি না।

You cannot copy content of this page