হঠাৎ অসু’স্থ জোজো-পুত্র আদি! সবসময় হাসিখুশি থাকা ছেলেটা, তিন-চার দিন হাসপাতালে ভর্তি! চরম উদ্বেগে গায়িকা! কী হয়েছে একরত্তির?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলে আদিকে নিয়ে নিয়মিত নানা মুহূর্ত ভাগ করে নেন জনপ্রিয় গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায়। ছোট্ট আদির ছবি, আঁকা, ড্রাম বাজানো, সাঁতার শেখা কিংবা সাইকেল চালানোর ভিডিও প্রায়ই দেখা যায় তাঁর প্রোফাইলে। সেই কারণেই নেটদুনিয়াতেও বেশ জনপ্রিয় বছর ছয়েকের এই খুদে। তবে এবার আনন্দের পোস্ট নয়, বরং উদ্বেগের খবর দিলেন জোজো। তিনি জানান, ছেলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। যদিও সন্তানের মুখ না দেখিয়ে তিনি একটি বিশেষ কার্ডের ছবি শেয়ার করেন। সেই পোস্ট দেখেই উদ্বেগে পড়েন অনুরাগীরা। অনেকেই আদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

হাসপাতালে ভর্তি আদির জন্য স্কুল থেকে পাঠানো হয়েছিল একটি ভালোবাসায় ভরা শুভেচ্ছা বার্তা। সেই কার্ডেই লেখা ছিল, “আমরা টিউলিপিয়ানসরা তোমার কথাই ভাবছি, অনেক ভালোবাসা পাঠাচ্ছি তোমাকে। তোমার জন্য ভালোবাসা আর প্রার্থনা রইল। অনেক বিশ্রাম নাও, সাহসী হও, আর জলদি ফিরে আসো স্কুলে। আমরা টিউলিপিয়ানসরা তোমাকে খুব মিস করছ।” ছোট্ট ছাত্রের জন্য সহপাঠী ও শিক্ষকদের এই বার্তা জোজোর মন ছুঁয়ে যায়। তিনি সেই কার্ডের ছবি পোস্ট করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অসুস্থতার মধ্যেও এই ভালোবাসা তাঁদের শক্তি জুগিয়েছে বলে মনে করছেন গায়িকা।

পোস্টের ক্যাপশনে জোজো নিজের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “গত তিন-চার দিন খুব কঠিন ছিল। একজন মা হিসেবে সময়টা বেশ কষ্টকর ছিল, কিন্তু আমার বন্ধু, পরিবারের সদস্য এবং অবশ্যই আদির শিক্ষকদের অবিরাম মানসিক সমর্থন আমার উদ্বেগ কমানো অনেক সহজ করে দিয়েছে।” পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, “আদির প্রতি এই ভালোবাসা ও আশীর্বাদের জন্য টিউলিপিয়ানদের অনেক ধন্যবাদ, এটা সত্যিই খুব হৃদয়স্পর্শী।” শিক্ষকদের উদ্দেশেও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষভাবে রূপী বর্মা ম্যাডাম ও রঞ্জনা ম্যাডামের নাম উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান জোজো। তাঁর এই আবেগঘন পোস্টে অনেকেই পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

২০২১ সালে আদিকে দত্তক নেন জোজো মুখোপাধ্যায়। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৫০। সেই সময় এই সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছিল। কারণ তাঁর মেয়ে বাজো অর্থাৎ মেহকা মুখোপাধ্যায় তখন সাবালিকা। তবে জোজো পরে জানান, বহুদিন ধরেই তিনি দত্তক নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। শুধু একজন নয়, সুযোগ থাকলে আরও তিন-চারজন শিশুকেও দত্তক নিতে চাইতেন বলে জানিয়েছিলেন গায়িকা। বিদেশের মতো নিয়ম এ দেশেও থাকলে সেই কাজ আরও সহজ হতো বলেও মত প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আদিকে ঘিরে এখন তাঁর জীবন ভরে উঠেছে নানা আনন্দে।

আরও পড়ুনঃ “সেই সাদা চটি!” “একটা কাদা কাদা ব্যাপার আছে কিন্তু” থাইল্যান্ডে রোম্যান্টিক মুডে শুভশ্রীর সঙ্গে পোস্ট ঘিরে ফের ট্রোলড রাজ চক্রবর্তী! ‘কাদাখেকো’ থেকে ‘কাদা ম্যান’, ভোট হারের পর নেটপাড়ায় পরিচালকের নতুন নামকরণ ভাইরাল!

জোজোর স্বামী কিংশুক মুখোপাধ্যায়, যাঁকে অনেকেই বাবলুদা নামে চেনেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূত্রে ডুয়ার্সে থাকেন। সেখানে তিনি একটি রিসর্ট পরিচালনা করেন। ফলে দম্পতির একসঙ্গে থাকা সবসময় সম্ভব হয় না। তবে সময় পেলেই জোজো ডুয়ার্সে গিয়ে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটিয়ে আসেন। অন্যদিকে মেয়ে বাজো কাজের সূত্রে কলকাতার বাইরে থাকেন। তবু ভাই আদির সঙ্গে তাঁর গভীর স্নেহের সম্পর্ক রয়েছে। জোজোর দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্তেও মেয়ে কখনও আপত্তি করেননি, বরং সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। পরিবারে এই সমর্থনই কঠিন সময়ে জোজোর সবচেয়ে বড় শক্তি।

You cannot copy content of this page