“আমার পেশা অভিনয়, যার সূত্রে পরিচিতি এবার সেটাতে মন দিতে চাই” ভোটে বড় বড় ডায়লগ দিয়েও বিপুল পরাজয়ের মুখ দেখেছেন তিনি! হেরেই এবার রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত সায়ন্তিকার!

বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর বদলে গিয়েছে বহু রাজনৈতিক সমীকরণ, আর সেই তালিকায় রয়েছেন বরাহনগরের প্রাক্তন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভোটের আগে প্রচারে তাঁকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখেছিল একাংশ। কিন্তু ফল ঘোষণার পরে তাঁকে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। ভোটপর্ব শেষ হলেই অভিনয়ে ফিরবেন, এমন ইঙ্গিত তিনি আগেই দিয়েছিলেন। এখন সেই সিদ্ধান্ত আরও স্পষ্ট হচ্ছে। পরাজয়ের পর কী ভাবছেন, তা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। রাজনৈতিক ব্যস্ততার পর নতুন করে নিজের পেশার দিকে নজর দিতে চাইছেন তিনি। আপাতত রাজনীতির ধাক্কা সামলে আবার নতুন পরিকল্পনায় এগোতে চান সায়ন্তিকা।

গত কয়েক দিন শারীরিক ভাবেও ভাল ছিলেন না সায়ন্তিকা। তিনি জানান, কিছুদিন জ্বরে ভুগেছেন, যদিও এখন আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ। মানসিক দিক থেকেও পরাজয়ের কষ্ট রয়েছে বলেই স্বীকার করেছেন তিনি। সায়ন্তিকার কথায়, “একটা খারাপ লাগা তো থাকেই। মনখারাপ ঠিক নয়।” তিনি আরও বলেন, “হয়তো আমার থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল মানুষের। আমিই হয়তো সাধারণের আশা পূরণ করতে পারিনি।” তবে চেষ্টা নিয়ে কোনও প্রশ্ন রাখতে চান না তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “তবে চেষ্টা করিনি, এমন বলব না। আমি চেয়েছিলাম নিজের সবটা দিয়ে কাজ করতে। সেটাই করেছি অনবরত।” ফলে হারের আঘাত থাকলেও নিজের পরিশ্রমে তিনি অনড়।

নির্বাচনের পর অনেক তারকাই রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর রাজনীতিতে থাকতে চান না। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ দেবও বলেছেন, “রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চাই না।” সেই পরিস্থিতিতে সায়ন্তিকাও কি একই পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে নারাজ। সায়ন্তিকা বলেন, “আমি সরাসরি এমন কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আগামী দিনে কী করব? এখন থেকে তো বলতে পারি না।” অর্থাৎ ভবিষ্যৎ নিয়ে দরজা খোলা রাখলেও এই মুহূর্তে তিনি নিশ্চিত কিছু বলতে চান না।

তবে নিজের পেশা নিয়ে তিনি যথেষ্ট স্পষ্ট। সায়ন্তিকা জানান, “আমার যে পেশা অভিনয়, সেটাতে মন দিতে চাই। তার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাই।” রাজনৈতিক কাজের জন্য গত কয়েক বছরে শরীরচর্চায় ফাঁক পড়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “নিজের শারীরিক গঠন ঠিক করতে চাই। এই কয়েকটা বছর মন দিয়েছিলাম রাজনৈতিক কাজে। তাই শরীরচর্চায় অনেকটাই ফাঁক পড়েছে।” এখন আবার নিজেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর মতো করে তৈরি করতে চান অভিনেত্রী। তাই পর্দায় ফেরার আগে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ হঠাৎ অসু’স্থ জোজো-পুত্র আদি! সবসময় হাসিখুশি থাকা ছেলেটা, তিন-চার দিন হাসপাতালে ভর্তি! চরম উদ্বেগে গায়িকা! কী হয়েছে একরত্তির?

বরাহনগরের নতুন বিধায়ক সজল ঘোষকে কিছু বলতে চান কি না, সেই প্রশ্নেও খুব সংযত ছিলেন সায়ন্তিকা। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চান না। জনমতের ভিত্তিতেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তাই আলাদা করে মন্তব্যের প্রয়োজন দেখছেন না অভিনেত্রী। একই সঙ্গে জীবন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও স্পষ্ট। সায়ন্তিকার কথায়, “জীবন তো থেমে যাবে না। এই পরাজয় মানে জীবন শেষ হয়ে গেল, সেটা তো নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার যে পেশা, যার সূত্রে আমার পরিচিতি, সেই দিকেই মন দিতে চাই।” তাই এখন রাজনীতির ধাক্কা পেরিয়ে অভিনয়ের জগতেই ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সায়ন্তিকা।

You cannot copy content of this page