একসময় বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থা ছিল ‘সুইট মেলোডি’। ‘তৃষ্ণা’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘কুরুক্ষেত্র’সহ একাধিক সফল ধারাবাহিক তৈরি করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল সংস্থাটি। সেই সংস্থার কর্ণধার অতনু রায় দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এনে দিলেন নিজের লড়াইয়ের গল্প। তাঁর দাবি, ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণেই গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কাজ থেকে দূরে রয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অতনু রায় সরাসরি অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর কথায়, ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর কিছুদিন বিরতি নেওয়ার পর ২০১৩ সালে ফের কাজ শুরু করতে চাইলে তাঁকে ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়। সেই সময় থেকেই সমস্যার শুরু বলে দাবি করেছেন তিনি।
অতনু রায়ের বক্তব্য, বহু চেষ্টা করেও প্রথমে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তিনি। পরে দেখা হলে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে তাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলা হয় বলে অভিযোগ। কথোপকথনের সময় তিনি পাল্টা কিছু প্রশ্ন করেছিলেন, আর সেটাই নাকি তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে কাজ না দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয় বলে মনে করেন প্রযোজক।
আরও পড়ুন: “আমি সে*ক্স ওয়ার্কার হলেও শরী’র ভোগের একটা দাম আছে!” “আমাকে বলপূর্বক…ওনার অনেক ‘ব্যাকআপ’ আছে, আমি কিছু প্রমাণ করতে পারব না!” পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী!
তাঁর দাবি, বিভিন্ন চ্যানেলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হলেও শেষ মুহূর্তে কাজ বাতিল হয়ে যেত। কেউ সরাসরি কিছু না বললেও পরে বুঝতে পারেন, আড়ালে অন্য ধরনের চাপ কাজ করছিল। অতনু রায়ের অভিযোগ, বাইরে নতুন প্রযোজকদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ঠিক উল্টো পরিস্থিতি ছিল। ফেডারেশনের একতরফা প্রভাবের কারণেই বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অতনু রায় আরও জানান, ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, এরপর কার্যত তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, টলিপাড়ার অন্দরমহলে ক্ষমতার রাজনীতি এবং নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।






