টলিউডে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী (Ankita Chakraborty) এবং পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য। কয়েক দিন আগে সমাজ মাধ্যমে দেবালয়ের একটি পোস্টের নীচে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন অঙ্কিতা। সেখানেই তিনি লেখেন, “তোমার মতো নোংরা পারভার্ট ব্রাহ্মণদের কী করে শ্রদ্ধা করি বলো তো? যারা নিজের বন্ধুর মেয়ের পিঠে হাত বোলাতে ছাড়ে না।” সেই পোস্টেই শিশু-হেনস্থার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। ঘটনার পর পোস্টটি মুছে দেন দেবালয়। এরপর সোমবার বিকেলে নিজের আইনজীবী প্রিয়ম দেকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন অঙ্কিতা।
সেখানেই তিনি দেবালয়ের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ আরও বিস্তারিতভাবে সামনে আনেন। অভিনেত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন চুপ থাকলেও এবার তিনি আইনি পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় আর নীরব থাকা সম্ভব হয়নি। সাংবাদিক বৈঠকে অঙ্কিতা জানান, একটি পার্টিতে দেবালয় তাঁকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করেছিলেন। তাঁর আইনজীবী জানান, ইতিমধ্যেই দেবালয়ের কাছে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, অঙ্কিতার একমাত্র দাবি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। আগামী সাত দিনের মধ্যে সদুত্তর না পেলে দেবালয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নোটিসে আরও দাবি করা হয়েছে, গত তিন বছর ধরে এই ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে কাটিয়েছেন অঙ্কিতা। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না এবং অভিনেত্রীর তরফে কোনও সম্মতিও ছিল না। এমনকি ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। অঙ্কিতা এদিন নিজের আইনজীবীকে পাশে নিয়ে, তার সঙ্গে দেবালয় ঠিকই করেছিলেন এবং এতদিন তিনি কেন প্রকাশ্যে আনেননি সেসব এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন। তিনি বলেন, “খুব সম্ভবত মদ্যপ অবস্থায় আমাকে দেওয়ালে ঠেলে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করে আমি তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিই এবং ঘটনারস্থল ছেড়ে চলে যাই।
আমার সঙ্গে ঠিক কি ঘটেছে এবং কেন ঘটেছে এটা বুঝতেই অনেকটা সময় লেগে যায় আমার। দীর্ঘদিন আমি অপেক্ষা করি যে উনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিশ্চয়ই ক্ষমা চাইবেন। অন্তত এইটুকু বলবেন যে নেশার ঘোরে ভুল করে ফেলেছেন। কিন্তু তেমন কোন কিছুই হয়নি। বরং তার বেশ কিছুদিন পর একটি পার্টিতে যখন তিনি মুখোমুখি হলেন আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করলেন যেন আমাকে তিনি চেনেন না অথচ আমাদের সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো আর পারিবারিক পর্যায়ও আমাদের বেশ ভালো সখ্যতা আছে। এইসব কথা ভেবেই তখন আমি কাউকে কিছু বলিনি তার উপরে সেই সময় আমার তেমন খুব একটা কাজ না থাকায় প্রবল সম্ভাবনা ছিল যে অভিযোগ প্রকাশে আসতেই সবাই বলবে লাইমলাইটে থাকার চেষ্টা করছি।
তবে এখন বিষয়টা তেমন নয়। গত দেড় বছর আমি সর্বভারতীয় চ্যানেলে একটি ধারাবাহিকে কাজ করলাম এবং সেখানে যা পারিশ্রমিক আমি পেয়েছি তাতে করে আরো এক বছর কাজ না করেই কাটিয়ে দিতে পারব। সুতরাং আলোচনায় থাকার জন্য কথাটা আর আসবে না। এছাড়াও কিছুদিন আগে আমি জানতে পারি ওনার এরকম আরো অনেক ঘটনাই রয়েছে, তার মধ্যে একটি নাবালিকাকে হেনস্থার কথাও কানে এসেছে। যদিও সে বিষয়ে আমি খুব একটা কিছু বলতে পারব না অনুমতি ছাড়া। আমি শুধু আমার বিষয় বলতেই এসেছি। বিগত বেশ কিছু বছর ধরে মানসিকভাবে চরম অশান্তির মধ্যে রয়েছি এই ঘটনাটা নিয়ে।
সম্প্রতি যখন ন্যায়নীতি নিয়ে দেবালয় দার একটি পোস্ট আমার চোখের সামনে আসে, নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি। এরপর বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই, একদম সহকর্মী দেবালয় দাকে কিছু প্রশ্ন করার তিনি নাকি বলেছেন আমার চরিত্র খারাপ! উনার অনেক ‘ব্যাকআপ’ আছে, আমি নাকি কিছু প্রমাণ করতে পারব না! তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম আমি একজন ‘সেক্স ওয়ার্কার’, তাতেও কি তার শরীর যখন তখন ছোঁয়া যায়? তাদের শরীর ভোগ জন্যেও একটা দাম রয়েছে! সেই দামে রাজি হলেই তবে তারা নিজেদেরকে ছুঁতে দেয়! সেখানে আপনি কী করে ভাবলেন আমাকে যেভাবে ইচ্ছা ছোঁয়া যাবে?
আরও পড়ুন: একসঙ্গে ১৩টা ওষুধ খেয়ে চরম বিপদ ডেকে আনলেন শ্রুতি দাস! শরীরে শুরু ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া! “মানুষ স্বেচ্ছামৃ’ত্যুর কথা ভাবলে এটাই করে” শুটিং ফ্লোরেই অসুস্থ অভিনেত্রীর বি’স্ফোরক স্বীকারোক্তি! হঠাৎ কেন এমন করলেন? এখন কেমন আছেন তিনি?
আজ নয় আমার সন্তান নেই, তবে নতুন প্রজন্মরা বিনোদন জগতে প্রতিনিয়ত অংশ হচ্ছে, সহ অভিনেতাদেরও সন্তানরা বড় হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাকে এটা বলতে হতোই!” অঙ্কিতার এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দেবালয় ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়াও সামনে আসে। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও আইনি নোটিস হাতে পাননি। তবে তিনি স্পষ্ট জানান, এবার তিনিও আইনি পথে হাঁটবেন। দেবালয়ের কথায়, “আমি আইনি নোটিস পাইনি। তবে এ বার আমি আইনি নোটিস পাঠাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “(অঙ্কিতার) কোনও দাবিই বিশ্বাসযোগ্য নয়। দেখে বোঝাই যাচ্ছে, আমার মানহানি করাই আসল উদ্দেশ্য। সুবিচার পাওয়াই যদি উদ্দেশ্য হত, তা হলে আগেই আমাকে নোটিস পাঠাতেন।
অথচ, তিন বছর তিনি আমাকে বলেই উঠতে পারেননি!” দেবালয়ের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি জানান, অঙ্কিতা প্রথমেই সাংবাদিক বৈঠক করেছেন, আর সেই কারণেই এবার তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। দেবালয় আরও বলেন, “তিনি সাংবাদিক বৈঠক দিয়ে শুরু করলেন। এবার আমি আদালতে যাব। শেষ সাংবাদিক বৈঠক আমিই করব।” অন্যদিকে, অঙ্কিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক অশান্তি ও অপমানের পর আর চুপ থাকা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিনোদন জগতে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এখন দেখার, আইনি নোটিসের জবাব এবং পাল্টা পদক্ষেপের পর এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।
Ankita Chakraborty, Debaloy Bhattacharya, Tollywood Controversy, Legal Notice, Bengali Actress, Tollywood, Sexual Harassment Allegation, Press Conference, Bengali Director, Entertainment, অঙ্কিতা চক্রবর্তী, দেবালয় ভট্টাচার্য, টলিউড বিতর্ক, আইনি নোটিস, বাঙালি অভিনেত্রী, টলিউড, হেনস্থার অভিযোগ, সাংবাদিক বৈঠক, বাঙালি পরিচালক, বিনোদন সংবাদ






