হাতে স্যালাইনের ব্যান্ডেজ, চোখমুখ শুকনো! আচমকা অসু’স্থতার হাসপাতালে ভর্তি ছোট্ট আদি! উদ্বেগে কেটেছে জোজো মুখোপাধ্যায়ের দিনরাত, অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস! কী হয়েছিল খুদের? এখন কেমন আছে সে, জানালেন গায়িকা?

মায়ের জীবনে সন্তানের অসুস্থতার থেকে বড় দুশ্চিন্তা আর কিছু হয় না। ঠিক এমনই এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গত কয়েক দিন কাটিয়েছেন গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায় (Jojo Mukherjee)। আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে তাঁর সাড়ে ছ’বছরের ছেলে। বিষয়টি সামনে আসতেই চিন্তায় পড়ে যান অনুরাগীরাও। সমাজমাধ্যমে নিজেই সেই খবর ভাগ করে নিয়েছিলেন গায়িকা। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা ছেলের কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন তিনি। কোথাও ছোট্ট খুদের হাতে দেখা গিয়েছে স্যালাইনের ব্যান্ডেজ, আবার কোথাও হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে হাসিমুখে গল্প করতে দেখা যায় তাকে। সেই ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ।

অনেকেই জোজোর ছেলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন। কয়েক দিনের টেনশনের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর দিলেন গায়িকা। এদিন সংবাদ মাধ্যমের তরফে যোগাযোগ করা হলে ছেলে এখন কেমন আছে, সেই বিষয়ে মুখ খোলেন জোজো। তিনি বলেন, “মা হিসেবে খুব চিন্তায় ছিলাম। হঠাৎ করেই ওর শরীর খারাপ হয়। গায়ে জ্বর ছিল। তবে এখন অনেকটাই সুস্থ। বাড়িতে নিয়ে এসেছি। কয়েক দিন বিশ্রাম করলেই ঠিক হয়ে যাবে।” ছেলের অসুস্থতা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ যে কতটা ছিল, তা স্পষ্ট ধরা পড়েছে এই কথাতেই। জানা গিয়েছে, অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল খুদেকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দিনরাত ছেলের পাশেই ছিলেন গায়িকা। এই কয়েক দিন নিজের সমস্ত কাজের ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে শুধুই ছেলের দিকে নজর দিয়েছেন তিনি। এখন অবশ্য আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো রয়েছে ছোট্টটি। হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়ও ছেলের মনোবল ভাঙতে দেননি জোজো। সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে হেসে কথা বলছে সে। কখনও আবার শান্তভাবে বেডে শুয়ে রয়েছে। জোজোর অনুরাগীদের একাংশও নিয়মিত তাঁর পোস্টে খোঁজ নিয়েছেন। অনেকেই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বার্তা পাঠিয়েছেন খুদের জন্য।

এই পরিস্থিতিতে গায়িকার পরিবারও তাঁর পাশে ছিল বলে জানা গিয়েছে। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আতঙ্ক তৈরি করতে চাননি জোজো। তিনি প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছেন স্বাভাবিকভাবে পরিস্থিতি সামলাতে। তবে মা হিসেবে ভিতরে ভিতরে যে উদ্বেগ কাজ করছিল, তা তাঁর কথাতেই পরিষ্কার। এখন অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। হাসপাতাল থেকে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন জোজো। ধীরে ধীরে আগের ছন্দে ফিরছে ছোট্টটি। জানা গিয়েছে, সুস্থ বোধ করতেই আবার নিজের পছন্দের কাজগুলো করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে সে। সাঁতার কাটতে যেতে চাইছে, আবার সাইকেল চালানোর আবদারও শুরু করেছে। আপাতত ছেলেকে সম্পূর্ণ বিশ্রামেই রেখেছেন গায়িকা।

আরও পড়ুনঃ “আপনার মুখেই লেখা আছে, একটা অত্যন্ত খারাপ লোক!” “একেবারেই বিশ্বাস করা যাচ্ছে না, এরপরেও বলছেন সেদিন অসভ্যতা করেননি?” শরীরী ভাষাই বাড়াচ্ছে সন্দেহ! দেবালয় ভট্টাচার্যের বিবৃতির ভিডিও ঘিরে সমালোচনায় ভরল সমাজ মাধ্যম, অঙ্কিতা চক্রবর্তীর অভিযোগেই আস্থা নেটপাড়ার!

চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই চলছে সবকিছু। বাইরে যাওয়া বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এখনই করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের তরফেও খুদের যত্নে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। কয়েক দিন বিশ্রামের পরই সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে বলেই আশা করছেন সবাই। ছেলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত জোজো। গায়িকা বলেন, “এখন আমি অনেকটাই নিশ্চিন্ত। ও ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে উঠছে।” দীর্ঘ উদ্বেগের পর তাঁর গলায় এখন স্বস্তির সুর স্পষ্ট। ছোট্ট ছেলের মুখে আবার হাসি ফিরতেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন তিনিও। যদিও এখনও সতর্ক থাকছেন পরিবার। আপাতত বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছে খুদে। অনুরাগীরাও চাইছেন খুব দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠুক জোজোর ছেলে।

You cannot copy content of this page