অভিনেত্রী ‘অঙ্কিতা চক্রবর্তী’র (Ankita Chakraborty) গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে টলিউডে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে পরিচালক ‘দেবালয় ভট্টাচার্য’কে (Debaloy Bhattacharya) ঘিরে। অভিনেত্রীর দাবি, একটি সাকসেস পার্টিতে পরিচালক জোর করে তাঁকে চুম্বনের চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দেবালয়কে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক। সাংবাদিক বৈঠকে দেবালয়ের বক্তব্য, “এমন কিছু ঘটেনি। পার্টিতে সকলেই ছিল।” তবে বিতর্ক আরও বেড়েছে তাঁর প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ঘিরে। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সমাজ মাধ্যমে বহু মানুষ উল্টে অঙ্কিতার কথাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন! কিন্তু কেন?
পরিচালকের বক্তব্যের থেকে বেশি চর্চা হচ্ছে তাঁর আচরণ, কথা বলার ধরন এবং শারীরিক ভাষা নিয়ে। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে একের পর এক কটাক্ষ ও সমালোচনায় ভরে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। এদিন সমাজ মাধ্যমে পোস্ট ডিলিট করা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দেবালয় নিজের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “আমি ফেসবুকে নিয়মিত থাকি না। সেদিন একটা পোস্ট করেছিলাম।” তাঁর দাবি, পোস্ট করার পর একজন পরিচিত তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে মানুষ তাঁর রসিকতা ভুল বুঝতে পারেন। সেই কারণেই তিনি পোস্ট মুছে দেন। দেবালয়ের কথায়, “আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে পোস্ট ডিলিট করে তাকে জানাই ডিলিট করে দিয়েছি। এই প্রমাণ আছে আমার কাছে।”
এরপর তিনি একটি পোস্টের মাধ্যমে অঙ্কিতার মন্তব্য দেখেন বলে জানান। পরিচালকের দাবি, “আমি অবাক যে আমার চরিত্র নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী। যাঁর সঙ্গে আমি শেষ ৫-৬ বছর কাজ করিনি।” তিনি আরও বলেন, সেখানে এক নাবালককে নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে পোস্ট আগেই ডিলিট করে দেওয়ায় এরপর তাঁর আর কিছু করার ছিল না বলেই জানান পরিচালক। দেবালয়ের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব দ্রুত মানুষ বিচার করে ফেলছেন। তাঁর কথায়, “সমাজ মাধ্যম দুইয়ে দুইয়ে চার করেন। নিশ্চয় দেবালয় দোষী। মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে গেল।” তিনি দাবি করেন, এতদিন তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
অঙ্কিতার সাংবাদিক বৈঠক নিয়েও পরিচালক বলেন, “ও অনেক ভাল অভিনেত্রী। খুবই খারাপ অভিনয় করেছে। একদমই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এত বড় অভিযোগ থাকলে তা আগে আইনি পথে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে নানা হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সম্মানহানি করা হয়েছে। তবে তাঁর এই সমস্ত বক্তব্যের পরেও নেটমাধ্যমে সহানুভূতির বদলে সমালোচনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দেবালয়ের ভাইরাল ভিডিওটি নিয়েই এখন চলছে তুমুল আলোচনা। বহু নেটিজেনের দাবি, পরিচালককে দেখে মনে হয়েছে তিনি মুখে পান জাতীয় কিছু রেখেছিলেন, যার কারণে তাঁর কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না।
আরও পড়ুনঃ “কাউকে ফোন করে কাজ চাইনি, আমি এমন একজন পিতার সন্তান…” সুপারহিট ছবির নায়িকা হয়েও কেন আড়ালেই থেকে গেলেন রীনা চৌধুরী? বাবা অঞ্জন চৌধুরীর অবদান, সম্পর্কের রাজনীতি আর আজকের টলিউড নিয়ে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী!
এই নিয়েই একের পর এক কটাক্ষ ভেসে এসেছে। একজন লিখেছেন, “আসতে আসতে বলুন দাদা ঠোঁট ফেটে পানের পিক বেরিয়ে আসছে!” অন্য একজনের মন্তব্য, “আপনার মুখেই লেখা আছে, আপনি একটা খারাপ লোক! একেবারেই বিশ্বাস করা যাচ্ছে না আপনাকে।” আবার কেউ লিখেছেন, “মিডিয়ার সামনে কিভাবে আসতে হয়? প্রকাশ্যে ভদ্রতা কিভাবে দেখাতে হয় সেইটুকু জানা নেই। এরপরেও বিশ্বাস করতে বলছেন আপনি সেদিন অসভ্যতা করেননি?” আরও এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন, “জীভ আর ঠোঁটের মতো ভবিষ্যৎ আর মানসিকতা অত্যন্ত কালো!” সব মিলিয়ে বিতর্ক থামার বদলে আরও বাড়ছে বলেই মনে করছে টলিউডের একাংশ।






