“অনেকেই না খেয়ে মরে যায়…” বিজেপি আমলে পরিবর্তনের দাবি তৃণা সাহার! “একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়েও চোখে পড়েনি না খেয়ে ম’রা মানুষগুলোকে?” “আপনারা একা খান কেন? এতদিন পরে ধান্দায় বিবেক জাগল!” দিদি ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী, এবার দিলেন দলবদলের ইঙ্গিত? কটাক্ষে মুখর নেটপাড়া!

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন সামাজিক মাধ্যমে ও জনমানসে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে আসছেন সেই সব তারকারা, যাঁদের একসময় তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ মুখ হিসেবে দেখা যেত। ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল, আবার একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ, নানা সরকারি অনুষ্ঠানেই পরিচিত অভিনেতা অভিনেত্রীদের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। সেই তালিকায় অন্যতম নাম অভিনেত্রী ‘তৃণা সাহা’ (Trina Saha)। দিদির অনুষ্ঠান মানেই সেখানে তৃণার উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত ছিল বলেই মনে করতেন অনেকে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর এখন বহু শিল্পীকেই কটাক্ষের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের উদ্দেশে “চোর চোর” স্লোগান, কটূক্তি এবং নানান মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে।

অনেকেই আবার অভিযোগ করছেন, অতীতে শাসকদলের অনুষ্ঠানে যেতে তাঁদের উপর চাপ তৈরি করা হত। এই আবহেই তৃণা সাহার মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে দীর্ঘদিন ধরেই একটি অভিযোগ ঘুরে বেড়াত যে, প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকলে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যেত। অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী নাকি বাধ্য হয়েই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পাশে দাঁড়াতেন, এমন কথাও শোনা গিয়েছে বহুবার। তবে তৃণা সাহা এই দাবি পুরোপুরি মানতে নারাজ। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন, “হ্যাঁ! আমরা অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই গিয়েছি।

আমার এতে লজ্জা বা রিগ্রেট নেই।” তৃণার আরও একটি মন্তব্য ঘিরেই মূলত ভাইরাল হয় ভিডিওটি। সেখানে তিনি বলেন, “কেউ কাউকে গান পয়েন্টে রেখে কোথাও যেতে বলেননি। এমন বলেনি যে এখানে গেলে এত টাকা পাবে। কোনদিনই কোন চাপ আমাদের উপর দেওয়া হয়নি। যারা গিয়েছিলেন তারা প্রত্যেকেই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে। সুতরাং, প্রত্যেকে আমরা যেটা করি স্বইচ্ছায় করি।” এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ অভিনেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ তীব্র সমালোচনাও করেছেন। এই বিতর্কের মাঝেই আরও একটি ভিডিও সামনে আসে!

যেখানে বিজেপি সরকারের আমলে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তাঁর আশা কী, সেই প্রশ্ন করা হয় অভিনেত্রীকে। উত্তরে তৃণা বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে যেন সবাই কাজ পায়, কেউ না খেতে পেয়ে যেন না মরে। কারণ অনেকেই আছে যারা না খেয়ে মরে যায়।” তিনি আরও জানান, বহু প্রতিভাবান টেকনিশিয়ান ও শিল্পী বছরের পর বছর কাজ না পেয়ে সমস্যায় রয়েছেন। অভিনেত্রীর কথায়, “অনেক টেকনিশিয়ান এবং আর্টিস্টরা আছে যারা খুব ট্যালেন্টেড কিন্তু কাজ নেই। এটা যেন না হয়, সবাইকে যেন ইকুয়ালি দেখা হয়। সবাইকে যেন ট্যালেন্টের অনুপাতেই কাজ দেওয়া হয়।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন শিল্পীদের দুরবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে কেন মুখ খোলেননি অভিনেত্রী।

আরও পড়ুনঃ হাতে স্যালাইনের ব্যান্ডেজ, চোখমুখ শুকনো! আচমকা অসু’স্থতার হাসপাতালে ভর্তি ছোট্ট আদি! উদ্বেগে কেটেছে জোজো মুখোপাধ্যায়ের দিনরাত, অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস! কী হয়েছিল খুদের? এখন কেমন আছে সে, জানালেন গায়িকা?

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। অনেকেই তাঁর পুরনো রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেছেন। এক নেটিজেন লেখেন, “‘অনেকে না খেয়ে মরে যায়’ কেন? আপনারা তাদের দেখেন না কেন?! আপনারা একা খান কেন? তাদের একটু দিয়ে খেতে পারেন তো।” অন্য একজনের মন্তব্য, “চটি চাটা মুখে এই কথা মানায় না!” আবার কেউ লিখেছেন, “ঠিক বলেছেন, তবে এতো দিন পিসির মঞ্চে উঠেও বলা উচিত ছিল। যত বিবেক এই সময় জাগরিত হচ্ছে কেন?” রাজনৈতিক পালাবদলের পরে শিল্পীদের অবস্থান বদলানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে, আর এতেই তা আরও একবার স্পষ্ট!

You cannot copy content of this page