“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে হাঁটার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ত, এখন বলছে জোর করে রাজনীতি করানো হতো, প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেন না কেন?” তৃণমূলের পতন ঘটতেই, টলিউডের রাজনৈতিক তারকাদের রঙ বদলের হিড়িক দেখে কটা’ক্ষ পারমিতা মুন্সির! সরকারি সম্মান পেতেই দরকার ছিল রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, কোন তথ্য ফাঁস করলেন তিনি?

সরকার বদলের পর থেকেই বাংলা বিনোদন জগতে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। একসময় যারা প্রকাশ্যে তৃণমূল সরকারের মঞ্চে দেখা যেত, তাঁদের অনেকেই এখন দাবি করছেন যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য নাকি চাপ তৈরি করা হতো। এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রবল কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে অভিনেতা দেব (dev), পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ( Raj Chakraborty), অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি (Sayantika Banerjee)-সহ একাধিক টলি তারকাকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি সত্যিই জোর করে রাজনৈতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হতো, তাহলে সেই সময় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেন না কেন? এই বিতর্কের মাঝেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা পারমিতা মুন্সি।

চলচ্চিত্র নির্মাতার পাশাপাশি সমাজের নানা বিষয় নিয়ে বরাবরই সরব থাকতে দেখা যায় পারমিতা মুন্সিকে। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কৃতি জগতের পরিবর্তন কিংবা শিল্পীদের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক আবহ এবং টলিউডের একাংশের বক্তব্য নিয়ে মুখ খুলে কার্যত তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর কথায়, আজ যারা বলছেন তাঁদের জোর করে রাজনৈতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হতো, তাঁদের সেই দাবি তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

সাক্ষাৎকারে পারমিতা মুন্সি স্পষ্ট বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসার জন্য বা পাশে হাঁটার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যেত অনেক শিল্পীর মধ্যে। এখন যদি তারা বলে তাদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হতো, সেটা মানা যায় না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “না বলতে পারত না কেন? আমাকে তো কেউ জোর করতে পারেনি।” তাঁর দাবি, তিনি কখনও কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে যাননি, যদিও তাঁর পরিবার সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবুও নিজের অবস্থান থেকে কখনও আপস করেননি বলেই জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ক্ষোভও ধরা পড়ে। পারমিতা বলেন, “তোষামোদ করতে পারি না বলেই হয়তো কোনও সরকারি পুরস্কার পাইনি।”

এরপর আরও বিস্ফোরক সুরে তিনি বলেন, জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আকাশ নীল’ কিংবা ‘নিশির ডাক’-এর মতো সফল কাজ করার পরেও তিনি নাকি কোনও সরকারি স্বীকৃতি পাননি। তাঁর দাবি, টেলি অ্যাকাডেমি থেকে শুরু করে বঙ্গভূষণ, উত্তম কুমার সম্মান কিংবা বাংলা অ্যাকাডেমির মতো কোনও পুরস্কারই তাঁর ঝুলিতে আসেনি। তবে সেই নিয়ে তাঁর আক্ষেপ নেই বলেও জানান তিনি। বরং তাঁর অভিযোগ, যদি কোনও পুরস্কার পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা নির্দিষ্ট মহলের “তাবেদারি” করতে হয়, তাহলে তিনি সেই পথে হাঁটতে পারবেন না। নিজের বক্তব্যে তিনি কার্যত ইঙ্গিত দেন, একসময় রাজ্যের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক আনুগত্য বড় ভূমিকা পালন করত।

আরও পড়ুনঃ “অনেকেই না খেয়ে মরে যায়…” বিজেপি আমলে পরিবর্তনের দাবি তৃণা সাহার! “একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়েও চোখে পড়েনি না খেয়ে ম’রা মানুষগুলোকে?” “আপনারা একা খান কেন? এতদিন পরে ধান্দায় বিবেক জাগল!” দিদি ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী, এবার দিলেন দলবদলের ইঙ্গিত? কটাক্ষে মুখর নেটপাড়া!

সবশেষে পারমিতা মুন্সির মন্তব্য এখন নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে টলিউডের অন্দরে। একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সাহসী বলে প্রশংসা করলেও, অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন সরকার বদলের পরেই এই ধরনের মন্তব্যের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি শিল্পীদের উপর রাজনৈতিক চাপ ছিল, নাকি ক্ষমতার পালাবদলের পর অনেকেই নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছেন? এই বিতর্ক এখন শুধুই রাজনৈতিক নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতি জগতের ভিতরকার বাস্তবতাকেও সামনে এনে দিয়েছে।

You cannot copy content of this page