টলিপাড়ার অন্দরে ফের নতুন বিতর্ক। এবার ফেডারেশনের আর্থিক লেনদেন নিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন পরিচালক সুব্রত সেন। তাঁর দাবি, বহু বছর ধরে ফেডারেশনের কাছে জমা থাকা প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার একটি ফান্ড আচমকাই অডিট রিপোর্ট থেকে উধাও হয়ে যায়। বিষয়টি সামনে আসতেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সুব্রত বলেন, “আমি শুনলাম যে, টেকনিশিয়ানদের অভাব অভিযোগ নিয়ে নতুন সরকার জানতে চায়।” সেই প্রসঙ্গেই তিনি ফেডারেশনের পুরনো কমিটির কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ওই টাকার উল্লেখ প্রথমদিকে অডিট রিপোর্টে থাকলেও পরে আর তা দেখা যায়নি। সেই কারণেই তিনি এখন পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
সুব্রত সেন জানান, একটি বৈঠকের সময় এই বিষয়টি প্রথম তাঁর নজরে আসে। তাঁর কথায়, “ফেডারেশনের যে কমিটি এত দিন ছিল, বহু বছর ধরে জমানো একটা প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার ফান্ড তাদের কাছে ছিল। অডিট রিপোর্টে প্রথমে সেই ফান্ডের মেনশন থাকত।” এরপর তিনি বলেন, “তারপর একদিন একটা মিটিং চলছিল। মিটিংয়ে ফেডারেশন সভাপতি সাধারণত কিছুটা দেরি করে ঢুকতেন।” পরিচালকের দাবি, সেই বৈঠকেই হঠাৎ জানানো হয় যে ভবিষ্যতে ওই টাকার উল্লেখ আর অডিট রিপোর্টে রাখা হবে না। সুব্রতের কথায়, “রাতের দিকে কিছু যুক্তি দিয়ে উনি বলেন, এই ৭৫ লক্ষ টাকা আর অডিটে দেখানো হবে না।” এরপর থেকেই সেই ফান্ডের আর কোনও উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনার পর থেকেই টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত বলে মনে করছেন সুব্রত সেন। তিনি বলেন, “সেদিন মিটিংয়ে বাকিরা তাড়াহুড়োতে স্বরূপ বিশ্বাসের কথায় সায় দিয়েছিল।” তবে সময় যত গিয়েছে, ততই তাঁর সন্দেহ বেড়েছে বলে জানান পরিচালক। তাঁর বক্তব্য, “কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে, এই টাকা কোথায় গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার!” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। ফেডারেশনের আওতায় থাকা বিভিন্ন গিল্ডের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন সুব্রত। তাঁর মতে, শুধুমাত্র একটি ফান্ড নয়, আরও কিছু জায়গায় অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মত তাঁর।
এরপর প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ড নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন পরিচালক। সুব্রতের দাবি, “আমি শুনেছি, প্রোডাকশন ম্য়ানেজার গিল্ডে সকলকে একটা করে কাজ করতে বলা হয়। একের বেশি কাজ করতে বারণ করা হয়।” কিন্তু বাস্তবে অনেকেই একাধিক কাজ করেন বলেই তিনি শুনেছেন। তাঁর অভিযোগ, “তাঁরা এর জন্য ১২০০০ টাকা ক্যাশ পেমেন্ট করে দিয়ে দেন গিল্ডকে।” এই টাকা কোথায় যায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আরও বলেন, “এরকম একটা শর্তে তাঁরা একাধিক কাজ করেন, বলেই আমি শুনেছি। এই টাকা কোথায় যায়, কী হয়, সেটা দেখা দরকার। এর উল্লেখ অডিটে থাকে না।” ফলে শুধুমাত্র ৭৫ লক্ষ টাকার ফান্ড নয়, গিল্ডের আর্থিক লেনদেন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে হাঁটার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ত, এখন বলছে জোর করে রাজনীতি করানো হতো, প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেন না কেন?” তৃণমূলের পতন ঘটতেই, টলিউডের রাজনৈতিক তারকাদের রঙ বদলের হিড়িক দেখে কটা’ক্ষ পারমিতা মুন্সির! সরকারি সম্মান পেতেই দরকার ছিল রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, কোন তথ্য ফাঁস করলেন তিনি?
এই অভিযোগ সামনে আসার পর ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গিয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুব্রত সেন চাইলে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রমাণ-সহ অভিযোগ জানাতে পারেন। তাদের বক্তব্য, “সুব্রত সেনের কোনও অভিযোগ থাকতেই পারেন। উনি প্রমাণ সহ ফেডারেশনকে সেই বিষয়ে চিঠি দিতে পারেন।” পাশাপাশি কমিটি জানিয়েছে, অভিযোগ জমা পড়লে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। আরও বলা হয়েছে, “তারপর বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে। পরবর্তী কমিটি হ্যান্ডওভার নেওয়ার আগে, নিশ্চয়ই অডিট রিপোর্ট দেখে নেবে।” ফলে এখন নজর রয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ফেডারেশনের তরফে কোনও তদন্ত বা পদক্ষেপ করা হয় কি না।






