“সেই যন্ত্র’ণায় আমি একা না, আমার বউ ছেলেও কেঁদেছে…ভয়ে পেয়ে শিরদাঁড়া বিক্রি করিনি” রোজগার বন্ধ দীর্ঘদিন, রাতভর হাহাকার! চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন সুমন ব্যানার্জি! স্ত্রী ও সন্তানকেও ভুগতে হয়েছে অনেক, তবুও তৃণমূলের কাছে মাথা নত করেননি! সব অভিজ্ঞতা নিয়ে, মুখ খুললেন অভিনেতা?

টলিউডে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক শিল্পীর মুখে এখন নতুন সুর শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন এতদিন ভয় পেয়ে চুপ ছিলেন, কেউ আবার দাবি করছেন রাজনৈতিক চাপের কারণে কাজ পাননি। তবে অভিনেতা সুমন ব্যানার্জির দাবি, তিনি সেই পথ কখনও বেছে নেননি। ২০১২ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রকাশ্যে দলের সমর্থন করে এসেছেন তিনি। ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মালদহের ইংরেজবাজার কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবেও লড়েছিলেন। নির্বাচনে হারলেও কখনও দল বদল করেননি বা অন্য রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেননি বলেই দাবি অভিনেতার। বরং দীর্ঘ সময় কাজ না পাওয়া, আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপ নিয়েও নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সুমন ব্যানার্জি অকপটে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি টলিউডে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়েছেন। অভিনেতার দাবি, শুধু তিনি নন, তাঁর পুরো পরিবার সেই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। কাজ কমে যাওয়ার ফলে সংসারে আর্থিক চাপ বাড়তে থাকে। রাতের পর রাত ঘুমহীন কেটেছে, ডিপ্রেশন, হতাশা এবং কান্নার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু সেই লড়াই তিনি একা করেননি। তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানও একই যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। সুমনের কথায়, “সেই খিদেটা আমি একা ভোগ করিনি। আমার বউ ছেলে ভোগ করেছে। সেই ডিপ্রেশন, সেই ফ্রাস্ট্রেশন, সেই রাত জাগা, সেই কান্না আমি একা করিনি। আমার পরিবারও করেছে।”

অভিনেতা আরও বলেন, এতদিন তিনি নিজের কষ্ট নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে ‘কাজ পাচ্ছি না’ বলে কান্নাকাটি করা তাঁর স্বভাবে ছিল না। কিন্তু এখন তিনি খোলাখুলি বলছেন কারণ তাঁর আর ভয় নেই। সুমনের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য যদি তাঁকে কাজ হারাতে হয়, তাহলেও তিনি নিজের অবস্থান বদল করতেন না। কারণ সেটাই তাঁর শিক্ষা এবং বেড়ে ওঠার অংশ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভয়ে পেয়ে শিরদাঁড়া বিক্রি করিনি।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজনীতিতে আসার পেছনে কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না। তিনি কোনও সুবিধা পাওয়ার জন্য দল করেননি, তাই সুবিধার জন্য অন্য দলেও যাননি।

সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সুমন ব্যানার্জি। তিনি দাবি করেন, আগে বাংলার রাস্তাঘাটে যে অশান্ত পরিবেশ ছিল এখন তা অনেকটাই বদলেছে। সেই প্রসঙ্গে তিনি ‘দিদিমণির দেওয়া দেড় হাজার টাকা’ মন্তব্যও করেন, যা স্পষ্টভাবেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলা। সুমনের দাবি, আগে কিছু মানুষ সরকারি অনুদানের টাকা পেয়ে সারাদিন মদ-জুয়ায় সময় কাটাতেন এবং রাতে রাস্তায় অশান্তি করতেন। এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে বলে তাঁর দাবি। অভিনেতার কথায়, “মানুষ এখন কাজে যাচ্ছে, শান্তিমতো বাড়ি ফিরছে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। বাংলায় একটা অদ্ভুত শান্তির পরিবেশ এসেছে।” একইসঙ্গে টলিউডের কাজের পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাজ দেওয়া হত এবং ইন্ডাস্ট্রির ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “ওই টাকা ফেরত দেওয়া যাবে না” নিজে ভয় দেখিয়ে, উল্টে প্রা’ণনাশের হু’মকির মিথ্যে অভিযোগ সোহম চক্রবর্তীর? ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম পারিশ্রমিক নিয়েও কাজে না! প্রতা’রণা ও হু’মকির অভিযোগে, তৃণমূল নেতা-অভিনেতার বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হলেন প্রযোজক!

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী সুমন ব্যানার্জি। তাঁর বিশ্বাস, এখন থেকে শিল্পীরা রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাবেন। বিজেপি সরকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলেও দাবি করেন তিনি। অভিনেতার মতে, ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনার দায়িত্ব শিল্পী, পরিচালক ও টেকনিশিয়ানদের হাতেই থাকা উচিত। তিনি চান বাংলা সিনেমা ও সংস্কৃতি আবার আগের গৌরব ফিরে পাক। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরেও নিজের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও না সরা সুমন ব্যানার্জির বক্তব্য এখন রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page