“ঘাড়ে অসহ্য য’ন্ত্রণা….টলতে টলতে গাড়িতে উঠতাম” কী ঘটেছিল অভিনেতার জীবনে? কোন সেই অভিজ্ঞতার কথা, এতদিন বাদে অকপটে জানালেন অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়?

বাংলা চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের জগতে শিশুশিল্পী থেকে পূর্ণাঙ্গ নায়ক হয়ে ওঠার উদাহরণ খুব বেশি নেই। সেই বিরল তালিকায় অন্যতম নাম অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। ছোটবেলাতেই অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয়, ১৯৬৭ সালে ‘প্রস্তর সাক্ষর’ ছবিতে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। সেই ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন অরিন্দম। এরপর ধীরে ধীরে বাংলা সিনেমা ও মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। একাধিক ছবিতে অভিনয়, পেশাদার রঙ্গমঞ্চে কাজ এবং নায়কের চরিত্রে সাফল্য সব মিলিয়ে দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন এই অভিনেতা। তবে দর্শকদের কাছে আজও তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‘হংসরাজ’ নামেই।

অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছোটবেলা থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো। সিনেমার পাশাপাশি থিয়েটারেও সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলা বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রভিত্তিক কাজেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে জীবনের অন্যতম বড় মোড় আসে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। এই ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে এতটাই গভীর ছাপ ফেলেছিল যে, পর্দার চরিত্র আর বাস্তবের মানুষকে অনেকেই একসঙ্গে মিলিয়ে দেখতে শুরু করেছিলেন। অরিন্দম নিজেও একাধিকবার বলেছেন, এই চরিত্র তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন এবং গভীর অভিজ্ঞতার কাজ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা। তিনি জানান, প্রায় আট বছর ধরে তিনি এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে একই আধ্যাত্মিক চরিত্রে নিজেকে ধরে রাখা তাঁর কাছে সহজ ছিল না। অরিন্দমের কথায়, “১০ বছর ‘বামাক্ষ্যাপা’ চলেছে, তার মধ্যে আট বছর আমি করেছি। চরিত্রটা করতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে।” অভিনেতা বলেন, এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যখনই তিনি মেকআপ নিতেন, তখন থেকেই তাঁর মধ্যে এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করত। যেন সাধারণ বাস্তবতার বাইরে অন্য এক জগতে তিনি ঢুকে পড়ছেন।

অরিন্দম আরও জানান, ‘বামাক্ষ্যাপা’র সাজ নেওয়ার পর তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে এক বিশেষ চাপ অনুভব করতেন। তাঁর কথায়, আধ্যাত্মিক জগতের মানুষেরা যে অনুভূতির মধ্যে থাকেন, সেই অনুভূতির কিছুটা যেন তাঁর মধ্যেও চলে আসত। অভিনেতা বলেন, “মেকআপটা করলেই একটা অদ্ভুত অনুভূতি হতো। মনে হতো অন্যরকম একটা শক্তি কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, শুটিং চলাকালীন তাঁর শরীরে প্রবল যন্ত্রণা হতো। বিশেষ করে মাথার একটি অংশে তীব্র চাপ অনুভব করতেন। সেই যন্ত্রণা এতটাই বেশি ছিল যে, দিনের শুটিং শেষ হওয়ার পর তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারতেন না। অরিন্দমের কথায়, “প্রতিদিন শুটিং শেষে আমি টলতে টলতে গাড়িতে উঠতাম।” দীর্ঘদিন ধরে এমন শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যেই তাঁকে কাজ করতে হয়েছে বলে জানান অভিনেতা।

আরও পড়ুনঃ “শুভেন্দু অধিকারী তো মেদিনীপুরের ছেলে…” হঠাৎ বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বড় মন্তব্য দেবের! অভিনেতার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জোর চর্চা!

তবে এত কষ্টের মধ্যেও ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ চরিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে। এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। দর্শক শুধু তাঁকে অভিনেতা হিসেবে নয়, এক আধ্যাত্মিক চরিত্রের প্রতীক হিসেবেও দেখতে শুরু করেছিলেন। বাংলা অভিনয়জগতের এই বর্ষীয়ান শিল্পীর অভিজ্ঞতা তাই শুধুই অভিনয়ের গল্প নয়, বরং এক শিল্পীর চরিত্রের সঙ্গে আত্মিকভাবে মিশে যাওয়ার এক বিরল অধ্যায়ও বটে।

You cannot copy content of this page