সিনেমার পর্দায় রহস্য, খুন আর থ্রিলার দেখতেই ভালোবাসেন দর্শক। কিন্তু সেই ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য যদি সাধারণ মানুষ শুটিংয়ের সময়ই সামনে দাঁড়িয়ে দেখে ফেলেন, তাহলে আর রহস্য কোথায় থাকে? ঠিক এমনই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা এবার শেয়ার করলেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশন এবং সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত এই অভিনেতা নানা ধরনের কাজের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি একসময় সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সেই সময় বহু সিনেমার স্ক্রিনিং দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। আর সেই অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমে থাকা এক মজার ঘটনার কথাই এবার প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, একটি মার্ডার মিস্ট্রি ছবির স্ক্রিনিং দেখতে গিয়েই এমন দৃশ্য দেখেছিলেন, যা দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়ে যান।
ভাস্বর জানান, ছবিটি ছিল খুনের রহস্যকে কেন্দ্র করে তৈরি। কিন্তু ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যেই ঘটে যায় অদ্ভুত ঘটনা। অভিনেতার কথায়, “একটা ছবি দেখতে বসেছি, মার্ডার মিস্ট্রি। গল্প, অভিনয়, ডিরেকশন-এর দিকে যাচ্ছি না। যত কম বলব ততই ভালো।” এরপরেই তিনি সেই দৃশ্যের বর্ণনা দেন যা দেখে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ভাস্বর বলেন, “ছবির আসল দৃশ্য যেখানে এক প্রধান চরিত্র খুন হচ্ছে সেটা দেখে চক্ষু চড়কগাছ। ভিলেন পেটে ছুরি মারছে আর কয়েক হাত দূরে গাদা গাদা লোক দাঁড়িয়ে। কেউ আবার ‘ওই দেখ শুটিং হচ্ছে’ বলে চেঁচাচ্ছে।” তাঁর কথায়, সিনেমার সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আশপাশে এত মানুষের উপস্থিতি দেখে পুরো রহস্যের আবহটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
সাধারণত খোলা জায়গায় শুটিং হলে আশপাশের মানুষ ভিড় করেন, সেটাই স্বাভাবিক। বহু সময় এলাকার মানুষ শুটিং দেখতে দাঁড়িয়ে থাকেন বা শিল্পীদের একঝলক দেখার জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু কোনও মার্ডার মিস্ট্রি ছবির মূল দৃশ্য যদি শুটিংয়ের সময় এত লোকের সামনে হয়ে যায়, তাহলে ছবির চমক কতটা বজায় থাকে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন ভাস্বর। তাঁর মতে, দর্শক যদি আগেই দেখে ফেলেন কে খুন হচ্ছে বা কীভাবে ঘটনা ঘটছে, তাহলে সিনেমা হলে গিয়ে আর সেই রহস্যের আলাদা আকর্ষণ থাকে না। এই কারণেই স্ক্রিনিংয়ের পর পরিচালককে ডেকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন অভিনেতা। কারণ, ছবির গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল সেই খুনের দৃশ্য।
পরিচালকের সঙ্গে সেই কথোপকথনের প্রসঙ্গও বিস্তারিত জানিয়েছেন ভাস্বর। অভিনেতার কথায়, “জিজ্ঞেস করলাম ওরকম একটা দৃশ্য যেটাকে কেন্দ্র করে ছবির গল্প, সেখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে এত লোক? সবাই যদি দেখেই ফেলে খুন হচ্ছে তা হলে রহস্য আর কী থাকল?” এই প্রশ্ন শুনে পরিচালক যে উত্তর দিয়েছিলেন, সেটাই নাকি পুরো ঘটনার সবচেয়ে মজার অংশ। ভাস্বর বলেন, “ভদ্রলোক শুকনো মুখে বললেন, কেউ সরল না জানেন। কত অনুরোধ করলাম। বলল, আমাদের শুটিং দেখতে দিতেই হবে।” অর্থাৎ, এলাকার মানুষ শুটিং দেখার জন্য এতটাই উৎসাহী ছিলেন যে কাউকে সরানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই সেই পরিস্থিতির মধ্যেই শুটিং চালিয়ে যেতে হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ যে ‘ইন্দিরা ঠাকুরণ’ খুঁজে পাননি সত্যজিৎ রায়, সেই চরিত্র ফিরিয়ে আনতে এক পুরুষকেই নারী সাজালেন অনীক দত্ত! ‘অপরাজিত’-এর নেপথ্যের এই গল্প জানলে চমকে যাবেন!
এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়েই ভাস্বর বুঝিয়ে দেন, সিনেমা তৈরির পিছনে শুধু ক্যামেরা আর অভিনয় নয়, নানা ধরনের বাস্তব সমস্যাও থাকে। অনেক সময় শুটিং স্পটে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় কাজ করার সময় সাধারণ মানুষের আগ্রহ সামলানো বেশ চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়ায়। ভাস্বরের মতে, সেই ছবির ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছিল। ফলে ছবির সবচেয়ে বড় রহস্যের অংশটাই অনেকের সামনে আগেভাগে প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও ঘটনাটি এখন অভিনেতার কাছে মজার স্মৃতি হিসেবেই রয়ে গেছে। আর সেই অভিজ্ঞতার গল্পই এখন নতুন করে চর্চায় এসেছে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিনোদন মহলে।






