বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী (Tota Roy Choudhury) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নানান সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। নিট পরীক্ষাকে ঘিরে ছাত্র আন্দোলন, শিল্পীদের সামাজিক দায়িত্ব, সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে যেমন ছাত্রদের প্রতি সমর্থনের কথা উঠে এসেছে, তেমনই শিল্পীদের নিরপেক্ষ থাকা নিয়েও নিজের ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, সম্প্রতি নিট ইস্যুতে অভিনেতা জিৎ ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর মত কী। উত্তরে টোটা বলেন, “যে কোনও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ ছাত্রদের সমর্থন করবেন। আবার আমরা দেখেছি বহু মানুষ এই ছাত্র আন্দোলনকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করেছেন, সমস্যার সৃষ্টি করেছেন। প্রকৃত ছাত্রদের দাবি আমি সমর্থন করি। এটা বেসিক ফান্ডামেন্টাল দাবি। প্রকৃত ছাত্রদের পরিষ্কার হিসেব, যে আমি আমার মেধার পরিচয় দেওয়ার জন্য একটি স্বচ্ছ ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষামূলক বৃত্তির মধ্যে যেন বসতে পারি।” তিনি আরও বলেন, “বেশ কয়েকটা কম্পিটিটিভ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছে। একই সময়ে ছাত্রদের হয়ে অনেকে অনেক কিছু দাবি করছেন, যেটা হয়তো ছাত্রদের নয়।”
এই প্রসঙ্গেই টোটা বলেন, অনেক পরিচিত মানুষ জনতার নানা সমস্যার সময় মুখ খোলেন না। তাঁর ভাষায়, “অনেককে দেখেছি এই ইস্যুতে নীরব। তাঁরা ছবি মুক্তির সময় বলেন জনতাই সব, অথচ জনতার ইস্যুতে নিশ্চুপ। সারা পৃথিবীতে দেখেছ, এখন কেউ আওয়াজ তুললে তাকে কীভাবে দমিয়ে রাখা হয়! বিশেষ করে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যদি আওয়াজ তোলেন তাঁকে কীভাবে দমন করতে হয় সেটা শক্তিধরদের সিদ্ধহস্ত। অনেকেই ভাবে, এটা তো আমার জীবিকা। আমার পেটে যদি অন্ন না পড়ে আমার হয়ে কে লড়বে। এটা তাঁদের ভীরুতা নয়, সারভাইভাল ইন্সটিংক্ট। আমাদের মতো নির্বোধরা মুখ খুলি।” তাঁর মতে, অনেকেই কাজ হারানোর আশঙ্কায় নিজের মত প্রকাশ করতে চান না।
শিল্পীদের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত কি না, এই প্রশ্নের জবাবেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিনেতা। টোটার কথায়, “আমার কাছে শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তার নিরপেক্ষতা। কিন্তু শিল্পী তো সমাজেরই একটা অংশ। আশেপাশে যদি অন্যায় ঘটে আমি তো অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র হয়ে থাকতে পারি না। আমার কাজ শিল্পী হিসাবে সব বিশ্বাসের মানুষকে একত্রিত করা, বিভাজিত করা নয়। রাজনীতি কিন্তু বিভাজন করে।” অর্থাৎ তিনি মনে করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিল্পীদের কথা বলা প্রয়োজন হলেও রাজনৈতিক বিভাজনের অংশ হয়ে ওঠা উচিত নয়।
আরও পড়ুনঃ কেন বারবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে শ্রীলেখা মিত্র? অভিনেত্রীর এক বো’মা ফাটানো ভিডিও ঘিরেই তোলপাড় হয়েছিল গোটা টলিউড! সেই ভিডিও নিয়ে আজও থামেনি চর্চা, কী এমন করেছিলেন তিনি?
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল নিয়েও মত প্রকাশ করেন টোটা রায়চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, “পালাবদলটা তো রাজনৈতিক। যে কোনও পরিবর্তনের পর অন্তত এক হাজার দিন দিতে হয়। না হলে আমরা বুঝতে পারব না, সঠিক হয়েছে, কি হয়নি। আরও কয়েকশো দিন দেখি তারপরে বলতে পারব।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে আমরা যে ভুল করে যাচ্ছি, যে একটা সার্বিক রাজনীতিকরণ হয়েছে, এতে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হয়েছে। মানুষজন আমাদের আর সেইরকম সিরিয়াসলি নেয় না। যে এরা তো রাজনীতি করে, অভিনয়টা কখন করে! এরকম কথা আমাকে বহুবার শুনতে হয়েছে। আশা করি সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।” তাঁর মতে, শিল্পীদের মূল পরিচয় যেন তাঁদের কাজই থাকে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






