ছাত্র আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা তুঙ্গে। অনেকেই এই ঘটনাকে আন্দোলনের বড় সাফল্য বলে মনে করছেন। ঠিক এই আবহেই মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায় (Subhadra Mukherjee)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি কেন্দ্র সরকার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তীব্র মন্তব্য করেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেন। এর আগেও কঠিন ব্যক্তিগত সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথাও অভিনেত্রী ভাগ করে নিয়েছিলেন। এবারও তাঁর বক্তব্যে উঠে এল মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি একই আস্থা ও সমর্থনের ছবি।
আন্দোলনের জমায়েত এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুভদ্রা মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিন্দু বিন্দু করে তো সিন্ধু হয়, আজকে রাস্তায় জমায়েত হবে, ওরা ভেবেছিল বোধহয় কিছু জমায়েত হবে না। সেই জন্য অনুমতি প্রথমে দিয়েছিল। তারপর মনে পড়ল, না, না ভুল হচ্ছে, অনুমতি দেওয়াটা। তারপর আটকে দিয়েছে। কিছু আটকাচ্ছে কি? কিছু আটকায় না। সবকিছু চুরি করে নিতে পারি, কিন্তু মন চুরি করাটা একমাত্র মমতা ব্যানার্জী পারেন। আর কেউ পারবে না। সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই সম্ভব।” তাঁর দাবি, মানুষের সমর্থনকে কোনওভাবেই আটকানো যায় না এবং জনমতের শক্তিই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে ওঠে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের আগেই শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী আরও বলেন, “ভয়ে, এই একমাত্র একজন যাঁকে ভয় পায়। ওয়ার্ল্ডের পেপার নিউজ টাইম, সেই নিউজ টাইমে সেখানে কিন্তু ১৭ নম্বরে মমতা ব্যানার্জীর নাম আছে। আর কারোর কিন্তু নাম নেই। একজন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নাম ওখানে আছে, বোধহয় মোদির নাম আরও পরে আছে। নিজেই বুঝতে পারছেন? কে, কোথায় দাঁড়িয়ে আছে! কেন ভয় পাওয়ার কারণ! একজন মানুষ যদি দাঁড়ান, আজ ২১শের মঞ্চ তো দেখিয়ে দিয়েছে ভোটটা কি হয়েছে? সেটা ২১শের মঞ্চ দেখিয়ে দিয়েছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই তিনি নিজের মত প্রকাশ করেছেন।
এরপর রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিরোধী রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “২ মাস হয়েছে সরকার হয়েছে। আপনারা বলুন না, ভালো আছেন? পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বলুক, ভালো আছে? দেখুন না, যা যা বলেছিল বক্তব্য সেগুলো কি হয়েছে? একটা কথাই বলব আপনাকে সত্যি কথা বলতে দেওয়া যাবে না। আপনি কোনও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না। এরা যখন বিরোধী পার্টি ছিল কি বলছিল? যে বিরোধী শূন্য করে দিয়েছে। আজ ওনারা বিরোধী শূন্য করতে চাইছেন। ওঁনাদের কিসের ভয়? এত মানুষ যে জড়ো হয়েছে কিসের ভয়? জড়ো হোক না। মানে বিরোধী থাকবে না? যা পারবেন ওঁনারা তাই করবেন?” তাঁর মতে, গণতন্ত্রে বিরোধী মতের উপস্থিতি থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে বিজেপি এবং ধর্মীয় রাজনীতি নিয়েও সরব হন সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এতদিন ধরে ভারতবর্ষকে লুট করছে…পশ্চিমবাংলাকে লুট করার জন্য উঠে পরে ছিল! পশ্চিমবাংলায় ঢুকেছে, পশ্চিমবাংলা লুট করবে! ওঁদের তো আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে লুট করা। দেখুন না নাহলে কেউ মন্দির…সনাতন ধর্ম এবং হিন্দু ধর্মের প্রতীক ওঁরা। সেখানে ওঁরা নাকি মন্দিরের টাকাই লুট করছে। এবার ভেবে দেখুন! আর কি বলব? ভগবান পরিচয় দিয়ে দিচ্ছে, যে দেখ এরা আমার টাকা চুরি করছে তোদের কি করবে এবার ভাব!” এই মন্তব্য ঘিরেও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘মোহন’ থেকে ‘পরান’! বাবার দেওয়া সেই স্নেহভরা নাম বদলে গিয়েছিল কীভাবে? সেই আবেগঘন অজানা গল্প নিজেই শোনালেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়!
সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়ের এই ধারাবাহিক মন্তব্য সামনে আসার পর তা নিয়ে নানা মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা, ছাত্র আন্দোলন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর একাধিক বক্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘুরে বেড়াচ্ছে। একদিকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে তাঁর এই সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।






