ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী গীতশ্রী রায়কে বহু দর্শক আজও ‘রাশি তার নাম’ ধারাবাহিকের রাশি হিসেবেই মনে রাখেন। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘শুভ বিবাহ’ ধারাবাহিকে। তবে এবার অভিনয়ের বাইরে তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায় সামনে এসেছে। সমাজমাধ্যমে অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক কিছু ছবি এবং পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সাদা জামদানি শাড়ি, গলায় গাঁদার মালা এবং মুখে প্রশান্ত হাসি নিয়ে একগুচ্ছ ছবি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সেই ছবিগুলিতে সার্টিফিকেট হাতে সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে গীতশ্রীকে। আর তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, অভিনয়ের পাশাপাশি কি এবার যোগগুরুর ভূমিকাতেও দেখা যাবে তাঁকে? অভিনেত্রীর পোস্টে মিলেছে সেই ইঙ্গিতই। নতুন এই যাত্রা নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। সার্টিফিকেট হাতে ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “আজ থেকে আমি গর্বের সঙ্গে নিজেকে একজন যোগগুরু বলতে পারি। তবে এই যাত্রাটা মোটেই খুব একটা সহজ ছিল না। নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে একের পর এক ক্লাস করা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা ও অনুশীলন এগুলো যথেষ্ট কঠিন। আর এভাবেই আমাকে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে।” গীতশ্রীর কথায়, নিয়ম মেনে প্রতিদিনের অনুশীলন, পড়াশোনা এবং কঠোর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই তাঁকে এগোতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই প্রশিক্ষণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। সেই কারণেই এই অর্জন তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আরও পড়ুন: একসময় ছিলেন নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ, আজ খাবারের খোঁজে রাস্তায় পাগলের মতো ঘুরছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী! বিপর্যস্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করল পুলিশ! গ্ল্যামার হারিয়ে, রূপালি পর্দার প্রিয় মুখের ম’র্মান্তিক পরিণতি দেখে স্তম্ভিত অনুরাগীরা!
শুধু শারীরিক অনুশীলন নয়, জীবনযাত্রাতেও বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে বদল আনা ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রসঙ্গে গীতশ্রী লিখেছেন, “খাবার নিয়ে কী আর বলব! একজন বাঙালি হিসেবে পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক খাবারে অভ্যস্ত হওয়াটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও আমি সবকিছু আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করেছি। কারণ একটাই, নিজের লক্ষ্যে পৌঁছনো যেটার প্রতি আমার বহুদিনের অমোঘ আকর্ষণ।” বাঙালির পরিচিত খাবারের তালিকা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে যেমন অভিনেতাদের কঠোর প্রস্তুতি নিতে হয়, ঠিক তেমনভাবেই এই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও নিজেকে তৈরি করেছেন গীতশ্রী।
জানা গিয়েছে, ধারাবাহিকের কাজ শেষ হওয়ার পর যোগশিক্ষক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে হৃষিকেশে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেখানে প্রায় পঁচিশ দিন কাটিয়েছেন তিনি। এই সময় আমিষ খাবার ছেড়ে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে গীতশ্রী লিখেছেন, “অসাধারণ বন্ধুর সঙ্গ পেয়েছি এবং অত্যন্ত জ্ঞানী ও অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষকদের কাছ থেকে শেখার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিটি মুহূর্ত এই যাত্রাকে করে তুলেছে সুন্দর ও স্মরণীয়। আজ আমি শুধু একটি সার্টিফিকেট নিয়েই ফিরছি না সঙ্গে নিয়ে ফিরছি অগণিত স্মৃতি, অনেক শিক্ষা এবং অফুরন্ত কৃতজ্ঞতা।” তাঁর মতে, এই সফর শুধু একটি কোর্স সম্পূর্ণ করার অভিজ্ঞতা নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারেরও সুযোগ এনে দিয়েছে।
তবে গীতশ্রী স্পষ্ট করেছেন, এই অর্জনই তাঁর পথচলার শেষ নয়। বরং যোগ ও আধ্যাত্মিকতার জগতে তাঁর যাত্রা এখনই শুরু হয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “এটাই শেষ নয়, যোগ ও আধ্যাত্মিকতার পথে আমার ব্যক্তিগত যাত্রা তো সবে শুরু। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা জানার জন্য ভীষণ উৎসুক।” অভিনেত্রীর এই নতুন পরিচয় এবং জীবনধারা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে অনুরাগীদের। অনেকেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি এই নতুন পথেও তিনি কতটা সফল হন, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে ভক্তদের।






