বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি কোন শিবিরে রয়েছেন, তা নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে দীর্ঘ একটি ফেসবুক পোস্ট করে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও গায়ক-রাজনীতিবিদ বাবুল সুপ্রিয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন। একইসঙ্গে যাঁরা একসময় তৃণমূলের কাছাকাছি থেকে সুবিধা নিয়েছেন অথচ এখন অন্য পথে হাঁটছেন, তাঁদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বাবুলের বক্তব্য, অনেকেই এমন ছিলেন যারা কাজ আদায়ের জন্য নেত্রীর “চটি চাটতে” পর্যন্ত প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু আজ তারাই সুযোগ বুঝে অবস্থান বদলাচ্ছেন। তাঁর মতে, সুদিনে নয়, দুর্দিনেই মানুষের প্রকৃত অবস্থান বোঝা যায়।
পোস্টে নিজের রাজনৈতিক যাত্রার নানা অধ্যায়ের কথাও তুলে ধরেছেন বাবুল। তিনি জানান, মাত্র ২২ বছর বয়সে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের নিরাপদ চাকরি ছেড়ে সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। পরে রাজনীতিতে এলেও গানকে কখনও ছেড়ে দেননি। এমনকি শেষ লোকসভা নির্বাচনের সময়ও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে পুরোপুরি গানের জগতে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে বিজেপিতে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায় আচরণ করা হয়েছিল। সেই সময় তিনি রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছিলেন এবং সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
বাবুল জানিয়েছেন, ঠিক সেই সময়েই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন পুরনো বন্ধু ডেরেক ও’ব্রায়েন। ডেরেক তাঁকে জানান, বাংলার উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে যে কাজ তিনি করেছিলেন, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে এসেছে। এরপর তাঁকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। গান গাওয়ার স্বাধীনতা বজায় থাকবে, এই আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। পোস্টে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিখ্যাত ঝালমুড়ি আড্ডার কথাও উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের রুট পরিবর্তন ও তার জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি।
আসানসোলে সাংসদ থাকাকালীন সময়ের কিছু অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন বাবুল। তাঁর অভিযোগ, সে সময় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বারবার তাঁর কাজে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। অথচ পরবর্তীকালে সেই ব্যক্তিদেরই অন্য রাজনৈতিক দলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাগুলো তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল বলেও জানান তিনি। সেই আবেগ থেকেই তিনি একসময় “এই তৃণমূল আর না” গানটি তৈরি করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তবে একইসঙ্গে তিনি এটাও জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও বহু বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত ভালো। উদাহরণ হিসেবে তিনি দিলীপ ঘোষের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি একবার তাঁর প্রবীণ বাবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক আচরণ করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ভালোবেসে বেঁধেছিলেন ঘর, তবুও মাত্র ৪ বছরের মাথায় ভাঙে সম্পর্ক! একসময় ছিলেন টলিপাড়ার চর্চিত দম্পতি, কেন সুখের হয়নি রাজেশ শর্মার সঙ্গে দাম্পত্য? সুদীপ্তা চক্রবর্তীর প্রথম সংসারের অজানা অধ্যায় জানেন?
পোস্টের শেষ অংশে বাবুল স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনও তদন্তকারী সংস্থা বা আইনি প্রক্রিয়াকে ভয় পান না, কারণ তাঁর দাবি, তিনি কখনও বেআইনি কোনও কাজ করেননি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। সবশেষে ট্রোলারদের উদ্দেশে খানিক রসিকতার সুরে বাবুল জানান, এই পোস্টে কাউকে মন্তব্য করার সুযোগ দিচ্ছেন না। বরং আপাতত নিজের মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপই মুছে ফেলছেন। তাঁর টিম শুধুমাত্র গান সংক্রান্ত পোস্ট করবে। নিজের এই দীর্ঘ বার্তার সমস্ত দায়িত্বও তিনি নিজেই নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।






