“আমি আর চুপ করে থাকব না…” বিজেপিকে ‘চাড্ডি’ বলায় রেগে তেড়ে এলেন কাঞ্চনা মৈত্র, মুখ খুলতেই পড়লেন বিপাকে! কড়া জবাব দিতেই উল্টে নেটপাড়ার হাসির খোরাক অভিনেত্রী, প্রতিবাদ করতে গিয়ে এমন কী করলেন যে উঠল সমালোচনার ঝড়? জড়ালেন বড়সড় বিতর্কে?

অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র একসময় অভিনয়ের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ১৮ জুলাই তিনি দিল্লিতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। সেই সময় পার্নো মিত্র, রূপাঞ্জনা মিত্র এবং ঋষি কৌশিকের মতো টলিউডের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখও একই দলে নাম লেখান। কয়েক বছর সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলেও পরে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান সবাই। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাঞ্চনা (Kanchana Moitra) নিজেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। সে সময় তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও একটি পোস্ট করে দল এবং রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

যদিও সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, বর্তমানে সমাজমাধ্যমে আবারও ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থনে সরব হতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীকে। সম্প্রতি নিজের একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “যারা বিজেপি কর্মীদের চাড্ডি বলেন, আমাকেও বলেন, তারা আবার শিক্ষার কথাও বলেন।” তবে এই বক্তব্যের জন্য যতটা আলোচনা হয়নি, তার থেকেও বেশি আলোচনা শুরু হয় তাঁর লেখার বানান নিয়ে। কারণ বাংলা ভাষার বাক্য তিনি ইংরেজি হরফে লিখলেও সেখানে একাধিক বানানগত ভুল ছিল। আর সেই ভুল চোখে পড়তেই নেটিজেনদের একাংশ নানা ধরনের মন্তব্য করতে শুরু করেন।

একজন মন্তব্য করে লেখেন, “বিশ্বাস করুন, আপনার লেখার মানে বুঝতে আমাদের দশ মিনিট সময় লেগেছে। ‘শিকার’ দেখে অনেকক্ষণ পরে বুঝলাম, আপনি আসলে ‘শিক্ষা’ লিখতে চেয়েছিলেন।” আবার অন্য একজন লেখেন, “যারা বলেন, ঠিকই বলেন।” আরেকটি মন্তব্যে লেখা হয়, “কর্মী, বলেন, শিক্ষা এগুলোর সঠিক বানান জানাটাও খুব জরুরি। না জানলে এমন ভুল ছড়িয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক।” এমনকি একজন নিজেকে বিজেপি সমর্থক দাবি করে লিখেছেন, “আমি বিজেপির সমর্থক। কিন্তু আপনি এটা কী লিখলেন? দয়া করে মানুষকে হাসাবেন না।” ফলে পোস্টের মূল বক্তব্যের বদলে বানান নিয়েই শুরু হয় তুমুল ট্রোল।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে দল ছাড়ার সময় কাঞ্চনা মৈত্র সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “কাজ এবং পরিবারকে সময় দিতে চাই। তাই দল ও রাজনীতিকে আপাতত বিদায় জানালাম।” পরে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, দলের কাছ থেকে তিনি প্রাপ্য সম্মান পাননি। তাঁর কথায়, “আমার বারবার মনে হয়েছে, আমি দলকে যতটা নিজের মনে করেছি, দল কি আমায় ততটা নিজের মনে করেছে? পৃথিবীতে কোনও সম্পর্কই একতরফা হতে পারে না।” সেই মন্তব্য সে সময়ও যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ “স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই করার অধিকার নয়, যত্রতত্র থুতু ফেলছে, মহিলাদের সঙ্গে নোং’রামি…এরপর শুধু ‘জয় হিন্দ’ বললেই বা ১৫ আগস্ট পতাকা তুললেই দেশপ্রেম হয় না!” স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বি*স্ফোরক সুদীপ মুখার্জি! নাগরিক হিসেবে আমরা কি সত্যিই স্বাধীনতার মর্যাদা রাখতে পারছি? সমাজের মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা!

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও নিজের পছন্দের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন জানাতে সমাজমাধ্যমকেই হাতিয়ার করছেন অভিনেত্রী। সাম্প্রতিক পোস্টও তারই প্রমাণ। যদিও সেই পোস্টের বক্তব্য নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই তাঁর বানান নিয়ে রসিকতাও থামেনি। ফলে রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে করা একটি সাধারণ পোস্টও এবার নতুন করে বিতর্ক এবং ট্রোলের কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে কাঞ্চনা মৈত্রকে।

You cannot copy content of this page