“পর’কীয়া তো সুস্থতার লক্ষণ, আটকানোর কোনও প্রয়োজন নেই” বিতর্কিত মন্তব্য অপরাজিতা আঢ্যের! ‘একজন শিল্পীর মুখে এই কথা মানায়?’ ‘সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্র’ণাটা যারা ভোগ করেছে তারাই জানে’, জীবনে একবার প্রতা’রণার শি’কার হলে বুঝতেন, কথাটা কতটা অসংবেদনশীল!’ নেটিজেনদের কটাক্ষের মুখে অভিনেত্রী!

বর্তমান সময়ে সম্পর্ক, বিবাহ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে কোনও পরিচিত ব্যক্তি ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে মন্তব্য করলেই তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় বিস্তর চর্চা। প্রেম, বিবাহ, বিচ্ছেদ কিংবা পরকীয়া এই বিষয়গুলি নিয়ে মানুষের মতামত যেমন ভিন্ন, তেমনই এসব প্রসঙ্গে সেলিব্রিটিদের বক্তব্যও প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। সম্প্রতি বাংলা বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যের একটি মন্তব্য ঘিরে ঠিক তেমনই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে নেটমাধ্যমে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ অপরাজিতা আঢ্য। অভিনয় দক্ষতা এবং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি দর্শকদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সম্পর্ক এবং পরকীয়া নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। সেই সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়েই পরকীয়া প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “পরকীয়া আটকানোর কোনও প্রয়োজন নেই। কেন পরকীয়া আটকাবে? পরকীয়া সুস্থতার লক্ষণ। চিরাচরিত ছিল, রামায়ণ-মহাভারতের সময়েও ছিল পরকীয়া।” অভিনেত্রীর মতে, মানুষ মাত্রই অনুভূতিপ্রবণ এবং জীবনের কোনও এক পর্যায়ে অন্য কাউকে ভালো লাগতেই পারে। তিনি মনে করেন, বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর কোনও মানুষ আর কখনও অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারবেন না বা কারও প্রতি আকৃষ্ট হবেন না এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। মানুষের মন এবং আবেগের পরিবর্তনকে তিনি স্বাভাবিক বলেই ব্যাখ্যা করেছেন।

অপরাজিতা আরও বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সততা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের অনুভূতিকে অস্বীকার করে কোনও সামাজিক নিয়মকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাঁর এই মন্তব্যের একটি অংশই বেশি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি পরকীয়াকে সম্পূর্ণভাবে অস্বাভাবিক বলে দেখার বিরোধিতা করেন। সেই বক্তব্য ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেই তাঁর মন্তব্যের সমর্থনে মত প্রকাশ করলেও বিরোধিতার সংখ্যাও কম নয়।

আরও পড়ুনঃ ‘সুদিনে নয়, দুর্দিনেই দিদির পাশে আছি আমি!’ কাজ হাসিল করতে দিদির চটি চাটত, এখন বিদ্রোহী! দলবদলুদের নিশানায় বাবুল সুপ্রিয়, মমতার অনুগত থাকার বার্তা দিয়ে ফেসবুক ছাড়লেন গায়ক-সাংসদ!

সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রীর বক্তব্য নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের দাবি, একজন জনপ্রিয় শিল্পীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারে। কেউ কেউ কড়া ভাষায় সমালোচনা করে লিখেছেন যে, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের মানুষের বাস্তব জীবনের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, জীবন কোনও পোশাক বা পছন্দের জিনিসের মতো নয় যে ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যাবে, মানুষের চরিত্র এবং দায়বদ্ধতাই জীবনের প্রকৃত পরিচয়। আরও কিছু ব্যবহারকারী অভিনেত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এমনকি কেউ কেউ তাঁর মানসিক অবস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে কয়েকজন নেটিজেন অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট টেনে মন্তব্য করেছেন, যা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে অপরাজিতা আঢ্যের বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে এখন জোর চর্চা চলছে, আর সম্পর্ক ও পরকীয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্য নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page